শুক্রবার ৩, ডিসেম্বর ২০২১
EN

পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল নেত্রী, চিত্রনায়িকা কৌশানী জনপ্রিয়তা বাড়াতে বাংলাদেশে

রাজনীতি রাজনীতির জায়গায়, অভিনয় অভিনয়ের জায়গায়। আমি নতুন হিসেবে মানুষের মন জিতেছি। তা ছাড়া তৃণমূলের প্রধান মমতা দিদি আমাকে খুব স্নেহ করেন। এখন তো দিদির উপনির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা চলছে। আমাদের পার্টির বড় নেতারা প্রচারে আছেন। আমি থাকতে পারিনি। আমি শুটিংয়ে এসেছি, দিদি সেটা জানেন।

পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় নায়িকা কৌশানী মুখোপাধ্যায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোনো ছবিতে অভিনয় করছেন। ছবির নাম ‘পিয়া রে’। পরিচালনা করছেন পূজন মজুমদার।

কলকাতার এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী গত ২৭ সেপ্টেম্বর (সোমবার) সকালে ঢাকায় পৌঁছেছেন। এসে বিশ্রাম নিয়ে দুপুরের পর চাঁদপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। চাঁদপুরের লোকেশনে শুটিংয়ে অংশ নেবেন তিনি।

এ সিনেমায় শান্ত খানের নায়িকা হিসেবে দেখা যাবে কৌশানী মুখোপাধ্যায়কে। সিনেমাটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শাপলা মিডিয়ার হেড অব প্রোডাকশন অপূর্ব রায় জানিয়েছেন, বিমান থেকে ঢাকায় নেমেই সোজা চাঁদপুরে গেছেন কৌশানী। পুরো টিম এখন সেখানে অবস্থান করছে।

গতকাল থেকে পুরোদমে ছবিটির শুটিং চলছে।

কৌশানী বলেন, নিজের দেশ থেকে আরেক দেশে শুটিং করতে এলাম। কিন্তু মনে হচ্ছে না অন্য দেশে এসেছি। একই ভাষা, একই রকম মানুষ, একই রকম আচরণ।

পার্থক্য শুধু দেশের নামে। শুধু কৌশানী নয়, কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা রজতাভ দত্ত, খরাজ মুখার্জিও এই সিনেমায় অভিনয় করছেন।

বাংলাদেশের কাজ, রাজনীতি ও কলকাতার কাজ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন কৌশানী মুখোপাধ্যায়।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে এবারই প্রথম?

কৌশানী মুখোপাধ্যায়: না না, এর আগে ২০১৬ সালে বাংলাদেশি একটি পণ্যের বিজ্ঞাপনের শুটিং করতে এসেছিলাম। ৩ দিন ছিলাম। প্রায় ৫ বছরের মাথায় আবার এলাম।

তবে এবার প্রথম সিনেমার কাজ। অনেক দিন থেকেই বাংলাদেশের ছবিতে কাজের প্রস্তাব পাচ্ছিলাম। কিন্তু করিনি। এমন একটি কাজ দিয়েই শুরুর অপেক্ষা করছিলাম।

যে কাজ, যে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কাজ, যে পরিচালকের সঙ্গে কাজ—কাজ শুরুর আগে এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

কলকাতা শাখার এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ‘ছুটি’ ও ‘লাগ ভেলকী লাগ’ নামে দুটি ছবিতে সম্প্রতি কাজ শেষ করেছি। ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে।

তা ছাড়া বাংলাদেশের ছবিতে কাজের আগ্রহও ছিল। কারণ, আমার কাজের বাংলাদেশি দর্শকও আছেন। প্রতিদিনই বাংলাদেশি ভক্তরা প্রচুর এসএমএস, মেইল পাঠান।

ছোটখাটো আমার একটি ফ্যান ক্লাবও আছে এখানে। বাংলাদেশের ছবিতে কাজ করতে তাঁদেরও দাবি ছিল।

প্রশ্ন: আপনার প্রস্তুতি কেমন?

কৌশানী মুখোপাধ্যায়: ছবির গল্প আগেই জেনেছি। ছবির নাম দেখলেই তো বোঝা যায়, এটি রোমান্টিক ছবি। আগামী কালীপূজায় কলকাতায় আমার একটি ছবি মুক্তি পাবে। সেই ছবির শুটিং থেকেই এখানে এলাম।

কিছুটা তাড়াহুড়া করেই আসা। কাল থেকে শুটিং। আজকের দিনটা পাচ্ছি। শুটিংয়ের আগে সবকিছুই বুঝে নেব।

প্রশ্ন: কলকাতায় ফিরবেন কবে?
কৌশানী মুখোপাধ্যায়:
৬-৭ দিন পর। এখন তো পূজা শুরু হয়েছে। ওখানে কিছু বিজ্ঞাপনের শুটিং ও পূজার প্যান্ডেলের উদ্বোধন করব। পূজা শেষ হওয়ার পর শেষ লটের কাজ করতে আবার আসব বাংলাদেশে।

প্রশ্ন: কোথাও ঘুরবেন না?

কৌশানী মুখোপাধ্যায়: আমার শুটিং চাঁদপুরে। তবে সত্যিই যদি পরিচালক ও প্রযোজক আমাকে ছুটি দেন, তাহলে আমার কিছু প্রিয় জায়গায় ঘুরতে যাব। এখানে কিছু বন্ধুবান্ধবও হয়েছে। সেবার এসে রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়েছিলাম।

যদিও এবার ডায়েটে আছি, তারপরও অল্প অল্প করে কিছু খাবার খেতে চাই। বিশেষ করে ইলিশ।

এ ছাড়া শপিং করারও ইচ্ছা আছে। যদিও চাঁদপুরে শুটিং, সময় হবে কি না, জানি না। তারপরও ফেরার আগের দিন চেষ্টা করব।

প্রশ্ন: ইলিশ নিয়ে যাবেন না?

কৌশানী মুখোপাধ্যায়: প্রযোজকের কাছে দাবি করেছি, ফেরার সময় যেন আমাকে অনেকগুলো ইলিশ মাছ দেওয়া হয় (হাসি)। আমরা তো বাজার থেকে ইলিশ কিনে খাই।

কিন্তু ওই ইলিশের জন্ম তো চাঁদপুরেই। টাটকা ইলিশ পাওয়া যাবে। আমার বাবা-মাকেও ইলিশের কথা বলে এসেছি। তাঁরা অপেক্ষা করছেন।

প্রশ্ন: আপনি রাজনীতিও করেন। অভিনয় করে রাজনীতি করার সময় পান কখন?

কৌশানী মুখোপাধ্যায়: দেখুন, রাজনীতি রাজনীতির জায়গায়, অভিনয় অভিনয়ের জায়গায়। আমি কিন্তু আগে রাজনীতির ‘অ’-ও জানতাম না। এখন আমার রক্তে মিশে গেছে।

গত নির্বাচনে ৩৫ হাজার ভোটে আমি হেরেছি। কিন্তু ওই আসনে গত ৫ বছরে প্রায় ৫৫ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল।

আমি নতুন হিসেবে মানুষের মন জিতেছি। তা ছাড়া দলের প্রধান মমতা দিদি আমাকে খুব স্নেহ করেন। আমি যখন শুটিংয়ে থাকি, দিদি সেটা বুঝতে পারেন।

এখন তো দিদির উপনির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা চলছে। আমাদের পার্টির বড় নেতারা প্রচারে আছেন। আমি থাকতে পারিনি। আমি শুটিংয়ে এসেছি, দিদি সেটা জানেন।

প্রশ্ন: কলকাতার একটি পত্রিকায় এসেছে, বাংলাদেশের জয়া আহসান, মিথিলা, বাঁধনদের কলকাতায় কাজ নিয়ে সেখানকার কোনো কোনো তারকার মধ্যে চাপা ক্ষোভ আছে।

কৌশানী মুখোপাধ্যায়: আমিও তো বাংলাদেশে কাজ করছি। এখানে আমি যথেষ্ট সম্মান পাচ্ছি, মর্যাদা পাচ্ছি। এ কারণেই কাজ করতে এসেছি।

আমি নিজেই জয়া দিদির কাজের ভক্ত। ওখানে জয়া দিদি ভালো কাজ করেন তো সমস্যা কী? কাজ তো কাজই। ইন্ডাস্ট্রিতে মেধাবীদের খুঁজে পাওয়া তো সম্মানের।

আর সেটা কলকাতার হোক বা ঢাকার, সমস্যা কী? আমরা তো অভিনয় করি। একই পরিবারে মতো। এই রেষারেষি মধ্যে আমি কিন্তু নেই।

কয়েকটি ইভেন্টে গিয়ে জয়া দিদির সঙ্গে আমার দেখাও হয়েছে। তাঁরা যখন কলকাতায় ভালো কাজ করেন, আমার ভালো লাগে। আগামী দিনে জয়া দিদির সঙ্গে কাজ করতে পারলে আমি নিজেও খুশি হব।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের সিনেমা দেখা হয়?

কৌশানী মুখোপাধ্যায়: না, ওইভাবে আমার দেখা হয়নি। তবে ‘আগস্ট ১৯৭৫’ সিনেমাটি দেখেছি। এর বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে মাঝেমধ্যে বাংলাদেশের ছবির কিছু ভিডিও ফুটেজ দেখা হয়।

তবে এখন যেহেতু বাংলাদেশের ছবিতে কাজ করছি, এখন তো দেখতেই হবে।

ফেরার সময় যেন আমাকে অনেকগুলো ইলিশ মাছ দেওয়া হয়।

প্রশ্ন: আপনি এ পর্যন্ত যতগুলো ছবিতে কাজ করেছেন, বেশির ভাগই সহশিল্পী বনি। তাঁর সঙ্গে কাজ করতে কি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?

কৌশানী মুখোপাধ্যায়: না না, একদমই তা না। কাজের জায়গা পুরোপুরি আলাদা, ব্যক্তিগত সম্পর্ক আলাদা। আমার তো চলচ্চিত্রে বয়স খুব বেশি দিনের না।

সোহমের সঙ্গে আমার তিনটি ছবিতে কাজ হয়েছে। এ ছাড়া দেব, অঙ্কুশের সঙ্গেও কাজ করেছি। সবার সঙ্গেই কাজ করতে চাই। সবার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে কাজ করতে চাই।

বনি-কৌশানী জুটিকে দর্শকের পছন্দ থাকতেই পারে। তা ছাড়া ইন্ডাস্ট্রিতে আছেনই ৫-৬ জন হিরো। কার সঙ্গে বাছবিচার করে কাজ করব বলুন তো!

প্রশ্ন: একটি সাক্ষাৎকারে বনি বলেছিলেন, আপনার সঙ্গে প্রেমের আগে আরও প্রায় ৪০ জন মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক হয়েছিল তাঁর। আপনি কি এটি জানতেন?

কৌশানী মুখোপাধ্যায়: হ্যাঁ হ্যাঁ জানি, সব শুনেছি। এতে আমার একদমই সমস্যা নেই। কারণ, আমার সঙ্গে সম্পর্ক হওয়ার আগের ঘটনা এটি। এখন তো বনির সঙ্গে অন্য মেয়ের সম্পর্ক নেই, এটাই বড় কথা।

প্রশ্ন: শোনা গিয়েছিল, ২০২১ সালে বনিকে বিয়ে করবেন। বছর তো চলে যাচ্ছে, খবর কী?

কৌশানী মুখোপাধ্যায়: না না, বিয়েটিয়ে এখন করছি না। দেরি আছে। নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি। এখন আমার কিছু স্বপ্ন আছে। সবারই যেমন থাকে। স্বপ্নগুলো পূরণ হলেই বিয়ের পরিকল্পনা করব। তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, সমকাল।

এইচএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *