শুক্রবার ৩, ডিসেম্বর ২০২১
EN

ফেসবুককে চিনির সঙ্গে তুলনা

ফেসবুক ঘিরে নানা সমালোচনা। কেউ কেউ একে ক্ষতিকর বস্তু বা সিগারেটের সঙ্গেও তুলনা করেন। তবে ফেসবুকে কর্মরত শীর্ষ কর্মকর্তাদের কেউ যদি ফেসবুককে আসক্তিকর কিছুর সঙ্গে তুলনা করেন, তবে তা মানুষের মনে অবশ্যই দাগ কাটতে পারে।

ফেসবুক ঘিরে নানা সমালোচনা। কেউ কেউ একে ক্ষতিকর বস্তু বা সিগারেটের সঙ্গেও তুলনা করেন। তবে ফেসবুকে কর্মরত শীর্ষ কর্মকর্তাদের কেউ যদি ফেসবুককে আসক্তিকর কিছুর সঙ্গে তুলনা করেন, তবে তা মানুষের মনে অবশ্যই দাগ কাটতে পারে।

ফেসবুকের অগমেন্টেড ও ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি বিভাগের প্রধান অ্যান্ড্রু বোসওয়ার্থ ফেসবুককে চিনির সঙ্গে তুলনা করেছেন। ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর বরাতে গত মঙ্গলবার বিষয়টি উঠে এসেছে।

বোসওয়ার্থ তার কর্মীদের কাছে বলেছেন, ‘ফেসবুক নিকোটিনের মতো নয়, তবে আমার কাছে এটি চিনির মতো। চিনি সুস্বাদু এবং আমাদের অনেকের জীবনে এর বিশেষ জায়গা আছে। কিন্তু কেবল গ্রহণযোগ্য মাত্রায় নিতে পারলে এর সুবিধা পাওয়া যাবে।’ ২০১৯ সালের শেষ দিকে অভ্যন্তরীণ এক পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি যদি চিনি খেতে চাই ও অল্প বয়সে মরে যাই, তবে তা কি যৌক্তিক হবে?’

কর্মীদের উদ্দেশে লেখা স্মারকে বোসওয়ার্থ যা লিখছেন, এতে অনেকের মনোযোগ কেড়ে নেওয়ার মতো তথ্যই রয়েছে। তিনি লিখেছেন, ফেসবুকই প্রকৃতপক্ষে ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসে বসিয়েছে। ফেসবুক তাঁর হাতে ডিজিটাল টুল তুলে দিয়েছে। এ টুলের যথেচ্ছ ব্যবহার করেছেন ট্রাম্প। সবচেয়ে বেশি ডিজিটাল বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। খরচের দিক থেকে কেউ তাঁকে টপকাতে পারেনি। একক বিজ্ঞাপনদাতা হিসেবে তিনি সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন।

বোসওয়ার্থের মতে, ফেসবুক চিনির মতোই ক্ষতিকর বস্তু। এর অপব্যবহার করলেই বিপদ। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা এটি কীভাবে ব্যবহার করবেন, এটি তাঁদের ওপর নির্ভর করে।

এর আগে ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গও ফেসবুকের স্বাস্থ্যকর ব্যবহারের পক্ষে কথা বলেছেন। অনেক সময় তিনি ‘ফেসবুকে ভালো সময় কাটানো’র মতো শব্দ ব্যবহার করে থাকেন।

তবে, ৬১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের একটি কোম্পানিকে মানুষকে অসুস্থ করে ফেলার পণ্যের সঙ্গে তুলনা করার বিষয়টি একেবারেই নতুন।

এর আগে ক্লাউড কম্পিউটিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সেলসফোর্সের প্রধান নির্বাহী মার্ক বেনিওফ ফেসবুকের সমালোচনা করে বলেন, ‘ফেসবুক হলো নতুন সিগারেট। আপনারা জানেন, এটা আসক্তি সৃষ্টি করে। এটা আপনার জন্য ভালো নয়। আপনাকে অনেক মানুষ এটা ব্যবহার করার জন্য টেনে আনবে। কী ঘটবে, আপনি বুঝতেই পারবেন না। তাই সরকারের এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। কী ঘটছে, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রণ থাকা জরুরি।’

এখান থেকে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা সাধারণ একটি ধারণাই নিতে পারেন—কোনো কিছুর অতিরিক্ত ব্যবহার ভালো নয়।

এএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *