সোমবার ১৭, জানুয়ারী ২০২২
EN

বিএনপির মাথাব্যথা এখন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন

দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিএনপির ৯টি অঙ্গসংগঠন আর ২টি সহযোগী সংগঠন রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সবগুলোর মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। দশম জাতীয় নির্বাচনের পর সংসদের বাইরে থাকা দেশের অন্যতম বৃহৎ দল বিএনপি চেয়ারপারসন ঘোষণা দিয়েছিলেন- খুব শিগগিরই দল গুছিয়ে সরকার পতনের লক্ষে কঠোর আন্দোলন শুরু করা হবে। দলীয় প্রধানের এমন বক্তব্যে নড়ে চড়ে বসেছিল প্রায় ঘুমিয়ে পড়াঅঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিএনপির ৯টি অঙ্গসংগঠন আর ২টি সহযোগী সংগঠন রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সবগুলোর মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। দশম জাতীয় নির্বাচনের পর সংসদের বাইরে থাকা দেশের অন্যতম বৃহৎ দল বিএনপি চেয়ারপারসন ঘোষণা দিয়েছিলেন- খুব শিগগিরই দল গুছিয়ে সরকার পতনের লক্ষে কঠোর আন্দোলন শুরু করা হবে। দলীয় প্রধানের এমন বক্তব্যে নড়ে চড়ে বসেছিল প্রায় ঘুমিয়ে পড়াঅঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

কিন্তু দীর্ঘ ৬ মাসে কেবল শ্রমিক দলের কাউন্সিল আর ১৩টি জেলা কমিটি ভেঙ্গে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের মধ্য দিয়েই দলপূণর্গঠনের কার্যক্রমথমকেআছে।ঢাকা মহানগর, ছাত্রদল, যুবদল স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি গঠনের কথা শোনা গেলেও সেটি এখন পর্যন্ত গুঞ্জনেই থেকে গেছে।

এর মধ্যে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলও শ্রমিক দল ব্যতীত ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মৎস্যজীবী দল, তাঁতীদল, মহিলা দল, কৃষক দল, জাসাস ও ওলামা দলসহ অঙ্গ সংগঠনের কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ।

মেয়াদোত্তীর্ণ এসব অঙ্গ সংগঠনে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, নেতাদের নিষ্ক্রিয়তা আর যোগ্য নেতৃত্ব সংকটে আন্দোলনের মাঠে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। অথচ সরকারবিরোধীযে কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনে মূল দলের চেয়ে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

কিন্তু বিগত সময়ের সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিএনপির এসব অঙ্গ সংগঠনগুলো মাঠের আন্দোলনের বাস্তবতায় খুঁজে পাওয়া যায়নি। রাজপথের জন্য নির্ভরশীল এসব অঙ্গসংগঠনের ব্যর্থতার কারণে সরকার পতন ও নির্বাচন ঠেকানোর পুরো আন্দোলনই ভেস্তে গেছে বলে অভিযোগ দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের।

তৃণমূলের কর্মীদের মতে, রাজপথের আন্দোলনে এসব সংগঠনের তরুণ ও যুবকদের ওপর নির্ভর করে মাতৃসংগঠন বিএনপি বিভিন্ন পরিকল্পনা করলেও সংগঠনের নেতাদের অদূরদর্শিতা ও অযোগ্যতার কারণে তা ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে এসব অঙ্গসংগঠন এখন বিএনপির মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নির্বাচনের সময় নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে ছাত্রদলের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ খালেদা জিয়া। আর এজন্যই নির্বাচনের পরপরেই সংগঠনের নেতাদেরকে ডেকে নিজের মনোভাবওজানিয়েছেনতিনি। সেই সময় দলীয় প্রধান বলেছিলেন, তোমরা ব্যর্থ। তোমাদের দিয়ে হবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার এমন মনোভাবের ফলে বর্তমান ছাত্রদলের চেইন অব কমান্ড নেই। কেউ কারো কথা শুনছে না। যার ফলে ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ জেল থেকে বের হয়ে এরই মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক আহ্বান করলেও কোনো বৈঠক করা যায়নি। এমনকি প্রয়োজনীয় নির্দেশনার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করার জন্য বারবারসময় চেয়ে আবেদন করেও কোনো সাড়া পায়নি সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ছাত্রদলের মূল কমিটির বেশিরভাগ নেতাই নিয়মিত ছাত্র নন। তাদের অনেকেই ব্যবসা-বাণিজ্য করেন, বিয়ে করে সংসারও হয়েছে অনেকের। কারো কারো সন্তানও স্কুলে পড়ে। এসব নিয়ে সংগঠনের মধ্যে দলাদলি আর কোন্দল ছড়িয়েছে সব পর্যায়ে। তাই ছাত্রদলকে পুনর্গঠন করে নিয়মিত ছাত্রদের হাতে নেতৃত্ব ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে কথা হচ্ছে নির্বাচনের পর থেকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আকরামুল হাসান টাইমনিউজবিডিকে বলেন, ছাত্রদল ব্যর্থ না সফল সেটির মূল্যায়ন করবেন দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি যদি মনে করেন ছাত্রদলের কমিটি পূণর্গঠন করা প্রয়োজন তাহলে সেটি করবেন। ছাত্রদলের নেতৃত্ব  ম্যাডাম যার হাতে তুলে দেবেন প্রতিটি নেতাকর্মী তার সঙ্গে কাজ করবে বলেও তিনি মনে করেন।  

বিএনপির আরেক সহযোগী সংগঠন যুবদলের সর্বশেষ কমিটি করা হয়েছিল ২০১০ সালের ১ মার্চ। এ কমিটির সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব। প্রকৃত যুবকদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেয়ার দাবি আছে সংগঠনের ভেতরেই। যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ টাইমনিউজবিডি'কে বলেন, সরকারবিরোধী আন্দোলন বেগবান করতে এবং যুবদলকে শক্তিশালী বর্তমান কমিটি ও এর বাইরে থেকে যাদের যোগ্য মনে করা হবে তাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিতে হবে। কারণ বর্তমান কমিটির যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা শুরু থেকেই সমন্বয়ের অভাববোধ করছেন। যার ফলে আন্দোলনের মাঠে বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

বিএনপির সহযোগী সংগঠনের মধ্যে অন্যতম স্বেচ্ছাসেবক দল। ছাত্রদল এবং যুবদলের পর এ সংগঠনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় বিএনপি। এ কমিটির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এবং সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু সাড়ে তিন বছর ধরে আছেন নেতৃত্বে।এ সংগঠনের সব শেষ কমিটি করা হয় ২০১০ সালের অক্টোবরে। ২০১৩ সালে মেয়াদ শেষ হলেও নতুন কমিটি গঠনের কোনো উদ্যোগই নেয়া হয়নি।

স্বেচ্ছাসেবক দলের এক সহসভাপতি টাইমনিউজবিডি'কে বলেন, ‘বর্তমানে আমরা একটি মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি নিয়ে দল পরিচালনা করছি। কিন্তু কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে নতুন একটি কমিটি গঠন করার দাবি জানিয়ে আসছি। হয়তো রোজার মধ্যেই বা ঈদের পর সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হবে।

বিএনপিরআরেক সহযোগী সংগঠন তাঁতী দলের অবস্থা আরও খারাপ। এ সংগঠনের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে সাড়ে তিন বছর আগে। ২০০৮ সালের ২৩ মে গঠিত কমিটি কাজ করছে এখনো।

জাসাস সভাপতি এম এ মালেক ও সাধারণ সম্পাদক মনির খানের নেতৃত্বে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। নেতাদের স্বেচ্ছাচারিতা ও বিভিন্ন অনিয়মেরকারণে কোনো গুণী শিল্পী, লেখক এই সংগঠনের ধারে-কাছেও ভিড়তে সাহস পান না।

কৃষক দলের সর্বশেষ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা হয় ২০০৭ সালে। নিয়ম অনুযায়ী তিন বছরের মধ্যে নতুন কমিটি দায়িত্ব নেয়ার কথা থাকলেও এ সময়ের মধ্যে কমিটিই গঠন করা হয়নি।

২০০৭ সালে কৃষক দলের সভাপতির মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছরের মধ্যে নতুন কমিটির দায়িত্ব নেয়ার কথা থাকলেও এখনো ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শামসুজ্জামান দুদু দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

মৎস্যজীবী দলের সর্বশেষ কমিটি করা হয়েছিল ২০১১ সালের ১৩ ডিসেম্বর। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুই বছরের মধ্যে নতুন কমিটির দায়িত্ব নেয়ার কথা থাকলেও এখনো সভাপতি হিসেবে রফিকুল ইসলাম মাহতাব এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো. নুরুল হক মোল্লা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। নেতৃত্ব নিয়ে দলাদলির কারণে এ সংগঠনটিও অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

মহিলা দলের কমিটি গঠিত হয়েছিল ২০১০ সালের ২৬ এপ্রিল। তখন নুরে আরা সাফা সভাপতি ও শিরিন সুলতানাকে সাধারণ সম্পাদিকা করা হয়। দলীয় কর্মসূচির প্রতিটিতেই শিরিন সুলতানার সরব উপস্থিতিকে অনেকেই মনে করেন তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছের লোক।

তিনি এই বিষয়ে টাইমনিউজবিডি'কে বলেন, আমরা মনে করি দলের জন্য যথাযথভাবেই কাজ করছি। তারপরেও দলের চেয়ারপারসন কোনো নির্দেশনা দিলে কমিটির পূণর্গঠন নিয়ে কাজ করতে আমাদের আপত্তি নেই। ম্যাডাম যদি চান তাহলে অবশ্যই আমরা মহিলা দলকে আরো বেশি শক্তিশালী করার জন্য নতুন নেতৃত্বকে সুযোগ দিতে প্রস্তুত থাকব।

ঢাকা, এমএইচ, ৩ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম)//এআর

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *