রবিবার ২৯, মে ২০২২
EN

বেকারত্ব বীমা চালু করছে সৌদি আরব

ঢাকা: সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো ধরনের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নাগরিকের জন্য বেকারত্ব বীমা চালুর ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো কারণে কাজ হারালে তারা এক বছর পর্যন্ত চলার মতো ক্ষতিপূরণ পাবেন বীমা থেকে।

[b]ঢাকা: [/b]সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো ধরনের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নাগরিকের জন্য বেকারত্ব বীমা চালুর ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো কারণে কাজ হারালে তারা এক বছর পর্যন্ত চলার মতো ক্ষতিপূরণ পাবেন বীমা থেকে। কর্মরত অবস্থায় পলিসি চালিয়ে যেতে বাধ্য থাকবেন সবাই। শীর্ষ তেল রফতানিকারক সৌদি আরবে বেকারত্ব সরকারি হিসাবে ১২ শতাংশ হলেও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে চাকরিরত আছে মাত্র ৩০-৪০ শতাংশ। এর প্রায় সবটাই সরকারি প্রতিষ্ঠানে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলক কম থাকায় তরুণরা খুব একটা আগ্রহী হচ্ছেন না। বেকারদের প্রায় সবাই আর্থিকভাবে পরিবারের ওপর নির্ভরশীল। চাকরিকালীন আয় ও পরবর্তীতে ভালোমতো বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা পেলে সৌদি তরুণরা বেসরকারি খাতে কাজ করতে আগ্রহী হবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এরই অংশ হিসেবে নতুন এ বীমার পরিকল্পনা করল সরকার। ২০১১ সালের আরব বসন্তের ধাক্কা থেকে সৌদি রাজতন্ত্রকে নিরাপদ রাখতে সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ ব্যয় অনেক বাড়িয়ে দেয় সরকার। এতে সরকারি ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। পেট্রো ডলারের জোরে এর জোগান দেয়া খুব একটা কঠিন হচ্ছে না। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার, পেট্রো রাজস্বে অনিশ্চয়তা ও অন্যান্য কারণে দীর্ঘমেয়াদে এত বড় কর্মী বাহিনীর বেতন-ভাতা দিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে সৌদি সরকার। উত্পাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে চাইছে তারা। আয়করমুক্ত সৌদি অর্থনীতিতে সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণেও এ পদক্ষেপ জরুরি ছিল। সোমবার ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি যেকোনো খাতেই কর্মরত থাকা অবস্থায় প্রত্যেককে তার মাসিক মোট বেতনের ১ শতাংশ হারে প্রিমিয়াম দিয়ে যেতে হবে বেকারত্ব বীমার পলিসিতে। প্রতি মাসে তার নিয়োগদাতাও দেবে সমপরিমাণ অর্থ। পলিসিটি কমপক্ষে এক বছর ধরে চালিয়ে যাওয়ার পর কোনো কারণে বীমাগ্রহীতা বেকার হয়ে গেলে ১২ মাস চলার মতো ক্ষতিপূরণ পাবেন তািন। বেকারত্বের প্রথম তিন মাস একেকজন গত তিন বছরে তার গড় বেতনের ৬০ শতাংশ করে পাবে প্রতি মাসে। পরবর্তী নয় মাস পাবে ৫০ শতাংশ করে। স্বেচ্ছায় কাজ ছেড়ে দেয়া, আয় বা কর্মসংস্থানের বিকল্প উত্স থাকা কিংবা পলিসির বয়স এক বছরের কম থাকা— এসব কারণে তারা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এছাড়া পলিসির আকার যাই হোক একজন প্রথম তিন মাসে ৯ হাজার রিয়াল (২ হাজার ৪০০ ডলার) ও পরবর্তী নয় মাস ৭ হাজার রিয়ালের বেশি হারে ক্ষতিপূরণ পাবেন না। মাসিক সর্বনিম্ন ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার রিয়াল। সৌদি আরবের রাজকীয় সরকারি ব্যয়ের বিষয়ে এরই মধ্যে একাধিকবার সতর্ক করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিশেষজ্ঞরা। সরকারি ব্যয় ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে রিয়াদ। এদিকে রাজস্ব এ হারে বাড়বে এমন নিশ্চয়তা নেই। এক সৌদি কর্মকর্তা বলেন, স্বল্পমেয়াদে এর প্রভাব খুব একটা দেখা না গেলেও দীর্ঘমেয়াদে এ বীমা সৌদি আরবের শ্রমবাজারকে স্থিতিশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ করবে। বিদেশী কর্মী নিয়োগে ফি, কর ও অন্যান্য শর্তাবলি কঠোর করে কোম্পানিগুলোকে সৌদি নাগরিকদের নিয়োগে উত্সাহিত করছে সরকার। সোমবার শ্রম মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত বেকারত্ব বীমার পরিকল্পনাটি অনুমোদন করে মন্ত্রিপরিষদ। সূত্র: অ্যারাবিয়ান বিজনেস। [b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/b]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *