শনিবার ২৯, জানুয়ারী ২০২২
EN

বিচারের আশায় ফেলানী পরিবারের ৪ বছর

ফেলানী হত্যার ৪ বছর পূর্ণ হলো আজ।২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হয় বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানী খাতুন।

ফেলানী হত্যার ৪ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হয় বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানী খাতুন।

৪ বছরেও পেলনা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ন্যায়বিচার। আর তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন ফেলানীর বাবা-মা।

কি ঘটেছিল ওই দিন? তার জবাবে দেখা যায়, ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাবা নূর ইসলামের সাথে মই দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া টপকে বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করছিল ফেলানী।

সে সময় বিএসএফ তাকে গুলি করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ফেলানীর নিথর দেহ কাঁটাতারের বেড়ায় ৪ ঘণ্টা ঝুলে থাকে। কি নির্মম ঘটনা!

এই হত্যাকাণ্ডে দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমসহ মানবাধিকার-কর্মীদের মাঝে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট বিএসএফের বিশেষ আদালতে ফেলানী হত্যার বিচার শুরু হয়।

২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেন ভারতের কোচবিহারের সোনালী ছাউনিতে স্থাপিত বিএসএফের বিশেষ আদালত। পরে বিজিবি-বিএসএফের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ফেলানী হত্যার পুনর্বিচারের সিদ্ধান্ত হয়।

২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পুনর্বিচার শুরু করে বিএসএফ। ওই বছরের ১৭ নভেম্বর ফেলানীর বাবা নূর ইসলাম বিএসএফের বিশেষ আদালতে অমিয় ঘোষকে অভিযুক্ত করে পুনরায় সাক্ষ্য দেন এবং অমিয় ঘোষের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর বিচারিক কাজ চলার সময় অভিযুক্ত অমিয় ঘোষ অসুস্থ হয়ে পড়ায় ৪ মাসের জন্য বিশেষ আদালতের কার্যক্রম মুলতবি করা হয়। ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ পুনরায় বিশেষ আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ফেলানী হত্যাকাণ্ডের ৪ বছর উপলক্ষে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মিলাদ-মাহফিল ও কাঙ্গালী ভোজের আয়োজন করা হয়েছে।

ফেলানীর বাবা নূর ইসলাম বলেন, ‘আমার মেয়ে ফেলানী হত্যাকাণ্ডের ৪ বছর পূর্ণ হল। বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষ আমার চোখের সামনে আমার মেয়েকে গুলি করে হত্যা করে।

ভারতের বিএসএফ আদালতে অমিয় ঘোষকে শনাক্ত করে দুই দফা সাক্ষ্য দেই। তার পরও টালবাহানা করা হয়। ফলে হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার এখনও হয় নাই।’

মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে আমার ফেলানীর আত্মা শান্তি পাবে এই প্রতীক্ষায় আছি।’

তাহলে সেই দিনটি কবে আসবে তারই প্রতীক্ষায় ফেলানীর মা-বাবা ও তার পরিবার।

এসএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *