মঙ্গলবার ২৫, জানুয়ারী ২০২২
EN

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কৃষি ঋণ আদায় বন্ধ রাখার নির্দেশ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে প্রকৃত চাহিদা ও বাস্তবতার নিরিখে নতুন ঋণ বিতরণ করার পাশাপাশি পুরনো ঋণ আদায় স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠে কৃষি উৎপাদন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে ফসল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে প্রকৃত চাহিদা ও বাস্তবতার নিরিখে নতুন ঋণ বিতরণ করার পাশাপাশি পুরনো ঋণ আদায় স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত বুধবার (২৪ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ থেকে এবিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিঋণ গ্রহীতারা কোনো প্রকার ‘ডাউন পেমেন্ট’ ছাড়াই ঋণ পুনঃতফসিল করতে পারবেন। একই সঙ্গে কোনো ধরনের জমা ছাড়াই নতুন ঋণ সুবিধা নিতে পারবেন।

এ ছাড়াও নতুন করে কোনো সার্টিফিকেট মামলা না করার পাশাপাশি আগের মামলার তাগাদা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোকে।

প্রজ্ঞাপনে উত্তরাঞ্চল ও হাওরাঞ্চলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাংকগুলোকে পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠে কৃষি উৎপাদন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার জন্য ফসল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে প্রকৃত চাহিদা ও বাস্তবতার নিরিখে নতুন ঋণ বিতরণ করতে বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষি ঋণ আদায় স্থগিতকরণ, সহজ কিস্তি আদায়ের মাধ্যমে ঋণ নিয়মিতকরণ-ডাউন পেমেন্টের শর্ত শিথিলপূর্বক ঋণ পুনঃতফসিলিকরণ সুবিধা প্রদান, নতুন করে কোনো সার্টিফিকেট মামলা না করে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে অনাদায়ী ঋণ তামাদি হওয়া প্রতিবিধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দায়েরকৃত সার্টিফিকেট মামলাগুলোর তাগাদা আপাততঃ বন্ধ রেখে সোলেনামার মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা যাতে প্রকৃত চাহিদা মোতাবেক যথাসময়ে নতুন ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন এবং ঋণ পেতে কোনো রূপ হয়রানির শিকার না হন সে বিষয়ে তদারকি করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য বসতবাড়ির আঙিনায় হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশুপালন, গো-খাদ্য উৎপাদন ও ক্রয় এবং অন্যান্য আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডে ঋণ প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

সম্প্রতি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল বিভিন্ন জেলায় কুড়িগ্রাম, বগুড়া, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, শেরপুর, টাঙ্গাইল, জামালপুর, ফরিদপুর, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, চাঁদপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নীলফামারী, লালমনিরহাট, নেত্রকোণা, মৌলভীবাজার, উজান থেকে আসা পানি এবং ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় কৃষিজাত ফসলের ক্ষতি হওয়ায় এতদাঞ্চলের কৃষকরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে ঋণ-সংক্রান্ত বিষয়ে কী কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ছকে জানাতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এএস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *