বুধবার ৭, ডিসেম্বর ২০২২
EN

বিপিসির হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি মামলায় ২১ সাক্ষিকে তলব

আগামী কাল রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনর (বিপিসি) হাজার কোটি টাকা লোপাটের ৩ মামলায় বিদেশী সার্ভে প্রতিষ্ঠানের ২১ কর্মকর্তা সাক্ষ্যি দিতে আসছেন দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)।

আগামী কাল রোববার সকাল সাড়ে ৯টায়  বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনর (বিপিসি) হাজার কোটি টাকা লোপাটের ৩ মামলায়  বিদেশী   সার্ভে প্রতিষ্ঠানের ২১ কর্মকর্তা সাক্ষ্যি দিতে আসছেন দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)।

গত ৯ জুন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা উপ পরিচালক যতন কুমার রায়  ওই ৩ সার্ভে প্রতিষ্ঠান,  এসজিএস, ইন্টারটেক এবং রয়েল এর ২১ কর্মকর্তাকে দুদক প্রধান কার্যালয়ে  সাক্ষ্যি হিসাবে তলবি নোটিশ পাঠান।

নোটিশ প্রাপ্তরা হলেন, ক্যাপটেন মোস্তাফিজুর রহমান,প্রধান প্রকৌশলী ইলাহী চৌধুরী, ক্যাপটেন শাহেদ খান, ক্যাপটেন জাফর আহমেদ, ক্যাপটেন কাদের- ই কবির, ক্যাপটেন সাইদ জানে আলম, ক্যাপটেন গাজী আবদুল আলী, ক্যাপটেন মোতাহের হোসেন, কর্মকর্তা এ এইচ এম কবিরুল আলম, মোবারক হোসেন, ও এইচ খান, নজরুল ইসলাম  ফজলে আজিম, প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মফিজ, ক্যাপটেন আমির হোসেন, ক্যাপটেন ফজলুর রহমান চৌধুরী, ক্যাপটেন এম মোতাহার হোসেন, ইএম দেলোয়র হোসেন, ক্যাপটেন গাজী আবদুল আলী, ক্যাপটেন মোস্তাফিজুর রহমান এবং ক্যাপটেন কাদির কাবিলা।

জানা যায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) হাজার কোটি টাকার জ্বালানি তেল ‘ওশান লস’ (সমুদ্রে পরিবহণ জনিত লোকসান) দেখিয়ে বিপিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই অর্থ  আত্মসাৎ করেন। এই ঘটনায় দুদক  ২০১৩ সালের  ১৬ সেপ্টম্বর চট্টগ্রাম বন্দর থানায় পৃথক ৩ মামলা  দায়ের করে দুদক। মামলা নং-- ১২, ১৩  ও  ১৪।

ওই মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের বিপরীতে গত এক যুগে অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে  কয়েক হাজার কোটি টাকা । যে তেল  জাহাজ থেকে  খালাসই হয়নি, তার-মূল্য শোধ করতে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করে এ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বিপিসি’র কর্মকর্তারা।

সূত্র জানায়, ১৯৯২ সালের ২৭ জুন বিপিসির ৩৫৬ তম সভায় এই মর্মে সিদ্ধান্ত হয় যে, আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের ওশান লস (সমুদ্রে পরিবহণ জনিত লোকসান) ০.৫ এর পরিবর্তে ০.৩ % গ্রহণযোগ্য হবে। অর্থাৎ ওশান লস এর  বেশি  বা কম  হলে তা বিপিসি গ্রহণ করবে না। এ সিদ্ধান্তের পর রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায়  ২০০১-২০০২ সালের দিকে জ্বালানি তেল আমদানি শুরু করে বিপিসি। তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিজ দায়িত্বে তেল পৌঁছে দেবে।

চুক্তিকে উল্লেখ করা হয় যে, ইনভয়েস কোয়ান্টিটি বিএল (বিল অব লেভিস) কোয়ান্টিটির চেয়ে ০.৩% বেশি হলেও সেটি গ্রহণযোগ্য। কিন্তু যেখানে জ্বালানি তেল কার্গো ভেসেলের মাধ্যমে আনতে ওশান লস হওয়ার কথা ০.৩%, সেখানে ০.৬% জ্বালানি তেল অতিরিক্ত পাওয়া গেছে-মর্মে অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করা হয়।  এভাবে ওশান লসের ০.৩% এর অর্থ এবং অতিরিক্ত আরও ০.৩% এর অর্থসহ মোট ০.৬% জ্বালানি তেলের মূল্য অতিরিক্ত পরিশোধ করা হয়েছে। অথচ পরিশোধিত মূল্য অনুসারে  সে পরিমাণ জ্বালানি তেল  পায়নি বিপিসি। 

সূত্রমতে, মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন- কেপিসি, এমিরাটস ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি-ইএনওসি’র মতো ৬/৭টি  তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে  আন্তুর্জাতিক  টেন্ডারের মাধ্যমে জ্বালানি তেল  আমদানি করছে  পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের  সঙ্গে যোগসাজশে  গত ৪ বছরে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে  কমপক্ষে ২০০ কোটি টাকা।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, অতিরিক্ত তেলের মূল্য পরিশোধ দেখিয়ে এভাবে গত এক দশকে জ্বালানি তেল চুরি বাবদ বিপিসি কর্মকর্তারা হাতিয়ে  নিয়েছেন কয়েক হাজার কোটি টাকা।  কার্গোতে জ্বালানি তেল লোড-আনলোডের সময় সার্ভে করা হয়। সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী  এসজিএস, ইন্টারটেক ও রয়েল এই ৩টি  প্রতিষ্ঠান সার্ভে করে।

ঢাকা,একে, ১৪ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসআর

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *