সোমবার ১৭, জানুয়ারী ২০২২
EN

ভোটার তালিকায় দুর্নীতি: দুদকে তথ্য দিচ্ছে না ইসি

ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন প্রকল্পে অর্থ লোপাট ও নানা অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করতে পারছে না দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ভোটার তালিকা প্রণয়নকারী টাইগার আইটি(বিডি)’র বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত দুদকে দিচ্ছে না নির্বাচন

ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন প্রকল্পে অর্থ লোপাট ও নানা অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করতে পারছে না দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ভোটার তালিকা প্রণয়নকারী টাইগার আইটি(বিডি)’র বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত দুদকে দিচ্ছে না নির্বাচন কমিশন(ইসি)।

জানা যায়, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদা সময়কালে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন প্রকল্পে যে বড় ধরণের দুর্নীতি হয়েছে। গত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনীর সহায়তায় অতি জরুরি ভিত্তিতে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা ও ডাটাবেজড জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরি করে টাইগার আইটি (বিডি) নামক একটি প্রতিষ্ঠান। পরে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ প্রদান এবং ভোটার তালিকা প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় বড় ধরণের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।

এদিকে দুদকের ‘যাচাই-বাছাই কমিটি’ গত ১ জানুয়ারি অভিযোগটি অনুসন্ধানের পক্ষে মত (স্মারক নং-৯৬৯-২০১৩/৩৮) দেন। পরদিন ২ জানুয়ারি দুদকের ‘বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত’ শাখার মহা-পরিচালক এমএইচ সালাহউদ্দিন আহমেদ এটি অনুসন্ধান অনুমোদন করেন।

একই সঙ্গে উপ-পরিচালক নাসিরউদ্দিন আহমেদকে বিষয়টি অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি তথ্য উপাত্ত চেয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠান। কিন্তু ইসি তথ্য না দিয়ে সাফ জবাব দিয়েছে ইসি একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। কোনো অভিযোগ থাকলে ইসি নিজেই ‘পর্যালোচনা’ করবে। যদিও দুদক আইনে দুর্নীতি অনুসন্ধান ও তদন্তের এখতিয়ার দুদকেরই।

অনুসন্ধানের প্রয়োজনে দন্ডবিধির ৪০৯ এবং ১০৯ ধারা এবং দুদক আইনের ১৯(২) ধারায় যে কোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান দুদককে সহযোগিতা করবে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তথ্য দিতে বাধ্য থাকবে। দুদক আইন ২৩(১) ধারা অনুসারে যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা থেকে যেকোনো তথ্য চাইতে পারবে দুদক। ১৯(৩) ধারা অনুযায়ী তথ্য প্রদানে অস্বীকার কিংবা দুদকের নির্দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ব্যক্তি অমান্য করলে তার অনুধর্ধ ৩ বছর কারাদন্ড এবং অর্থ দন্ড হতে পারে। এরকম একাধিক আইনী বাধ্যবাধকতা থাকলেও নির্বাচন কমিশন দুদককে কোনো তথ্য প্রদান করেনি।

জানা যায়, গত ৩ মার্চ ইসির উপ-সচিব মোঃ সাজাহান খানের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রণীত ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা ও ডাটাবেজড জাতীয় পরিচয়পত্র প্রণয়নে কোনো প্রকার দুর্নীতির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনই পর্যালোচনা করবে। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির সাথে সম্পর্কিত। এ পর্যায়ে বিষয়টি নিষ্পত্তিকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশিত হয়ে বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ধরণের অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কমিশনেরই প্রথম দায়িত্ব ছিলো তদন্ত করে প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করা।

তিনি বলেন, সাংবিধানিক কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কার্যক্রম সংঘটিত হলে অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিৎ। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দাবি করে ইসির দুর্নীতির অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

নির্বাচন কমিশন সচিব সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদেও বলেন, দুদকের চিঠি পাওয়ার পরই ইসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে পর্যালোচনা করার। বিষয়টি দুদককে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। যদি দুদকই অনুসন্ধান করবে তাহলে আমরা তথ্য-উপাত্ত দেবো।

ঢাকা, একে, ৬ জুলাই(টাইমনিউজবিডি.কম)//এনএস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *