বুধবার ৭, ডিসেম্বর ২০২২
EN

ভোটে নয় আদালতে বৈধ ১৫৪ সংসদ সদস্য

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত দশম জাতীয় সংসদের ১৫৪ সদস্যকে পরোক্ষভাবে বৈধ বলে মনে করেন দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত দশম জাতীয় সংসদের ১৫৪ সদস্যকে পরোক্ষভাবে বৈধ বলে মনে করেন দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ভোটে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার ঘোষণা সংক্রান্ত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৯ ধারার বৈধতা নিয়ে করা রিট খারিজের মাধ্যমে তাদেরকে এ বৈধতা দেয়া হয়েছে।

এ রায়ের মাধ্যমে বিতর্কিত একটি বিষয়ের পরিসমাপ্তি ঘটেছে উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ আছে বলে আমি মনে করি না।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১৯ ধারা অনুসারে, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর বা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর একক প্রার্থী থাকলে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা যায়। অথচ এটি সংবিধানের ৭, ১১, ২৭, ৩১, ৬৫ (২), ১২১ ও ১২২ (২) অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।

সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে।’

সংবিধানের ৬৫(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকাসমূহ হইতে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আইনানুযায়ী নির্বাচিত তিনশত সদস্য লইয়া এবং এই অনুচ্ছেদের (৩) দফার কার্যকরতাকালে উক্ত দফায় বর্ণিত সদস্যদিগকে লইয়া সংসদ গঠিত হইবে; সদস্যগণ সংসদ-সদস্য বলিয়া অভিহিত হইবেন।’

১২২(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রাপ্ত বয়স্কের ভোটাধিকার-ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।’

রিট আবেদনে ১৯ ধারাকে কেন এসব অনুচ্ছেদের পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না—এ মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচনে ওই সব আসনে হ্যাঁ-না ভোট আয়োজনের কেন নির্দেশদেয়া হবে না—এ মর্মে রুল চাওয়া হয়। এ ছাড়া রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এসব আসনে প্রার্থীদের নির্বাচিত ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছিল।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রতিনিধি নির্বাচিত করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটটি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে  ‘না’ ভোটের বিধান সংযোজনের নির্দেশনা চেয়ে করা রিটটিও খারিজ করছে আদালত।  

বৃহস্পতিবার বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের দ্বৈত বেঞ্চএ রিট আবেদন দুটি খারিজ করে  আদেশ দেন।

এর আগে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার আব্দুস সালামের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন দুটি দায়ের করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসান এম এস আজিম।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থীতা প্রত্যাহারের দিন একক প্রার্থী থাকায় ১৫৪ জনকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করার সূত্র ধরেই রিটটি দায়ের করা হয়।

সংসদীয় আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একক প্রার্থীকে নির্বাচিত করার গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১৯ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন।

আবদুস সালাম বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১৯ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়। সংবিধানে আছে, জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। এভাবে প্রার্থী নির্বাচিত করার কারণে জনগণের সম্পৃক্ততা থাকছে না। রিট আবেদনে মন্ত্রিপরিষদসচিব, আইনসচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছিল।

গত ১২ মার্চ সংসদীয় আসনে একক প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণার বৈধতা নিয়ে মতামত জানতে সাতজনকে অ্যামিকাস কিউরি (আদালত বন্ধু) নিয়োগ দেন হাইকোর্ট।

তারা হলেন- সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন, প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, সিনিয়র এডভোকেট এম আমীর-উল ইসলাম, মাহমুদুল ইসলাম, মওদুদ আহমদ, রোকন উদ্দিন মাহমুদ এবং সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

এ নিয়ে আদালতে বিস্তারিত শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রিট দুটি খারিজ করে দেন।

ঢাকা, কেএ, ১৯ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *