মঙ্গলবার ১৬, অগাস্ট ২০২২
EN

ভারতের ‘গোলাপি পেঁয়াজ’ রফতানিতেও বাংলাদেশ নয়

কর্নাটকের কৃষকদের দাবির মুখে পেঁয়াজ রফতানির অনুমতি দিয়েছে ভারত সরকার। ২৮ অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য পেঁয়াজ রফতানির নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়েছে তারা।

কর্নাটকের কৃষকদের দাবির মুখে পেঁয়াজ রফতানির অনুমতি দিয়েছে ভারত সরকার। ২৮ অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য পেঁয়াজ রফতানির নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়েছে তারা। তবে এর জন্য বেশ কতগুলো শর্ত মানতে হবে ভারতের ব্যবসায়ীদের। ভারতের এই পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম কমে আসতে পারে বলে মনে করছেন বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দিন। তিনি বলেছেন, ‘ভারতের এই সিদ্ধান্তের কারণে সীমিতভাবে হলেও একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

এদিকে ভারতের এই সিদ্ধান্তের মধ্যে কয়েকটি দেশের নাম উল্লেখ থাকলেও বাংলাদেশের নাম রয়েছে কিনা তা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে।

তবে বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দিন জানান, ‘কর্নাটকে, বিশেষ করে বেঙ্গালুরুতে পেঁয়াজের ভালো আবাদ হয়েছে। তাদের পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একারণে কৃষকরা রফতানির জন্য সরকারকে চাপ দিয়েছেন। কৃষকদের দাবির মুখে ভারত সরকার সীমিতভাবে পেঁয়াজ রফতানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। গত ২৮ অক্টোবর ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক শাখা এক আদেশে সীমিতভাবে পেঁয়াজ রফতানির অনুমতির বিষয়টি জানায়। এই আদেশ চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।’


সচিব জানান, শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, শুধু কর্নাটকে উৎপাদিত ‘বেঙ্গালুরু গোলাপি পেঁয়াজ’ রফতানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। রফতানির জন্য ইন্ডিয়ান হর্টিকালচার কমিশনারের অনুমতি নিতে হবে। একটা প্রতি চালানে সর্বোচ্চ ৯ হাজার টন রফতানি করতে পারবে। আর এই পেঁয়াজ শুধু চেন্নাই সমুদ্র বন্দর দিয়ে রফতানি করতে হবে।

ড. জাফর উদ্দিন বলেন, ‘এই স্থগিতাদেশে কারণে সীমিতভাবে হলেও একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সরকার পেঁয়াজের মূল্য আয়ত্বের মধ্যে রাখতে চেষ্টা করছে। মেঘনা ও সিটি গ্রুপের আমদানি করা পেঁয়াজ দুয়েকদিনের মধ্যেই দেশে প্রবেশ করবে। নভেম্বরের মাঝামাঝিতে বাজারে উঠতে শুরু করবে দেশি পেঁয়াজ। ফলে পেঁয়াজের সংকট আর থাকবে না বলে আশা করছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজধানীর শ্যামবাজারের আমদানিকারক হাজি মোহাম্মদ মাজেদ বলেন, ‘রফতানির নিষেধাজ্ঞা আংশিক প্রত্যাহারের খবর শুনেছি। তবে এটি আমাদের জন্য ততটা সুবিধাজনক নয়। কারণ আমি যতদূর জেনেছি, মালয়েশিয়ার জন্য এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আমাদের জন্য নয়। ব্যাঙ্গালুরুর গোলাপি পেঁয়াজ মালয়েশিয়ায় ভালো চলে। আর সমুদ্রপথে পেঁয়াজ আনা আমাদের জন্য কোনোভাবেই লাভজনক হবে না, অনেক খরচ হবে। এছাড়া নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করলে হয়তো এমনিই ভারতের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে।’

ভারতীয় রফতানিকারক অনিল ঠাকুর জানান, ‘সম্প্রতি ভারত সরকার ৯ হাজার টন পেঁয়াজ রফতানির যে অনুমতি দিয়েছে তা পানিপথে আনতে হবে। এছাড়া সেটা বাংলাদেশ না, অন্য দেশের জন্য বলে আমরা জেনেছি। বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানিতে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল সেটি এখনও বহাল রয়েছে। তবে আমরা আশা করছি কিছুদিনের মধ্যে হয়তো এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিতে পারে ভারত।’

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মাহফুজার রহমান, বাবলুর রহমান ও মোবারক হোসেন বলেন, ‘সম্প্রতি পত্র পত্রিকায় ভারত ৯ হাজার টন পেঁয়াজ রফতানির অনুমতি দিয়েছে এমন কথা জানতে পেরেছি। সে মোতাবেক আমরাও ভারতীয় রফতানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা করে জানতে পারি যে সেটি বাংলাদেশের জন্য নয়। এসব পেঁয়াজ অন্য দেশের জন্য রফতানির অনমুতি দেওয়া হয়েছে, তাও আবার নৌপথ দিয়ে। এছাড়াও আমাদের পুরানো যে এলসিগুলো রয়েছে সেগুলোর বিষয়ে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা সেসব পেঁয়াজ নিতে পারবো বলে মনে হচ্ছে।’

তারা আরও জানান, যদি নৌপথ দিয়ে বাংলাদেশেও পেঁয়াজ রফতানির অনুমতি দেয় ভারত তবুও আমদানিকারকরা সেই পথ দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করবেন না। কারণ, ভারতের যে অঞ্চলগুলো থেকে পেঁয়াজ রফতানি করা হয়, সেখান থেকে স্থলপথে পেঁয়াজ আমদানি করতে কেজি প্রতি ৫ টাকার মতো খরচ পড়ে। কিন্তু নৌপথ দিয়ে আনলে সে খরচ বাড়বে। এছাড়াও নৌপথ দিয়ে পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে সেসব পেঁয়াজ চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর দিয়ে আমদানি করতে হবে, সেখান থেকে খালাস করে পেঁয়াজগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতে হবে। এতে করে খরচ বাড়বে। এছাড়াও নৌপথ দিয়ে পণ্য প্রবেশ করতে ১৫/২০ দিনের মতো সময় লাগবে, এতে করে পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাবে। এসব কারণে নৌপথ দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করতে আমদানিকারকরা নিরুৎসাহিত বোধ করছেন।

এএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *