শুক্রবার ৩, ফেব্রুয়ারি ২০২৩
EN

ভারতের পথে হাটছে পাকিস্তান!

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো পাকিস্তানেও দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকট। তাই সমস্যা মোকাবেলায় দেশটি ভারতের দেখানো পথে হাটতে চায় অর্থাৎ রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির চিন্তা-ভাবনা করছে।

বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর বাজেটের জন্যও বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেই চীন ও ভারতে ব্যাপক মূল্যছাড়ে জ্বালানি তেল বিক্রি করছে রাশিয়া।

পাকিস্তানের জ্বালানি মন্ত্রণালয় এজন্য বিশেষজ্ঞদের যাচাই-বাছাই করে তথ্য সরবরাহ করতে বলেছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জুনে পাকিস্তানের জ্বালানি তেলের আমদানি বিগত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হতে যাচ্ছে। এসময় দেশটির জ্বালানি তেল আমদানি ৭ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে। মে মাসে এর পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৩০ হাজার টন।

২০১৮ সালের মে মাসে আমদানি হয়েছিল ৬ লাখ ৮০ হাজার টন ও ২০১৭ সালের জুনে ছিল ৭ লাখ ৪১ হাজার টন।

জ্বালানিমন্ত্রী মুসাদ্দিক মালিক বলেন, রাশিয়া থেকে কম মূল্যে তেল আমদানির বিষয়ে আলোচনা চলছে। আগের অর্থাৎ ইমরান খানের সরকারও এ ব্যাপারে একটি চিঠি রাশিয়াকে দিয়েছিল।

বর্তমান নতুন জোট সরকার সে দিকে নজর রাখছে বলেও জানান তিনি। যদিও রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি।

এদিকে চলতি বছরের এপ্রিলের পর থেকে এখন পর্যন্ত ভারতের রাশিয়ান অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ৫০ গুণ বেড়েছে। সম্প্রতি দেশটির ঊর্ধ্বতন এক সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দিয়েছে ইকোনমিক টাইমস।

অপরদিকে মূল্যছাড়ে জ্বালানি তেল কিনতে রাশিয়া ও কাতারে মন্ত্রীদের পাঠানোর কথা জানিয়েছে শ্রীলঙ্কার সরকার। অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া শ্রীলঙ্কায় সবচেয়ে বড় সংকট চলছে জ্বালানির।

দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী কাঞ্চনা উইজেসেকেরা বলেছেন, গত মাসে রাশিয়া থেকে ৯০ হাজার টন সাইবেরিয়ান ক্রুড কেনা হয়েছে। এখন আরও কেনার জন্য আলোচনা চলছে।

ভারত চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে রাশিয়া থেকে যে পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছে, তা গত বছর রাশিয়া থেকে মোট আমদানীকৃত জ্বালানি তেলের দ্বিগুণ।

তথ্য বলছে, চলতি মাসে ভারতের শীর্ষ পরিশোধন কেন্দ্রগুলো ছয় মাস মেয়াদি সরবরাহ চুক্তির লক্ষ্যে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করছে। এমন সময় দেশ দুটির মধ্যে চুক্তির গুঞ্জন চলছে, যখন পশ্চিমা দেশগুলোর একের পর এক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশগুলোর ক্রেতাদের কাছে জ্বালানি তেল বিক্রি কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে রাশিয়া।

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ইউরোপ ও পশ্চিমা দেশগুলোয় বিক্রি কমে যাওয়ায় রাশিয়ার সবচেয়ে বড় বিকল্প উৎসেপরিণত হয়েছে ভারত ও চীন। মে মাসে রাশিয়া সৌদি আরবকে হটিয়ে ভারত দ্বিতীয় শীর্ষ জ্বালানি তেল সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়। একই সঙ্গে দেশটি চীনের শীর্ষ জ্বালানি তেল সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়েছে।

ফলে মার্কিন চাপের মুখে পড়তে যাচ্ছে ভারত। কারণ ওয়াশিংটন এরই মধ্যে রাশিয়ার জ্বালানি খাত থেকে প্রাপ্ত আয় কমিয়ে আনার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

এক্ষেত্রে রুশ জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ মূল্যসীমা নির্ধারণ করে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে মার্কিন প্রশাসন ও পশ্চিমা দেশগুলোর। যদিও ভারত এখনো রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত রাখার ব্যাপারে অটল মনোভাব প্রকাশ করেছে।

এইচএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *