সোমবার ৬, ডিসেম্বর ২০২১
EN

ভারতে উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত, মিয়ানমার থেকে এসেছে পেঁয়াজ

বাজার স্থিতিশীল রাখতে কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে আসছে মিয়ানমারের পেঁয়াজ।

ভারতে বন্যায় পেঁয়াজের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারে। ফলে, গত কয়েকদিনে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

বাজার স্থিতিশীল রাখতে কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে আসছে মিয়ানমারের পেঁয়াজ।

গত দু’সপ্তাহে ৮ হাজার ১০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ মিয়ানমার থেকে এসেছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্টের মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) মো. জসিম উদ্দীন চৌধুরী।

টেকনাফ স্থলবন্দরে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল আমিন বলেন, মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আসার পরিমাণ বেড়ে গেলে সে দেশেও দাম বাড়িয়ে দেওয়া হতে পারে।

দেশের বাজারের দাম স্বাভাবিক রাখতে কয়েক দিনের মধ্যে মিয়ানমার থেকে আরও ১০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ টেকনাফ স্থলবন্দরে এসে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক এম এ হাসেম, এহতেশামুল হক, শওকত আলী চৌধুরী, মোহাম্মদ ফারুক, মো. জব্বার, মো. ইব্রাহিমসহ আরও কয়েকজনের কাছে ৮ টি ট্রলারে করে মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে ২৮ হাজার বস্তায় ৮০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ এসেছে।

ট্রলার থেকে পেঁয়াজের বস্তাগুলো খালাস করে ট্রাকে বোঝাইয়ের পর এসব ট্রাকে দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে পেঁয়াজ সরবরাহ করা হয়।

শুল্ক স্টেশন সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত ৮ হাজার ১০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ মিয়ানমার থেকে আমদানি হয়েছে।

এসব পেঁয়াজ আমদানি করেছেন ১০ থেকে ১২ জন ব্যবসায়ী। এর আগে মিয়ানমার থেকে সেপ্টেম্বরে ২ হাজার ৯৮৮ মেট্রিক টন, আগস্ট মাসে ৭৬৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশ মূলত ভারতের পেঁয়াজের ওপর নির্ভরশীল। সেখানে দাম বেড়ে গেলে এখনকার ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে থাকেন।

তবে মাঝেমধ্যে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক রাখতে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। যেকোনো সময় মিয়ানমারেও পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

টেকনাফ স্থলবন্দরে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পেঁয়াজ আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করলেও টেকনাফে সেটি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

ফলে, মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে ব্যবসায়ীরা তেমন বেশি লাভবান হচ্ছেন না।

টেকনাফ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্টের জিএম মো. জসিম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছেন।

পেঁয়াজ পচনশীল পণ্য হওয়ায় স্থলবন্দর থেকে সারাদিন এ পণ্য ট্রাকভর্তি করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশের বাজারে দাম স্বাভাবিক রাখতে এ প্রচেষ্টা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এইচএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *