সোমবার ১৭, জানুয়ারী ২০২২
EN

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ব্যবসায়ি রিপনকে গুমের হুমকি

এবার মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা কাপড় ব্যবসায়ি কামাল হোসেনকে (রিপন) অপহরণ এবং গুমের হুমকির খবর পাওয়া গেছে। আর এই হুমকির এসেছে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের লোকজনের পক্ষ থেকে।

এবার মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও রাজধানীর মিরপুরের  বাসিন্দা কাপড় ব্যবসায়ি  কামাল হোসেনকে (রিপন) অপহরণ এবং গুমের হুমকির খবর পাওয়া গেছে। আর এই হুমকির এসেছে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের লোকজনের  পক্ষ থেকে। ফলে  রিপনের পরিবারের সদস্যরা চরম উৎকণ্ঠা এবং আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। ব্যবসায়ি রিপন টাইমনিউজবিডিকে জানান, প্রায় ৪ বছর আগে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য বঙ্গবাজারের  আফজাল সুজ (জুতা) ব্যবসায়ি আফজাল হোসেনের সঙ্গে  তার ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব হয়। আর ওই দ্বদ্বের জের ধরে আফজাল হোসেন সন্ত্রাসীদের  মাধ্যমে রিপনের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেন। কিন্তু রিপন চাঁদা দিতে অপারগতা  প্রকাশ করেন। পরে ২০১১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আফজালের লোকজন জোরপূর্বক রিপনের বঙ্গবাজারের দোকান থেকে প্রায় ৭২ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে তার দোকানে তালা মেরে দেয়। তারা রিপনকে বলেন ২০ লাখ টাকা দিলে মালামাল ফেরত পাবে এবং দোকানটি খোলে দেয়া হবে। এই বিষয়টি নিয়ে  রিপন বঙ্গবাজার দোকান মালিক সমিতির লোকজনের মাধ্যমে এমপি আফজাল হোসেনের সঙ্গে অনেক দেন দরবার করেন। ব্যবসায়ি  রিপন জানান, এমপি আফজাল হোসেনের পক্ষ থেকে দফায় দফায়  নানা হুমকি এবং  নানা ভয়ভীতির ফলে তিনি মিরপুর মডেল থানায় ৪টি জিডি দায়ের করেন। ২০১৩ সালে ৩১ ডিসেম্বর জিডি নং-১১১৪,২০১৪ সালের  ৩০ জানুয়ারি জিডি নং-২১০০, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি জিডি নং-১০৩৭,গত ২১ এপ্রিল জিডি নং-১৬৩৯ দায়ের করেন। এই বিষয়ে ব্যবসায়ি রিপন গত বছর ২৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এ্যসোসিয়েশনে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। মিডিয়ায় ওই খবর প্রকাশের  পর এমপি আফজাল হোসেন এবং তার লোকজন আরো ক্ষিপ্ত হয়ে রিপনকে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। তিনি বলেন , এমপি আফজাল হোসেনের লোকজন (তাকে) রিপনকে  যেখানে পাবে, সেখান থেকেই ধরে নিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। এই ঘটনায় তিনি গত ৯ জানুয়ারি সিএমএম আদালতে হুমকি দাতা ২০ জনের বিরুদ্ধে ফৌজধারী দণ্ড বিধির ১০৭  ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-৩/২০১৪। এই মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন,আফজাল হোসেন,আবুল কাশেম ভূইঁয়া,আহম্মদ আলী, জহিরুল ইসলাম, আলমগীর,শাহআলম,সিরাজুল ইসলাম,দুলু মিয়া,ফারুখ খান,ইদ্রিস, স্বপন, শামীম প্রমুখ। এদিকে  নিরুপায় হয়ে রিপন গত ২৫ ফেব্রুয়ারি লুণ্ঠিত ৭২ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধারের জন্য ঢাকা সিএমএম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। সিআর মামলা নম্বর-৫৩। আদালত ওই দিনই শাহবাগ থানার অফিসার্স ইন চার্জকে ২১ এপ্রিলের মধ্যে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। নির্ধারিত ওই সময়ের মধ্যে পুলিশ তদন্ত  কার্যক্রম শেষ করে প্রতিবেদন  দাখিল না করায়, আদালত শাহবাগ থানা পুলিশকে আগামী ৪ মে পর্যন্ত সময় বেধে দেন। শাহবাগ থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম টাইমনিউজবিডিকে বলেন,তিনি গত ১ মে বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গবাজার সরেজমিন পরিদর্শন করেন। তিনি বাদীর লুণ্ঠিত মালামালগুলো রক্ষিত গোডাউন ঘুরে দেখেন এবং তালা মারা বাদীর ওই দোকানটি সনাক্ত করেন। তিনি আরও বলেন,বিষয়টি জটিল, উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা দরকার। আর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত  আগাম কোনো মন্তব্য করা উচিত হবে না। তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবেন বলে জানান। আফজাল হোসেন দেশের বাইরে থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। [b]ঢাকা, একে,২ মে(টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *