সোমবার ৬, ডিসেম্বর ২০২১
EN

মৃত বাবাকে ম্যাসেজ পাঠানোর উত্তর এল ৪ বছর পর!

সেখানে লেখা ছিল- আমি ব্র্যাড। নাহ আমি তোমার বাবা নই। কিন্তু শেষ চার বছরে প্রতিদিন তোমার পাঠানো মেসেজ আমার কাছে এসেছে।

একজন বাবা একজন সহকর্মী যিনি তাঁর বাচ্চাদের এবং নিজের পরিবারের স্ন্যাপশট সঙ্গে তার পকেট মুদ্রা প্রতিস্থাপিত হয়েছে।

মৃত বাবার নম্বরে নিয়মিত মেসেজ পাঠাতেন মেয়ে। উদ্দেশ্যে একটাই, বাবা মারা যাওয়ার কষ্ট ভুলে থাকা। এক নয়, দুই নয়, চার বছর ধরে নিয়মিত মেসেজ পাঠান তিনি।

তার পর একদিন ঠিকই মেসেজের জবাব চলে আসে! এতে যার পর নেই বিস্মিত হন ২৩ বছরের চেস্টিটি প্যাটারসন নামের ওই তরুণী।

‘‘ আমি চিরবিদায় নিচ্ছি না, আমার সন্তানের মধ্যে আমি বেঁচে থাকব বহুদিন ,,


বাবা-মা হচ্ছে ছায়ার মতো। বাবা-মা বেঁচে না থাকলেই কেবল বোঝা যায় কী হারিয়েছেন।


দক্ষিণ আমেরিকার আর্কানসাস এলাকার নিউপোর্টের বাসিন্দা বছর তেইশের চেস্টিটি প্যাটারসন দুর্ঘটনায় বাবাকে হারান। বাবার মৃত্যুতে এক অসীম শূন্যতা

তৈরি করেছিল তার মনে। জীবনযুদ্ধ যেন আরও বেশি কঠিন হয়েছিল তার জন্য। সেই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে উত্তর পাওয়া অসম্ভব জেনেও প্রতিদিন বাবার

নম্বরে মেসেজ করতেন চেস্টিটি। তার সেখানেই ঘটল মিরাকল। অজান্তেই এক বাবার ভরসা হয়ে উঠলেন তরুণী।

বাবার মৃত্যুর পর চার বছর ধরে প্রতিদিন বাবাকে মেসেজ পাঠিয়েছেন চেস্টিটি। এই কষ্ট তিনি কারও সঙ্গে ভাগাভাগি করতে পারেননি।

যেদিন ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর সুস্থ হয়ে উঠলেন চেস্টিটি, সেদিন আরও দীর্ঘ হয়েছিল বাবার উদ্দেশ্যে লেখা তার মনের কথা।

চেস্টিটি লিখেছিলেন- চার বছর হয়ে গেল- তুমি নেই। তবে এমন কোনো দিন নেই, যেদিন আমি তোমাকে মিস করি না। তোমাকে যখন আমায় সবচেয়ে দরকার ছিল, তখন তোমার পাশে থাকতে পারিনি, আমি সরি! কিন্তু একদিন নিশ্চয় আমরা একসঙ্গে বসে আমাদের ফেভারিট ম্যাচ দেখার সুযোগ পাব।

একদিন আচমকাই বাবার নম্বর থেকে মেসেজ পেলেন তরুণী। বিস্ময় ভরা চোখে মেসেজটি খোলেন চেস্টিনি। সেখানে লেখা ছিল- আমি ব্র্যাড। নাহ আমি তোমার বাবা নই। কিন্তু শেষ চার বছরে প্রতিদিন তোমার পাঠানো মেসেজ আমার কাছে এসেছে।

২০১৪ সালে গাড়ি দুর্ঘটনায় আমার একমাত্র মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। এর পর তোমার মেসেজই আমায় বেঁচে থাকতে সাহায্য করেছে। তোমার মেসেজ পেলে মনে হয় আল্লাহর বার্তা।’

প্রথমে নিজেও কিছুই বুঝে উঠতে পারেননি চেস্টিনি। কিন্তু তার পাঠানো মেসেজ যে এক বাবার বেঁচে থাকার রসদ হতে পারে তা ভেবেই এক অদ্ভুত অনুভূতি হয়েছে তার।

অপরিচিত দুই বাবা-মেয়ের কথোপকথন সোশ্যাল সাইটে ছড়িয়ে আবেগে ভেসে গেছেন নেটিজেনরা।

‘‘বাবা এমন একটি বট বৃক্ষ তা কেবল যে হারায় সেই বুঝে’’

এএস

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *