রবিবার ২, অক্টোবর ২০২২
EN

মীর কাশেমের বিরুদ্ধে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা হত্যার বর্ণনা

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে ১৭তম সাক্ষী হাসিনা খাতুন কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিম হত্যার বর্ণনা দিয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে ১৭তম সাক্ষী হাসিনা খাতুন কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিম হত্যার বর্ণনা দিয়েছেন। বুধবার চেয়ারম্যান বিচারক ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষী বলেন,মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল ২৯ বছর। একাত্তরে আমাদের পরিবারের অনেকেই মুকিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। তার মধ্যে আমার ফুপাতো ভাই জসিমও ছিলো। সে একজন কিশোর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে। তিনি বলেন,জসিম আমাদের চট্টগ্রাম শহরের ব্যাপারী পাড়ার বাসায় নিয়মিত আসা-যাওয়া করতো। একাত্তরের রমজানের ঈদের দিন জসিম আমার কাছে পোলাও কোর্মা খাওয়ার আব্দার করে। আমার সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও অনেক কষ্টে তাকে পোলাও কোর্মা খাইয়েছিলাম। খাওয়ার পর জসিম ‘আপনি চিরদিন পোলাও কোর্মা খাবেন’ বলে দোয়া করেন। সাক্ষী বলেন,আমার বাসা থেকে বিদায় নেয়ার সময় জসিম বলল,আপা দোয়া করবেন। আমরা যেন কামিয়াবী হই। আমরা যেন আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারি। হাসিনা বেগম বলেন,দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমি অস্থির চিত্তে বিভিন্ন জায়গায় জসিমের খোঁজ করতে থাকি। এক পর্যায়ে ন্যাপ নেতা অ্যাডভোকেট শফিউল আলমের সাথে দেখা করি। জসিমের কথা বলতেই তিনি জিজ্ঞেস করেন জসিমের বাড়ী কি সন্দ্বীপে? আমি বলি হ্যাঁ। তখন শফিউল আলম বলেন,'ডালিম হোটেলে' তাকে এবং জসিমকে একই কক্ষে আটক রাখা হয়েছিল। আমাকে এবং জসিমকে ওই কক্ষে আটক করে মীর কাশেম আলীর নেতৃত্বে আল-বদররা নির্যাতন করে। শফিউল আলম আরও বলেন,তখন কক্ষটি বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। জসিমের চোখ বাঁধা ছিল। জসীমকে ফেলে যাবার কিছুক্ষণ পর অনেক কষ্টে চোখের বাঁধন খুলে জসীমকে মরণাপন্ন অবস্থায় দেখতে পাই। এরপর অল্পক্ষণের মধ্যেই জসীম মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। সাক্ষী বলেন,একথা শোনার পর আমি কান্নাকাটি করতে থাকি। এরপর শফিউল আলমের কথা মতো সাইফুদ্দিন খানের কাছে গেলে তিনিও একই কথা বলেন। জসিমের লাশটি কোথায় জানতে চাইলে তিনি বলেন,তার মৃত দেহটি পাবেন না,কারণ তাকে হত্যা করে মৃত দেহটি কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে। তিনি এ তথ্য কোথা থেকে পেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডালিম হোটেলে আটককৃত লোকদের খাবার সরবরাহকারী স্বপন নামে এক ছেলে তাকে এসব কথা বলেছে। হাসিনা খাতুন বলেন,এসব খবর পাওয়ার পর আমি আবেগে অনেক জায়গায় জসিমের লাশ খুঁজেছি,কিন্তু কোথাও তা পায়নি। রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি জেয়াদ আল মালুম সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সাক্ষীকে জেরা করেন আসামীপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আগামী ২৩ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। গত বছরের ১১ ডিসেম্বর থেকে মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। এর আগে গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে ১৪টি অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। [b]ঢাকা, জিই, ১৯ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ [/b]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *