সোমবার ১৭, জানুয়ারী ২০২২
EN

মসজিদের খাদেমকে পিটিয়ে দানবাক্স লুট

কাওয়ালী মিলাদ হলেই মোল্লা এমপি মসজিদে অতিথি হিসেবে আসেন। মসজিদের উন্নয়নে অনুদানও দিয়েছেন। কিন্তু তারই পোষা গুণ্ডাবাহিনী এসে মসজিদের উপর হামলা করলো, দানবাক্স লুট করলো, মাইক, তিনটি মাউথপিস, ব্যাটারি সব লুট করে

"কাওয়ালী মিলাদ হলেই মোল্লা এমপি মসজিদে অতিথি হিসেবে আসেন। মসজিদের উন্নয়নে অনুদানও দিয়েছেন। কিন্তু তারই পোষা গুণ্ডাবাহিনী এসে মসজিদের উপর হামলা করলো, দানবাক্স লুট করলো, মাইক, তিনটি মাউথপিস, ব্যাটারি সব লুট করে নিলো। সম্পদ লুটের কাজে বাধা দেয়ায় আমাকে বেধরক মারধর করা হলো"।

কথা গুলো বলছিলেন রাজধানীর পল্লবীর কালশীর বিহারী ক্যাম্পের বায়তুর রহমত জামে মসজিদের খাদিম মোহাম্মদ নাসিম। গত ৪ জুন শনিবার ভোরে পুলিশের উপস্থিতিতেই বিহারীদের ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগ ও দোকান লুট করে স্থানীয় দুষ্কৃতিকারীরা।

ভোর থেকে কালশীর বিহারিপল্লীতে শুরু হওয়া সংঘর্ষে দুর্বৃত্তদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি বায়তুর রহমত জামে মসজিদ। এ সময় দুর্বৃত্তরা বিহারী ক্যাম্প মসজিদের খাদিম নাসিমকেও মারধর করে। শুধু মারধর করেই ক্ষান্ত হয়নি মসজিদের জিনিসপত্রও লুট করে নিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা।

মোহাম্মদ নাসিম টাইমনিউজবিডি’কে বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে সন্ত্রাসীরা আমাকে বেধরক মারধর করেছে। মসজিদের মালামাল লুট করেছে। অথচ পুলিশ সন্ত্রাসীদের কিছুই বলেনি। উল্টা বিহারীদের উপর বৃষ্টির মতো গুলি চালিয়েছে পুলিশ।

কথাগুলো বলতে বলতে খাদিম মোহাম্মদ নাসিমের চোখ ছলছল করে উঠে। এক পর্যায়ে চোখের জল ধরে রাখতে না পেরে হাউমাউ করে কান্না জুড়ে দিয়ে বলতে থাকেন। বাপের জন্মেও এমন নিষ্ঠুরতা দেখিনিরে ভাই। কতোটা বিবেক বিবর্জিত হলে মসজিদের মালামাল লুট করা যায়। এখন তো চোরও মসজিদের চুরি করতে ঢোকে না।

খাদেম নাসিম বলেন, তাদের কবল থেকে (দুষ্কৃতিকারীরা) দুধের বাচ্চাও রেহাই পায় নি। পুড়ায় মাইরা ফ্যালাইলো। মহিলা-শিশু কাউরেই রেহাই দেয় নি।’

খাদেমের অভিযোগ, 'পুলিশ কি চাইলে তাগো বাঁচাইবার পারতো না? পুলিশ তাগো না বাঁচায়ে রাস্তার পাশে দাঁড়ায় দাঁড়ায় জুস খাইলো। আমাগোর সাথে তামাশা করলো'। পুলিশের ভূমিকায় খুব অসহায় বোধ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন খাদেম নাসিম।

সেলিম নামে এক বাঙ্গালী প্রত্যক্ষদর্শী টাইমনিউজবিডিকে বলেন, বিহারীদের সঙ্গে যখন স্থানীয় লোকজনের সংঘর্ষ বাঁধে, তখন কিছু ছেলে মসজিদে ঢোকার চেষ্টা চালায়। খাদিম নাসিম তাদের বাধা দিতে গেলে তারা খাদিম সাহেবকে মারধর করে এবং দানবাক্স, ব্যাটারি ও মাউথপিস নিয়ে চলে যায়।’

রিয়াজ নামে গুলিবিদ্ধ এক বিহারী টাইম নিউজবিডিকে বলেন, সন্ত্রাসীরা আইসা আমাগো যেমনে মারলো, আগুন লাগালো, ১০ জনরে পুইড়া, গুলি কইরা মাইরলো, তা এহনো বিশ্বাস করতে পারছি নে। এমন ঘটনার পরও সরকারী কোনো লোক আইলো না, বললো না ঘটনার তদন্ত হইবে, বিচার হইবে। আমাগো তবে কি করার আছে। কোথায় গেলে বিচার পামু।

উল্লেখ্য, পল্লবীর কালশীর বিহারিপল্লীতে ১৪ জুন ভোর থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে আগুনে পুড়ে ও গুলিতে নিহত হন একই পরিবারের নয়জনসহ মোট ১০ জন। দুষ্কৃতকারীরা বিহারিদের ঘর-বাড়ি ও দোকান-পাটে লুটপাট চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে।

ঢাকা, জেইউ, ২১ জুন(টাইমনিউজবিডি.কম)//এনএস // কেবি

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *