সোমবার ১৭, জানুয়ারী ২০২২
EN

রাজধানীতে ৪ স্তরের মোটরসাইকেল ছিনতাইকারী চক্র সক্রিয়

রাজধানীতে ৪টি স্তরে বিভক্ত হয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাই করছে একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র। এই চক্রের সাথে কিছু মোটরসাইকেল শো'রুমের মালিকের সংশ্লিষ্টতা থাকায় ছিনতাই করা মোটরসাইকেল চেনার সুযোগ থাকছে না

রাজধানীতে ৪টি স্তরে বিভক্ত হয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাই করছে একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র। এই চক্রের সাথে কিছু মোটরসাইকেল শো'রুমের মালিকের সংশ্লিষ্টতা থাকায় ছিনতাই করা মোটরসাইকেল চেনার সুযোগ থাকছে না।

গত ৬ জুলাই রাজধানীর মিরপুর মডেল থানাধীন এলাকার ইউসিবি ব্যাংকের সামনে থেকে একটি সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল ছিনতাইকারী দলকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

এঘটনায় মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাহউদ্দিন ও এসআই রাসেলের একটি টহল দল সেখানে রাতভর অভিযান চালায়। অভিযানে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য ছাদেক আকবরকে হাতেনাতে আটক করে ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ। তবে সাথে থাকা অপর দুই ছিনতাইকারী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

পরে ধৃত ছাদেক আকবরের দেয়া তথ্যানুযায়ী রাজধানীর সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল ছিনতাইকারীর একটি চক্রের মূল হোতা আশিকুর রহমান (৪০) কে গ্রেফতার করে পুলিশ।

তার দেয়া তথ্য মোতাবেক ৪ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি করা ২২৫টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

ছাদেক আকবর ও মূল হোতা আরিফুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের পর চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেড়িয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন মিরপুর জোনের ডিসি ইমতিয়াজ আহমেদ পিপিএম।

মঙ্গলবার দুপরে মিরপুর মডেল থানা মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাজধানীতে মোটরসাইকেল ছিনতাই ও চুরির একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন থেকে সক্রিয়। এই চক্রটি চার স্তরে ভাগ হয়ে মোটরসাইকেল ছিনতাই করে আসছে।

প্রথম স্তরে চক্রটির একটি গ্রুপ সরাসরি মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনার সাথে জড়িত থাকে। অপর একটি গ্রুপ ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর মূল কাগজপত্র বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করার চেষ্টায় থাকে। নইলে হুবহু নকল কাগজপত্র তৈরি করে।

অপর আরেকটি গ্রুপ চোরাই বা ছিনতাই করা মোটরসাইকেল ট্যাম্পারিং (রং ও ডিজাইন পরিবর্তন) এর কাজ করে।

চতুর্থ গ্রুপটি ট্যাম্পারিং করা মোটরসাইকেলগুলো ও সংগ্রহ করা মূল কাগজপত্রগুলো নিয়ে শো'রুমে যান। সেখানে লভ্যাংশের লোভ দেখিয়ে অথবা ভয় দেখিয়ে মোটরসাইকেলগুলো বিক্রি করে বলে জানান ডিসি ইমতিয়াজ।

জিজ্ঞাসাবাদে ছিনতাইকারী চক্রের মূল হোতা আরিফুল ইসলাম আরও জানিয়েছেন, অনেক শো'রুমের মালিক এই মোটরসাইকেল ছিনতাইকারী চক্রের সাথে জড়িত। একারণে অনেক সহজে চোরাই গাড়ী বিক্রি সম্ভব হচ্ছে। কাগজপত্র নিয়ে কোনো ঝামেলা থাকছে না। কাগজপত্র না থাকলেও শো'রুম মালিকদের পরামর্শে হুবহু নকল কাগজপত্র তৈরি করছে চক্রের সদস্যরা।

চক্রের মূল হোতা আরিফুলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার আশুলিয়া, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর ও যশোরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মূল সংগঠক ও ছিনতাইকারী চক্রের সাথে জড়িত আরো ১৩ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়।

এরা হলেন, মোস্তাফিজ (৩৮), ফজলুল করিম (২১), সরফা দালাল (৪০), মারুফ বিল্লাহ (২০), মনিরা পারভীন (২২), মীর আরিফুজ্জামান ভানু (৪০), নূর মোহাম্মদ ছোটন (২৭), শাহজাহান শেখ (২০), তরিকুল ইসলাম (৩২), হারুনুর রশিদ (২৮), মকবুল হোসেন (৪৫), ওয়াহিদুজ্জামান বাপ্পি (৪২) ও আনোয়ার হোসেন। চুরি হওয়া ২২৫টি মোটরসাইকেল ছাড়াও সহস্রাধিক গাড়ির মূল ও ডুপ্লিকেট কাগজপত্র, খুচরা যন্ত্রাংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ কিভাবে ছিনতাইকারী চক্রটিকে সনাক্ত করতে সক্ষম হলো জানতে চাইলে ডিসি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, মিরপুরের ইউসিবি ব্যাংকের সামনে এক লোকের চোরাই হওয়া গাড়ীর কাগজপত্র চায় ছিনতাইকারী চক্রের এক সদস্য। এ ঘটনায় ওই ব্যক্তি পুলিশকে খবর দিয়ে সেখানে আসতে বলেন। পরে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা মাফিক সেখানে অভিযান চালিয়ে ছাদেককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

ডিসি ইমতিয়াজ বলেন, রাজধানীতে আরও একটি চক্র সক্রিয়ভাবে ছিনতাই করে যাচ্ছে। তাদের কাছে অনেক চোরাই গাড়ী রয়েছে। তাদের ধরতে পুলিশী নজরদারী বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, খুব শিগগিরই আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাব। কেউ যাতে এ ধরণের কোনো চক্রের ফাদে পা দিয়ে মোটরসাইকেল না হারান। অথবা চোরাই যাওয়া মোটরসাইকেলের মূল কাগজ পত্র যেন কোনো চক্রের হাতে তুলে না দেন।

যেসব শো'রুমের মালিক ছিনতাইকারী ও চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির চক্রের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে খুব শিগগিরই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা, জেইউ, ৮ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *