মঙ্গলবার ৯, অগাস্ট ২০২২
EN

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি, বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে

রাজধানী ঢকার অদূরে সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় সেদিন ১ হাজার ১৩৪ জন পোশাককর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। মর্মান্তিক এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২ হাজার মানুষ। ভয়াল এই দুর্ঘটনায় সে সময় হত্যা ও ইমারত নির্মাণ আইনে দুটি মামলা হয়েছিল।

আজ থেকে ৬ বছর আগে ওই দুই মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। তবে বিচারকাজের খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি। ভবন মালিক সোহেল রানা ছাড়া সব আসামি এখন জামিনে রয়েছেন। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির দীর্ঘ ৯ বছর হয়ে গেল, এখনো নিভৃতে কাঁদে বিচারের বাণী।

এদিকে অভিযোগ গঠনের দীর্ঘ ৬ বছর পর এ বছরের ৩১ জানুয়ারি হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করা হয়। মামলার বাদী সাভার থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) ওয়ালী আশরাফ আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

গত ১৬ এপ্রিল তার জেরা শেষ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। আগামী ২৯ মে মামলাটির পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

অপরদিকে ভবন নির্মাণ আইনে করা মামলায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে কয়েকজন আসামি রিভিশন আবেদন করেন। তাদের মধ্যে ফ্যান্টম অ্যাপারেলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আমিনুল ইসলামকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন আদালত।

এ ছাড়া মামলার আসামি সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. রেফাতউল্লাহর পক্ষে গত বছরের ৭ নভেম্বর এক বছরের জন্য মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। এর কারণে অভিযোগ গঠনের ছয় বছর পরও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি।

হত্যা মামলা:
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকাল ৯টায় রানা প্লাজা ভবন ধসে পড়ে। এর নিচে চাপা পড়েন সাড়ে পাঁচ হাজার পোশাককর্মী। ওই দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আহত ও পঙ্গু হয়েছেন আরও অন্তত ২ হাজার শ্রমিক। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে দুই হাজার ৪৩৮ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

ওই র্ঘটনায় সাভার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওয়ালী আশরাফ ‘ভবন নির্মাণে অবহেলা ও ত্রুটিজনিত হত্যা’র অভিযোগে মামলা করেন। ২০১৫ সালের ২৬ এপ্রিল সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার বিজয়কৃষ্ণ কর ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ৫৯৪ জনকে। আর মামলার ৪১ আসামির মধ্যে ভবন মালিক সোহেল রানার বাবা আব্দুল খালেক, আবু বক্কর সিদ্দিক এবং আবুল হোসেন মারা গেছেন। এই তিনজনকে বাদ দিয়ে হত্যা মামলায় বর্তমানে আসামি রয়েছেন ৩৮ জন।

২০১৬ সালের ১৮ জুলাই ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ এস এম কুদ্দুস জামান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

ভবন নির্মাণ মামলা:
একই ঘটনায় ইমারত নির্মাণ আইন না মেনে ভবন নির্মাণ করার কারণে রাজউকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন সাভার থানায় মামলা করেন। ২০১৫ সালের ২৬ এপ্রিল সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার বিজয়কৃষ্ণ কর ভবনের মালিক সোহেল রানাসহ ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। মামলায় সাক্ষী করা হয় ১৩০ জনকে।

২০১৬ সালের ১৪ জুন ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। বর্তমানে ওই আদালতে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত একজনেরও সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি।

এই দুই মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা, মা মর্জিনা বেগম, সাভার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার হাজি মোহাম্মদ আলী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক (আর্কিটেকচার ডিসিপ্লিন) এ টি এম মাসুদ রেজা, প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসাইন, সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. রেফাতউল্লাহ, সাভার পৌরসভার সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাভার পৌরসভার সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম, লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আব্দুল মোত্তালিব, পৌরসভার সাবেক সচিব মর্জিনা খান, সাবেক সচিব মো. আবুল বাশার, ফ্যান্টম অ্যাপারেলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, নিউ ওয়েব বটমস লিমিটেডের এমডি বজলুস সামাদ ও ইথার টেক্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমান।

হত্যা মামলার বিষয়ে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি বিমল সমাদ্দার জানান, এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে আন্তরিক আছেন।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মামলার বিচারিক কার্যক্রম বিলম্বিত করছেন। তার পরও আশা করছি, বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মদ বলেন, ‘অভিযোগ গঠনের ছয় বছর পর হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করা হয়েছে। ইমারত নির্মাণ আইনের মামলাটি এক আসামির পক্ষে স্থগিত থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষের উচিত দ্রুত স্থগিতাদেশ নিষ্পত্তি করে মামলার কার্যক্রম চালু করা।’

এইচএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *