সোমবার ১৭, জানুয়ারী ২০২২
EN

রায়ের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় মানবতাবিরোধী অপরাধের ৫ মামলা

দীর্ঘদিনের অপেক্ষমান তালিকায় রাখা হয়েছে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের ৫ মামলার রায়। সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘ অপেক্ষমান (সিএভি) তালিকায় রাখা হয়েছে এই ৫ মামলা।

দীর্ঘদিনের অপেক্ষমান তালিকায় রাখা হয়েছে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের ৫ মামলার রায়। সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘ অপেক্ষমান (সিএভি) তালিকায় রাখা হয়েছে এই ৫ মামলা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আপিল বিভাগ ও ট্রাইব্যুনালে অপেক্ষমান এই পাঁচ মামলার রায় কবে হবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ফলে মাওলানা সাঈদী, মতিউর রহমান নিজামী, জাহিদ হোসেন খোকন ওরফে খোকন রাজাকার, মীর কাশেম আলী ও মোবারকের রায় ঘোষণা শেষ পর্যন্ত হবে তো- এমন প্রশ্নও এখন অনেকের মনে।

রায় ঘোষণার এই দীর্ঘসূত্রিতা ন্যায় বিচারের পথে কোন অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে কিনা সে বিষয়েও এখন সরব অনেকেই। তবে, প্রসিকিউসন ও আসামী পক্ষের আইনজীবীরা আশা করছেন এই ৫ মামলায় সঠিক রায় আসবে।

রায়ের জন্য অপেক্ষমান এসব মামলার মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও বিএনপি নেতা ফরিদপুরের নগরকান্দার পৌর মেয়র (পলাতক) জাহিদ হোসেন খোকন ও বাহ্মনবাড়িয়ার মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল-১-এ রায় অপেক্ষমাণ রয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনাল-২-এ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর মামলার রায় অপেক্ষমান রয়েছে।

এছাড়া, আপিল বিভাগে চূড়ান্ত বিচার শেষে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় ঘোষণার জন্য ১৬ এপ্রিল সিএভি রাখা হয়েছে। সিএভি রাখার পর ৫৪ দিন অতিবাহিত হচ্ছে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর মামলার রায় তিন দফায় সিএভি রাখা হয়। সর্বশেষ ২৪ মার্চ রায় ঘোষণার জন্য সিএভি রাখা হয়েছে। সিএভি রাখার পর ৭৬ দিন অতিবাহিত হচ্ছে।

একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনাল-১ বিএনপি নেতা জাহিদ হোসেন খোকনের বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণার জন্য ১৭ এপ্রিল এবং জামায়াতের নির্বাহী সদস্য মীর কাশেম আলীর মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে ৪ মে ও ২জুন মোবারক হোসেনের রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে।

বর্তমানে আপিল বিভাগে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের মামলার শুনানি চলছে। এখনও আপিল বিভাগে অধ্যাপক গোলাম আযম, আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আব্দুল আলিমের মামলার শুনানি শুরু হয়নি। ট্রাইব্যুনালে আরও চারটি মামলা এগিয়ে যাচ্ছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানান, “বিভিন্ন কারণে রায় ঘোষণা দেরি হতে পারে। আদালত যখন মনে করবেন তখনই রায় ঘোষণা করবেন। এটা বিচারপতিদের ওপর নির্ভর করছে। লোকে তো অনেক সময় না বুঝে অনেক কথাই বলে। আপীল বিভাগে একটিসহ ট্রাইব্যুনালে যে চারটি মামলা সিএভি রাখা হয়েছে আশা করি যথাসময়ে সেগুলোর রায় ঘোষণা করা হবে।”

আইন কমিশনের সদস্য এম শাহন আলম মনে করেন, “মানবতাবিরোধী মামলাগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ মামলা। সে কারণে সময় নেয়া হচ্ছে। সিএভি করার পর অনেক কাজ থাকে। রায় লেখা থেকে শুরু করে নানা ধরনের কাজ থাকে। সে কারণে হয়ত দেরি হতে পারে। আইন অনুযায়ীই রায় ঘোষণা করা হবে। আমার মনে হয় অতি সতর্কতার সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। বিশ্বাস করি শীঘ্রই রায় ঘোষণা করা হবে।”

আসামীপক্ষের আইনজীবী তাজুল ইসলাম জানান, ‍"‍এই মামলাগুলো পরিচালনা করার ক্ষেত্রে আমরা ট্রাইব্যুনালে যে সকল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক তথ্য-উপাত্ত্ব উপস্থাপন করেছি তা সঠিকভাবে পর্যালোচনা করতে হয়ত সময় লাগতে পারে। এতে সময় বেশি নিলেও আমি আইনজীবী হিসেবে অবাক হবাব মত কিছু মনে করি না। রায় কেন হচ্ছে না বা সময় কেন বেশি নিচ্ছে তা আদালত ভাল বলতে পারবে।

রায় বিলম্বের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কোন প্রভাব আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, “এ বিষয়ে রাজনৈতিক কোন ব্যাখা আমার কাছে নাই।"

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত চীফ প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী জানান, “জনমনের আকাংক্ষা আছে। তাই শীঘ্রই রায় ঘোষণা করা হোক। আমরাও জনগণের আকাঙ্খার সঙ্গে একমত। আশা করছি যে কোন দিন আপিল বিভাগ ও ট্রাইব্যুনালে মামলাগুলোর রায় ঘোষণা করা হবে। আপিল বিভাগ ও ট্রাইব্যুনালে নিয়ম অনুযায়ীই রায় ঘোষণা করা হবে।”

এ প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত জানান, “কেন রায় ঘোষণা করতে দেরি হচ্ছে তা একমাত্র বলতে পারেন আদালত। জনমনে বিভ্রান্তি হচ্ছে এটা ঠিক। জনগণের কাছে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে। আপিল বিভাগ ও ট্রাইব্যুনালে রায় যাই হোক না কেন সেগুলো দ্রুত ঘোষণা করা উচিত।”

ঢাকা কেএ, ১০ জুন(টাইমনিউজবিডি.কম)//কেবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *