বুধবার ৮, ডিসেম্বর ২০২১
EN

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদরাসায় হামলায় নিহতের ঘটনায় আটক ৮

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি মাদরাসায় হামলায় নিহতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনকে আটক করেছে এপিবিএন। শুক্রবার রাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি মাদরাসায় হামলায় নিহতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনকে আটক করেছে এপিবিএন। শুক্রবার রাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের পরিচয় জানানো হয়নি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক পুলিশ সুপার (এসপি) শিহাব কায়সার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এসপি জানান, এর আগে গতকাল শুক্রবার ভোরে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ জসিম নামের এক রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। শুক্রবার রাতভর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালানো হয়।

এদিকে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছয়জন নিহতের ঘটনায় উখিয়া থানায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

নিহত রোহিঙ্গারা হলেন- মাদরাসার শিক্ষক ও হাফেজ মো: ইদ্রীস (৩২), ইব্রাহীম হোসেন (২২), ছাত্র আজিজুল হক (২৬), ক্যাম্পের স্বেচ্ছাসেবক মো: আমীন (৩২), মাদরাসার শিক্ষক নুর আলম ওরফে হালিম (৪৫) ও মাদরাসার শিক্ষক হামিদুল্লাহ (৫৫)। এ ছাড়া নুর কায়সার (১৫) নামের আহত এক ছাত্রের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে নিহত মাদরাসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জানাজা ও দাফনকাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার ভোররাতে বালুখালী ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ‘এইচ’ ব্লকে অবস্থিত দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল ইসলামিয়াহ মাদরাসায় রোহিঙ্গা দুষ্কৃতকারীরা হামলা চালালে মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পাশের মসজিদে গিয়ে আশ্রয় নেন। হামলাকারীদের হাত থেকে মসজিদে আশ্রয় নিয়েও রেহাই পাননি তারা। হামলাকারী রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা মসজিদে আশ্রয় নেয়া দুজনকে হত্যা করে।

এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, রোহিঙ্গাদের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে এই নিহতের ঘটনা ঘটে। পরে ক্যাম্পে দায়িত্বরত এপিবিএন পুলিশ মাদরাসায় হামলার কথা নিশ্চিত করেন।

৮ এপিবিএন-এর অধিনায়ক এসপি শিহাব কায়সার জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে উখিয়া বালুখালী ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল ইসলামিয়াহ মাদরাসায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় গোলাগুলি এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলে চার রোহিঙ্গা নিহত হন। এ সময় আহত হন আরো ১০ থেকে ১২ জন। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে আরো দুজনের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ময়নারঘোনা পুলিশ ক্যাম্প-১২-এর সদস্যেরা ওই মাদরাসা ও আশপাশের এলাকায় ব্লকরেইড পরিচালনা করে আসছে এবং অন্যান্য ক্যাম্প এলাকায়ও একইসাথে ব্লক রেইড পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিহাব কায়সার।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে ৮ এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মোহাম্মদ কামরান হোসেন জানান, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর বালুখালী ১৮ নম্বর ক্যাম্পের এইচ-৫২ ব্লকে অবস্থিত দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়াহ মাদরাসায় রোহিঙ্গা দুষ্কৃতকারীরা হামলা চালায়। ওই হামলায় মাদরাসায় অবস্থানরত চারজন রোহিঙ্গা সদস্য নিহত হন। এ ঘটনার খবর পেয়ে ময়নারঘোনা এপিবিএন পুলিশ ক্যাম্প-১২-এর সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরো দুই রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়।

মোহাম্মদ কামরান হোসেন আরো জানান, নিহত ব্যক্তিদের সবাই মাদরাসার শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী। তারা গুলিবিদ্ধ এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ একটি দেশীয় লোডেড ওয়ান শুটারগান, ছয়টি গুলি ও একটি ছুরিসহ একজনকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয়। তার নাম মুজিব বলে জানা গেছে।

অপরদিকে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আরো এক রোহিঙ্গাকে আটক করেছে ১৪ এপিবিএন। তবে তার পরিচয় এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ। মুহিবুল্লাহ হত্যায় এর আগে আরো পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

এবিএস

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *