শনিবার ৪, ডিসেম্বর ২০২১
EN

রহস্যময় আকাশযান, সুরাহা করতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে বেশ কয়েকবার রহস্যময় আকাশযানের (ইউএফও) উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। দেশটির নৌবাহিনীর পাইলটদের তোলা কয়েকটি ভিডিও বেশ আলোচনায় এসেছিল। তাঁদের ধারণামতে, এগুলো ভিনগ্রহবাসীর আকাশযান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার বলেছে, শনাক্ত হওয়া এসব আকাশযান এলিয়েন বা ভিনগ্রহবাসীর হওয়ার কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে রহস্যময় এসব আকাশযান কোথা থেকে এসেছে, সেই বিষয়েও ব্যাখ্যা দিতে পারেনি ওয়াশিংটন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে বেশ কয়েকবার রহস্যময় আকাশযানের (ইউএফও) উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। দেশটির নৌবাহিনীর পাইলটদের তোলা কয়েকটি ভিডিও বেশ আলোচনায় এসেছিল। তাঁদের ধারণামতে, এগুলো ভিনগ্রহবাসীর আকাশযান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার বলেছে, শনাক্ত হওয়া এসব আকাশযান এলিয়েন বা ভিনগ্রহবাসীর হওয়ার কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে রহস্যময় এসব আকাশযান কোথা থেকে এসেছে, সেই বিষয়েও ব্যাখ্যা দিতে পারেনি ওয়াশিংটন।

দেশের আকাশে রহস্যময় আকাশযানের আনাগোনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা একটি গোপন তদন্ত পরিচালনা করেছেন। ২৫ জুনের মধ্যে এ তদন্ত প্রতিবেদন মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেওয়া হতে পারে। তার আগের তদন্তের কিছু ফলাফল দেশটির সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের হাতে এসেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (০৩ জুন) এটা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। ওই প্রতিবেদনের বরাতে আজ শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপি রহস্যময় এসব আকাশযানের বিষয়ে মার্কিন সরকার ও গোয়েন্দাদের মতামত জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জ্যেষ্ঠ একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমে এ গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ফলকে প্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, রহস্যময় আকাশযানের ঘোরাঘুরি মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের কোনো গোপন প্রযুক্তির পরীক্ষা নয়, এটা নিশ্চিত।

বিগত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে রহস্যময় আকাশযানের আনাগোনার ১২০টির বেশি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। তবে এসব আকাশযানের উৎস ও কার্যক্রম সম্পর্কে দেশটির গোয়েন্দা প্রতিবেদনে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে এ বিষয়ে বিদ্যমান রহস্যের জাল ভেদ করাও সম্ভব হয়নি।

সরকারের জ্যেষ্ঠ ওই কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, এসব আকাশযান ভিনগ্রহ থেকে এলিয়েনরা পাঠিয়েছে, গোয়েন্দা তদন্তে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য–প্রমাণ মেলেনি। যদিও এমন প্রমাণ খুঁজে পাওয়াও কঠিন।

সরকারের অন্য একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, রহস্যময় আকাশযানের উপস্থিতি নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দাদের মধ্যে দিন দিন উদ্বেগ বাড়ছে। তাঁদের অনেকেই মনে করছেন, এর মধ্য দিয়ে চীন কিংবা রাশিয়া গোপনে হাইপারসনিক প্রযুক্তির পরীক্ষা চালাচ্ছে।

গত বছর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছিল। এসব ভিডিও মার্কিন নৌবাহিনীর পাইলটদের ধারণ করা। ভিডিওতে দেখা যায়, রহস্যময় আকাশযান যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে সামরিক আকাশযানকে পাল্লা দিচ্ছে। তবে এসব ভিডিওর রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হয়নি। এমনকি ওই সময় সরকার কিংবা সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পরে এসব ভিডিও নিয়ে তদন্তে নামেন মার্কিন গোয়েন্দারা।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে গত মাসে একটি টিভি শোতে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, ‘প্রকৃত সত্য সম্পর্কে আমরা আসলেই কিছু জানি না। তিনটি ভিডিও ফুটেজে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে উড়তে দেখা এসব রহস্যময় যান আসলে কী, সেটা আমরা এখনো জানি না।’

তবে প্রকাশিত এসব ভিডিওতে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে রহস্যময় আকাশযানের আনাগোনাকে ওই সময় দেশটির সামরিক বাহিনী ইউএফও বলে উল্লেখ করেনি। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে একে ‘আকাশে অজানা ঘটনা’ বলা হয়েছিল।প্রথম আলো

এমবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *