মঙ্গলবার ৩০, নভেম্বর ২০২১
EN

শীতের সকালে গ্রামের স্মৃতি কথা

নিশি যখন ভোর হবে শীতের সকালে তুমি কি চাদর নিয়ে সামনে এসে দাড়াবে-? যখন সুখ তারা গুলো নিভে যাবে,ফিরে আসবে কুয়াশার চাদরে মোড়ানো নতুন একটা দিন।

নিশি যখন ভোর হবে শীতের সকালে তুমি কি চাদর নিয়ে সামনে এসে দাড়াবে-? যখন সুখ তারা গুলো নিভে যাবে,ফিরে আসবে কুয়াশার চাদরে মোড়ানো নতুন একটা দিন।

মীতের সময়টাতে একটু বারতি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে দিগন্তজোড়া সরিষা ফুলে মৌমাছির আনাগোনা। মাঠে মাঠে সারি সারি সরিষাক্ষেত ভরে গেছে হলুদ ফুলে ফুলে। মাঠে নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারনা হচ্ছে। দেখে দর্শনার্থী ও কৃষকদের মন ভরে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দৃশ্যের সাথে জড়িয়ে আছে শীতকালের গ্রাম বাংলার দৃশ্য, কুয়াশাঘন প্রান্তর সীমিত দৃষ্টি এসব কিছুই আমার সোনার বাংলার অপরু পসৌন্দর্যের চাদরে আবৃত করা মহান রবের অপার সৃষ্টি ।

আমার জিবনে অধিকংশ সময় গুলো ছোটবেলা থেকে গ্রামেই কাটানো হয়েছে আর শিতকাল মানেই স্মৃতির পাতা থেকে উঁকি দেয় গ্রামের সেই দৃশ্যের কথা। শহর আর গ্রামের শীতের সকালের চিত্র ভিন্ন, শহরের তুলনায় গ্রামে শীতের প্রকোপ একটু বেশি।গ্রামের মানুষের ভালোবাসা পরিবারের ফোন আর মা বাবার সাথে একটু সাক্ষাৎ করার জন্য তাছাড়া শীতের পিঠাখাওয়ার সুযোগটা হাত ছাড়া করলাম না।সব কিছু ফেলে রেখে ঘুরে আসলাম গ্রামের বাড়ি থেকে।

কনকনে শীতের সকালে ঠান্ডা এক গ্লাস খেজুর রস শরীরে এনে দিবে সজীবতা, গ্রামের শীতকালের সকালটা খেজুর রস ছাড়া যেন জমেই না।আমার গ্রামের বাড়ি রাজধানী ঢাকা হতে ২৭৩ কিঃমিঃ দূরে বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের জেলা সাতক্ষীরা সবুজে ঘেরা, শহর থেকে ৩ কিঃ মিঃ দূরে আমাদের ছোট্ট গ্রাম রুদ্রপুর।

প্রবেশ করতেই আপনার চোখে পড়বে গ্রামের মেঠো পথ আর পিচ ঢালা সরু রাস্তা যার দুপাশে সারি সারি খেজুর গাছ আর সবুজেঘেরা চারপাশে শস্যফুলের ক্ষেত দেখে মনে হবে কোন শিল্পের তুলিতে আকা ছবি। খেজুর গাছের বিথীকায় ঝুলে থাকা মাটির তৈরী হাড়ি সে এক অপূর্ব দৃশ্য।শীতের এই সময়ে গ্রামের বাড়িতে জমে ওঠে খেজুর রস আর গুড় দিয়ে নানা পদের পিঠা বানানোর ধুম।

ভাপা,পুলি,সিদ্ধপুলি,মালপোয়া,কুলি আর রসের চিতায়ের মত বহু রকম পিঠা। আর লোভনীয় সেই মৌ মৌ মুহুর্তে পায়েসের ঘ্রাণে মোহিত হয় গ্রামের শীতের পরিবেশ।যেন তার মজাই আলাদা আত্মীয় স্বজন আর শহর থেকে ছুটে আসা মানুষের আনান্দে মুখরিত হয় প্রায় প্রতিটি বাড়ি ।

শীতের এ সময় গুলো নতুন নতুন ফলমুল আর শাকসবজীতে ভরে ওঠে গ্রামের মাঠ গুলো।কুয়াশা ঘেরা গ্রামের মেঠোপথে হাটতে যাওয়ার অনুভূটিই একটু আলাদা। ঘাসের উপর শিশিরের ছোয়া আর সূর্যের কিরণ। দুপুর গড়িয়ে বিকালে মাঠের দৃশ্য পাল্টে যায় যখন গাছি ভাই কাধে করে মাটির তৈরী হাড়ি নিয়ে যেতে থাকে খেজুর গাছ কাটতে।

এমন করে একদিন আমিও হাটতে শুরু করে দিলাম মাঠের দিকে ইচ্ছে পূরণ করার জন্য, সেটা হলো গাছি ভাই হবো,গাছিদের মত করে খেজুর গাছ কাটবো মেঠো পথে যেতে যেতেই দেখা মিললো এক গাছি ভাইয়ের সাথে কথা বলে আমিও হলে গেলাম কিছু সময়ের জন্য গাছি ভাই।শুরু করে দিলাম খেজুর গাছ কাটা এমন সব অনুভূতির কথা গুলো লিখে বা বলে শেষ করার নয়।যা আজো খুব মিস করি এমন স্মৃতি গুলো হয়তো আর কখনো ফিরে পাবোনা।সেই অনুভূতি গুলো খুব যত্নকরে রেখে দিয়েছি স্মৃতির পাতায়।

তবে আসল সৌন্দর্য দেখতে হলে আপনিও যেতে পারেন গ্রামে। কুয়াশার চাদরে আবৃত করে থাকা গ্রামীন দৃশ্য ধরা পড়া সকালের মিষ্টি রৌদ্রময় সময়ের অপেক্ষা করার অনুভূতি গুলো। আর মিষ্টি রৌদ্রময় সকালে বসে গুড় দিয়ে মুড়ি খাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়বে।

বিশেষ করে গ্রামের কৃষকরা আনান্দে মেতে ওঠে নতুন ফসল ঘরে তোলার জন্য।শীতকে উপেক্ষা করে আনান্দের সাথে কাজ করে তবে এই শীতে গ্রামের মানুষ গুলোকে কষ্ট পোহাতে হয়।গ্রামের অধিকাংশ মানুষ গরিব।অনেকের শীতের কাপড় থাকেনা। আগুন জ্বলে তারা সকালের শীতকে বিদায় দেন।

শীতের এমন সব অনুভূতির জন্য আপনিও ঘুরে আসুন গ্রাম থেকে। কারণ শীতের সকালের সৌন্দর্য ও মাধুর্যের সন্ধান পেতে হলে যেতে হবে গ্রামে।সেখানে প্রকৃতি তার আসল রুপটি উজাড় করে দিয়েছে।

লেখকঃ আব্দুল কাদের রুহানী। শিক্ষার্থী,ইসলামী ইউনিভার্সিটি (ruhanibiu@gmail.com)


এএস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *