শুক্রবার ৩, ডিসেম্বর ২০২১
EN

সেই তিন বোনকে দেওয়া হলো দাদির জিম্মায়

রাজধানীর আদাবর থেকে নিখোঁজ হওয়া সেই তিন বোনকে যশোর থেকে উদ্ধারের পর আদালতের নির্দেশে তাদের দাদির জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর আদাবর থেকে নিখোঁজ হওয়া সেই তিন বোনকে যশোর থেকে উদ্ধারের পর আদালতের নির্দেশে তাদের দাদির জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। 

শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিভানা খায়ের জেসি এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, শনিবার বিকালে সাধারণ ডায়েরির মাধ্যমে তিন বোনকে ঢাকার নিভানা খায়ের জেসির আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় তাদের দাদির জিম্মায় নেওয়ার আবেদন করলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন এবং মুচলেকা দেওয়ার শর্তে তিন বোনকে তাদের দাদির জিম্মায় দেওয়ার আদেশ দেন আদালত।

তিন বোনরা হলেন, রুকাইয়া আরা চৌধুরী (২১), জয়নব আরা চৌধুরী (১৯) ও খাদিজা আরা চৌধুরী (১৭)।

গত ১৮ নভেম্বর বেলা ১১টার দিকে মুহাম্মদপুর বাসা থেকে এই তিন বোন নিখোঁজ হন। পরদিন শুক্রবার তিন বোনকে যশোর সদর উপজেলার চাঁদপাড়া পশ্চিমপাড়ায় তাদের বাবার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।

তাদের উদ্ধারের পর যশোর পুলিশের মুখপাত্র ডিবি ওসি রুপণ কুমার সরকার জানান, শুক্রবার যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই আনসারুল হক ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে যশোর সদর উপজেলার চাঁদপাড়া পশ্চিমপাড়া হতে ভিকটিম রুকাইয়া, জয়নব ও খাদিজাকে উদ্ধার করেছে। তাদের বাবা রফিকুজ্জামান ও মা মৃত তাসনিম আরা চৌধুরী।

ডিবি ওসি রুপণ কুমার সরকার জানান, উদ্ধারকৃত ভিকটিমরা তাদের বাবা মায়ের সঙ্গে উত্তরা লেকসিটি কনকর্ডে ভাড়া বাসায় থাকত। ২০১২ সালের দিকে তাদের বাবা-মায়ের মধ্যে ঝগড়া হলে তাদের বাবা যশোর চলে আসেন এবং ভিকটিমরা মায়ের সঙ্গে ঢাকায় থেকে যায়।

তিনি জানান, ভিকটিমদের বাবা রফিকুজ্জামান স্কুল শিক্ষক ছিলেন। ২০১৩ সালের ২৮ আগস্ট ভিকটিমদের মা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে ভিকটিম রুকাইয়া আরা চৌধুরীকে লালন-পালনের দায়িত্ব নেন তার খালা সাজিয়া নওরিন চৌধুরী এবং ভিকটিম জয়নব আরা চৌধুরী ও খাদিজা আরা চৌধুরীর লালন-পালনের দায়িত্ব নেন আরেক খালা সামিয়ারা চৌধুরী। ভিকটিমদের লালন-পালনের এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে মুহাম্মদপুর বাসা থেকে তিনজন ভিকটিম নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় সাজিয়া নওরিন আদাবর থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করেন।

ডিবি ওসি জানান, ভিকটিমদের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে জানা যায়, তাদের বাবা-মা আলাদাভাবে বসবাসের পর হতে ২০১২ সালের পর তাদের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া তাদের ওপর অত্যাচার করা হতো। তাই ভিকটিম তিনবোন পরামর্শ করে মুহাম্মদপুর থেকে পালিয়ে যশোরে বাবার বাড়ি চলে আসে।

এদিকে এই তিন বোন নিখোঁজ হওয়ার পরই টিকটকে আসক্ত হয়ে প্রলোভনে বাসা থেকে পালিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন উঠে।

ওসি রুপণ কুমার সরকার জানান, ভিকটিমদের বাবা এখন প্যারালাইজড ও শয্যাশায়ী। বাবার বাসায় এই তিন বোন এসে অবস্থান করছিলেন। তারা টিকটক আসক্ত- এই তথ্য সঠিক নয়। কারণ তাদের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনও নেই।

এমআর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *