বুধবার ৮, ডিসেম্বর ২০২১
EN

স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর উপায়!

সৌন্দর্য এবং স্বাস্থ্য রক্ষায় আমাদের বিশেষ মনোযোগ থাকলেও কোনো এক অদ্ভুত কারণে নিজের স্তনের স্বাস্থ্যের প্রতি বেশীরভাগ নারীরই তেমন উৎসাহ দেখা যায় না।

সৌন্দর্য এবং স্বাস্থ্য রক্ষায় আমাদের বিশেষ মনোযোগ থাকলেও কোনো এক অদ্ভুত কারণে নিজের স্তনের স্বাস্থ্যের প্রতি বেশীরভাগ নারীরই তেমন উৎসাহ দেখা যায় না। অথচ শরীরের আর দশটি অঙ্গের মতো স্তনের যত্ন নেওয়াটাও জরুরী।

বিশেষ করে ৩০ বছর বয়সের পর আমাদের জীবনযাত্রা এবং স্বাস্থ্যগত পরিবর্তনের কারণে স্তনের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করাটাও হয়ে পড়ে জরুরী। জেনে নিন স্তনের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবশ্য করণীয় কিছু কাজ।

আসুন জেনে নিই এই রোগ থেকে বাঁচতে কী করবেন-

১. তাজা ফল ও ফ্ল্যাভোনয়েড যুক্ত শাকসবজি খেলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। ফ্ল্যাভোনয়েডের উপশাখা, ফ্ল্যাভোনলস, ফ্ল্যাভোনস কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রণ করে। আর বেগুন, টমেটো, গোলমরিচ, আপেল, ব্রকোলি স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

২. মা যদি তার শিশুকে এক বছরের বেশি সময় ধরে স্তন্যপান করায়, তা হলে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। ব্রেস্ট মিল্কে আলফা ল্যাক্টালবুমিন ও ওলিক অ্যাসিড থাকে, যা কোষগুলোর অস্বাভাবিক আচরণ ক্ষমতাকে রোধ করে।

৩. নিয়মিত শরীরচর্চা করলে দূরে থাকে স্তন ক্যান্সার। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন শরীরচর্চা করলে ২৫-৩০ শতাংশ ঝুঁকি কম থাকে।

৪. যেসব নারী অতিরিক্ত ধূমপান করেন, তাদের স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভবানা বেশি থাকে।

৫. অতিরিক্ত ওজন বেড়ে গেলেও হতে পারে স্তন ক্যান্সার। তাই অতিরিক্ত ওজন থাকলে অবশ্যই তা কমিয়ে ফেলতে হবে।

৬. অতিরিক্ত মদ্যপান করলেও হতে পারে স্তন ক্যান্সার। যেসব নারী প্রতিদিন ৫-১২ গ্লাস মদ খান, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি থাকে।

৭. যেসব নারী জন্ম নিয়ন্ত্রণের ওষুধ খান, তাদের স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে নারীর জন্য জরুরী কিছু কাজ

১. ব্যবহার করুন সঠিক মাপের ব্রা: আরামদায়ক এবং স্বাস্থ্যকর ব্রা ব্যবহার করুন এবং অবশ্যই সঠিক মাপের ব্রা ব্যবহার করুন। সময়ের সাথে ব্রা সাইজ চেঞ্জ হতে পারে এ কারণে এক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরী।

২. মাঝে মাঝে ব্রা ছাড়াই থাকুন: বাড়িতে ব্রা ছাড়াই থাকার চেষ্টা করুন। এতে আপনার শরীর অনেকটা শান্তি পাবে। মাঝে মাঝে স্পোর্টস ব্রা পরেও থাকতে পারেন।

৩. মাসাজ করুন: শুধু হাত-পা নয়, রক্ত চলাচল বজায় রাখতে মাঝে মাঝে স্তন মাসাজ করতে পারেন।

৪. নিজে থেকেই পরীক্ষা করুন: নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা করলে ক্ষতি কোথায়? কোনো রোগ আপনার স্তনে বাসা বেঁধেছে কিনা তা জানতে মাঝে মাঝে স্তন পরীক্ষা করুন নিজেই। স্তনে কোনো রকম পরিবর্তন দেখতে পেলে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

৫. স্বাস্থ্যকর খাবার খান: মধ্যবয়সে মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়। এ সময় থেকেই বেশি করে ফলমূল এবং শাকসবজি খাওয়া উচিৎ। এতে সারা শরীরের পাশাপাশি আপনার স্তন থাকবে সুস্থ।

৬. ময়েশ্চারাইজিং: সারা শরীরের ত্বকের মতো স্তনের ত্বকেও পড়তে পারে বয়সের ছাপ, বলিরেখা এবং কুঞ্চন। এ কারণে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করাটা জরুরী।

৭. ধূমপান নিষিদ্ধ: খুব কম সময়েই আমাদের বয়স বাড়িয়ে দিতে পারে ধূমপান। এর পাশাপাশি স্তন ঝুলে যাবার কারণও হয়ে দাঁড়াতে পারে ধূমপান। সুতরাং নিজের শরীর ভালো রাখতেই বাদ দিন এই বিশ্রী অভ্যাসটি। কমিয়ে ফেলুন ক্যাফেইন এবং অ্যালকোহল গ্রহণের মাত্রাও।

৮. ব্যায়াম করুন: বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরকে ফিট রাখতে করুন ব্যায়াম। স্তনের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য করতে পারেন এই ব্যায়ামগুলো। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে কমে যাবে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি।

৯. ম্যামোগ্রাম: একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর স্তন সংক্রান্ত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ডাক্তারের সাথে কথা বলে বার্ষিক স্তন পরীক্ষা বা ম্যামোগ্রাম করান যাতে কোনো রোগ থাকলে তা শনাক্ত করা যায় দ্রুত। তবে পারিবারিক ইতিহাস না থাকলে ম্যামোগ্রাম না করিয়ে সাধারণ ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে পারেন।

১০. থাকুন ইমপ্ল্যান্ট এবং কেমিক্যাল থেকে দূরে: ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট এবং এনহান্সিং কেমিক্যালগুলো আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্যই ভীষণ ঝুকিপুর্ণ। এগুলো থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকুন।

১১. ব্রেস্ট ফিডিং করান: আপনি মা হয়ে থাকলে অবশ্যই বাচ্চাকে সঠিক উপায়ে ব্রেস্ট ফিডিং করান। তা আপনার স্তনের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করবে।

১২. ঝুঁকির ব্যাপারে জেনে রাখুন: আপনার পারিবারিক ইতিহাসে কারও ব্রেস্ট ক্যান্সার আছে কিনা তা জানা থাকলে নিজের ঝুঁকির ব্যাপারেও আপনি সতর্ক থাকতে পারবেন।

১৩. স্তন সম্পর্কে সচেতনতা: কখনও যদি অস্বাভাবিক কোন পরিবর্তন স্তনে দেখতে পান যেমন চাকা অনুভব করা, কোন বিশেষ অংশ কুঁচকে যাওয়া। রক্ত অথবা পুঁজ বের হলে দেরি না করে অতিসত্বর ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

১৪. ঘরের কাজ করুন: স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি এড়াতে আরাম আয়েশে সময় নষ্ট না করে ঘরের কাজে নিজেকে নিযুক্ত করার চেষ্টা করুন। একজন নারীকে প্রতিদিন ২৫ মিনিট করে ঘরের কাজে হাত লাগাতে হবে, এতে ২০% -৩০% স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়। কর্মজীবী নারীরা ঘরের ছোটখাটো কাজগুলো নিজেই সেরে নিন।

১৫. কোলেস্টেরল কমানো: স্বাস্থ্যের জন্য অধিক পরিমাণ কোলেস্টেরল গ্রহণ স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বয়ে আনবে। কম কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার গ্রহণ করুন। কোলেস্টেরল শরীরে টিউমার গঠনে সহায়তা করে। সবুজ শাকসবজি, আঁশযুক্ত খাবার যেমন -রঙিন ফলমূল, সয়ামিল্ক, ছোটমাছসহ বিভিন্নধরনের সামুদ্রিক মাছ গ্রহণ করুন।

১৬. শিশুকে বুকের দুধ পান করান: যারা নতুন মা হয়েছেন তাদের মনে রাখতে হবে কমপক্ষে ছয়মাস পর্যন্ত বুকের দুধ পান করাতে হবে। অনেকে বাজার থেকে কিনে আনা দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ান যা শিশুর শারীরিক বিকাশ না হওয়ার পাশাপাশি মায়ের স্তন কান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

১৭. অস্বাস্থ্যকর কেমিক্যাল ব্যবহার ত্যাগ করুন: খাবার তৈরির সময় কৃত্রিম রং ব্যবহার করা যাবে না। বাইরের খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন যাতে কৃত্রিম রং না থাকে। এছাড়া ওভেনে খাবার গরম করার ক্ষেত্রে প্ল্যাস্টিক কন্টেইনার ব্যবহার পরিহার করুন। ব্যথানাশক ওষুধ পরিহার করুন। তথ্যসূত্র: জি নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *