রবিবার ২, অক্টোবর ২০২২
EN

সাংবাদিকের রহস্যজনক মৃত্যু, ওসি'র বিরুদ্ধে মামলা

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার ‘ছাদ থেকে পড়ে’ সাংবাদিক শাহ আলম সাগরের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ওই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলামসহ মোট ৭ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার ‘ছাদ থেকে পড়ে’ সাংবাদিক শাহ আলম সাগরের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ওই থানার অফিসার ইনচার্জ  (ওসি) রফিকুল ইসলামসহ মোট ৭ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন নিহতের বড় ভাই মোহাম্মদ খালেক মোল্লা। মামলার বাদী খালেদ মোল্লার আইনজীবী এম খুরশিদ আলম স্বপন জানান, 'বিচারক বাদীর জবানবন্দি নিয়েছেন। পরে আদেশ দেবেন।' তিনি আরও জানান, মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় ‘বাসস’ ‘মোহনা টিভি’ ‘বিজয় টিভি’সহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের ৮ প্রতিবেদককে স্বাক্ষী করা হয়েছে। মামলায় উত্তরা থানা পুলিশের ৩ কর্মকর্তার নাম রয়েছে। তারা হলেন, উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি রফিকুল ইসলাম, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন, এসআই হারুন। অপর আসামিরা হলেন, রিয়াজ রহমান, সুলতান মাহমুদ, এ এ বি সুজন ও মর্জিনা বেগম। বিচারক বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো আদেশ দেননি। উল্লেখ্য গত ২ মার্চ রাতে উত্তরা পশ্চিম থানার পেছন থেকে সাপ্তাহিক অপরাধ দমন পত্রিকার সাংবাদিক শাহ আলমের লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় থানা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে সাগরের মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতের স্ত্রীর অভিযোগ ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। তিনি অভিযোগ করেন, থানায় পুলিশের নির্যাতনে তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। এরপর ছাদ থেকে পড়ে যাবার নাটক তৈরি করা হয়েছে। সাগর মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পাটগাঁয়ের বাসিন্দা হাজী পানু মিয়ার ছেলে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে উত্তরায় থাকতেন তিনি। সাগরের মৃত্যুর ঘটনায় স্ত্রী থানায় মামলা করতে চাইলেও উত্তরা থানা মামলা গ্রহণ করেনি। তবে এ ঘটনায় উত্তরা থানার এসআই হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে ৪জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। পুলিশ বাদীর ওই মামলায় ৪জনকে আটকও করা হয়। তারা হলেন- অধ্যক্ষ বশির উদ্দিন, শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম, আনিসুর রহমান এবং কাঠমিস্ত্রি নজরুল ইসলাম। উত্তরা ট্রাস্ট কলেজের অধ্যক্ষ বশির উদ্দিনের সঙ্গে বিরোধ ছিল নিহত সাংবাদিকের। এরই সূত্র ধরে বিরোধের মীমাংসা করতে সাগরকে থানায় ডেকে নেয়া হয়েছিল বলে ওই সময় পুলিশের এক কর্মকর্তা টাইমনিউজবিডি'কে জানিয়েছিলেন। এ বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম টাইমনিউজবিডি'কে জানান, আমি এখনো মামলা হওয়ার বিষয়টি জানি না। আমার কাছে মামলার কোনো ডকুমেন্ট আসেনি। তবে কারা কারা মামলার আসামী তাদের নাম শোনার পর এই প্রতিবেদককে  ওসি বলেন, মামলার যে মূল হোতা অধ্যক্ষ বশির উদ্দিনের নাম গেলো কই?? আপনারা সাংবাদিকরা ইনভেস্টিগেশন চালান। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে কারা কারা জড়িত তাদের সবার নাম বেড়িয়ে আসবে। তবে আমি ওসি হিসেবে কিছু বলতে পারছি না। তবে পুলিশের করা মামলার তদন্তে অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ওসি বলেন, তদন্তের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করুন সব জানতে পারবেন। পুলিশ বাদী ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাহমুদ আলী জানান, পুলিশের দায়ের করা মামলার তদন্ত কাজ চলছে। তদন্ত শেষ না পর্যন্ত কিছু আগাম বলতে পারছি না। আর নতুন মামলার বিষয় সম্পর্কে এখনো কিছু জানেন না বলে জানান তিনি। ঘটনার সাথে নিজের সংশ্লিষ্টতা নেই দাবি করে উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন টাইমনিউজবিডি'কে জানান, মামলা হয়েছে কিনা আমি এখনো জানি না। তবে যে দিনের ঘটনা তখন আমি লাঞ্চে বাসায় গিয়েছিলাম। ঘটনার খবর শোনার পর আমি ও কয়েকজন সাংবাদিকসহ থানায় উপস্থিত হই। ঢাকা, জিইউ, ২৫ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসআর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *