বুধবার ৭, ডিসেম্বর ২০২২
EN

সোবহান ও পাকসেনারা ৪/৫ জনকে গুলি করে হত্যা করে

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা আবদুস সোবহানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৩তম সাক্ষী মো. আবদুল মতিন (৭৬) বলেছেন,মাওলানা সোবহান এবং পাকসেনারা চাঁদ আলী প্রামাণিকের বাড়িতে প্রবেশ করে ৪/৫ জনকে গুলি করে হত্যা করে

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা আবদুস সোবহানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৩তম সাক্ষী মো. আবদুল মতিন (৭৬) বলেছেন,মাওলানা সোবহান এবং পাকসেনারা চাঁদ আলী প্রামাণিকের বাড়িতে প্রবেশ করে ৪/৫ জনকে গুলি করে হত্যা করে।

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের বেঞ্চে এ সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। তার জবানবন্দি গ্রহণে সাহায্য করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ শিমন।

সাক্ষী বলেন,‘৭১ সালের ১১ মে বেলা ১১টায় আবদুস সোবহানসহ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ৮/৯টি গাড়ি আমাদের গ্রামের বাড়ি কুলনিয়ায় প্রবেশ করে। এরপর পাকিস্তানী বাহিনী চারদিকে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে এবং গ্রাম ঘিরে ফেলে। এসময় আমি,আমার ভাই সবুজউদ্দিন প্রামাণিক, ভাবী রাহাতুন্নেছা এবং বাড়ির অন্যান্য লোকজন মিলে বাড়ির পাশের বাঁশবাগানে আত্মগোপন করি।

আমি আমার ভাই-ভাবী ও প্রতিবেশী হাসিনার কাছ থেকে একটু দূরে আত্মগোপন করেছিলাম। এসময় দেখতে পাই,পাকিস্তানী সেনাবাহিনীরা হাসিনা এবং আমার ভাই-ভাবীর ওপর গুলিবর্ষণ করে। এতে হাসিনা এবং আমার ভাই ঘটনাস্থলে মারা যায়। এবং ভাবী রাহাতুন্নেছা আহত অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকে।’

সাক্ষী আরও বলেন, 'আহত অবস্থায় ভাবীকে স্থানীয় বামনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ৮-১০ দিন সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ভাবী মারা যান।’

সাক্ষী বলেন,‘আমাদের গ্রাম আক্রমণ করার পর মিলিটারিরা খোদাবকশের বাড়িতে যায় এবং সেখানে আশ্রয় নেয়া ওয়াজুদ্দিনকে গুলি করে হত্যা করে। দেগাদি বাজারে হরিপদ এবং বেণুকে হত্যা করে। এছাড়াও মাওলানা সোবহান এবং পাকসেনারা চাঁদ আলী প্রামাণিকের বাড়িতে প্রবেশ করে ৪/৫ জনকে গুলি করে হত্যা করে।’

পরে সাক্ষী আবদুল মতিনকে জেরা করেন আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান। আংশিক জেরা শেষে আদালত আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সোবহানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগে সাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদনে গণহত্যা,হত্যা,অপহরণ,আটক, নির্যাতন,লুটপাট,অগ্নিসংযোগ ও ষড়যন্ত্রসহ ৮ ধরনের ৯টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত থেকে সোবহানকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ঢাকা,কেএ, ১৬ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *