সোমবার ৬, ফেব্রুয়ারি ২০২৩
EN

সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: ওসমান ফারুক

ঢাকা: নির্বাচনের ফলাফল বাতিল, যৌথবাহিনীর হামলায় দলীয় নেতাকর্মী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ও অবৈধ সরকারের পতনে দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের পাশাপাশি সোমবার ভোর ৬টা থেকে বুধবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টার হরতালের ডাক দিয়েছে ১৮ দলীয় জোট।

[b]ঢাকা:[/b] নির্বাচনের ফলাফল বাতিল, যৌথবাহিনীর হামলায় দলীয় নেতাকর্মী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ও অবৈধ সরকারের পতনে দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের পাশাপাশি সোমবার ভোর ৬টা থেকে বুধবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টার হরতালের ডাক দিয়েছে ১৮ দলীয় জোট। আজ রোববার সন্ধ্যায় গুলশানের নিজ বাসভবনে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এ হরতাল কর্মসূচির ঘোষণা করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক। প্রহসনের নির্বাচনের ফলাফল বাতিল, সরকারকে পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনায় বসার দাবিতে এই আন্দোলন চলবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান ওসমান ফারুক। তিনি দাবি করেন, পাতানো নির্বাচনকে বর্জন করতে গিয়ে দেশের বিভিন্নস্থানে যৌথ বাহীনি ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ২১জনকে গুলি করে হত্যা করেছে। অসংখ্য আহত হয়েছে। যত সময় যাবে এই সংখ্যা আরো বাড়বে। সংবাদ সম্মেলনে ওসমান ফারুক অভিযোগ করেন, বিতর্কিত নির্বাচনে খুব কম সংখ্যক মানুষই ভোট দিয়েছেন। কিন্তু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সশস্ত্র আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীরা ফলাফল পরিবর্তন করে ভোটের হার বেশি দেখানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। ওসমান ফারুক বলেন, ভোটারবিহীন এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই এই সরকারের প্রতি গণঅনাস্থা জানিয়েছেন দেশবাসী।   ‘শৈত্য প্রবাহের কারণে ভোটারের উপস্থিতি কম হয়েছে’ সরকারের একজন মন্ত্রীর এমন মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ভোটারের ঘৃণার শৈত্যপ্রবাহের কারণে সরকারের হিমঘরে যাওয়ার অবস্থা হয়েছে। ওসমান ফারুক বলেন, বর্তমান আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার কর্তৃক অনুষ্ঠিত বিতর্কিত ১০ম জাতীয় নির্বাচনকে দেশবাসী ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছে। জনগন ভোট বর্জনের মাধ্যমে ঐতিহাসিক জবাব দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবির প্রতি অকুন্ঠ সমর্থনের কথা প্রকাশ পেয়েছে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে প্রহসনের নির্বাচন বন্ধে চলমান আন্দোলনে অংশগ্রহন করে স্বত:স্ফুর্তভাবে সাফল্যমন্ডিত করায় দেশবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীকে ১৮দলীয় জোট নেত্রী খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান তিনি। ওসমান ফারুক বলেন, জনগণ ভোট না দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের বাকশালী আচরণের দাতভাঙ্গা জবাব দিয়েছে। একটি অর্থহীন নির্বাচনের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সরকার কেবল ঘৃনাই কুড়িয়েছে। ভোটার এবং প্রার্থীবিহীন এক দলীয় ও আসন ভাগাভাগীর নির্বাচনী প্রহসনের নাটক মঞ্চয়ান কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে আজকের দিনটি জাতির কাছে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছত্রছায়ায় সরকারের ক্যাডারদের হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, গণআন্দোলনকে পরাভূত করতে যৌথবাহীনি দিয়ে বিরোধীদল দমনের ঘটনায় জাতির কাছে আওয়ামী সরকারের ঘৃণ্য রুপ প্রকাশ পেয়েছে। অবিলম্বে এই নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, বিরোধী দলের এই আন্দোলনে জনগনের বিজয় হয়েছে। জনগন ভোট দিতে কেন্দ্র যায়নি, ভোট প্রদান করেনি। তাই এই সরকার জনগণ থেকে সম্পূর্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জনগনের কোন সমর্থন এই সরকারের উপর নেই। গুন্ডা বাহীনি ও সন্ত্রাসীবাহীনির উপর নির্ভর করে এই সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। এই গণবিচ্ছিন্ন, স্বৈরাচারী ও জালিম সরকারের পতন সুনিশ্চিত। তিনি বলেন, প্রহসনের নির্বাচনে নগন্য ভোটার উপস্থিতি এই সরকারের প্রতি অনাস্থার বহিপ্রকাশ। এরমাধ্যমে নির্দলীয় সরকারের  অধীনে নির্বাচনের দাবি আরো সুদৃঢ় হলো। শৈত্য প্রবাহের কারনে ভোটারদের উপস্তিতি কম হয়েছে সরকারের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, শৈত্য প্রবাহ নয় জনগনের ঘৃনার শৈত্যপ্রবাহ সরকারকে হিমাগারে পাঠিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা সরকারকে বলে দিতে চাই প্রহসনের এই নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে সংলাপে বসুন । পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিন। ‘এই নির্বাচনে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে’ সরকারের এমন দাবীর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, এই নির্বাচনের আগেই ১৫৩ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য মতে নির্বাচনে গড়ে ৩ থেকে ৫ শতাংশ ভোটও পড়েনি। বহু লোক হত্যা করা হয়েছে বহু কেন্দ্র বন্ধ হয়েছে। এরপরও যদি সরকার মনে করে জনগণ তাদেরকে ম্যান্ডেট দিয়েছে তাহলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। এই নির্বাচনে ফলাফল আমরা গ্রহন করি না। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য অচিরেই বিভিন্ন দলের সাথে আলোচনায় বসতে হবে। এই সরকারকে অবৈধ সরকার, এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার, জনগনের কাছ থেকে ট্যাক্স নেয়ার কোন নৈতিক অধিকার নেই। সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশ্বের কোন দেশ এই নির্বাচনে পযবেক্ষক না পাঠালেও ভারত বিশ্বের সবচেয়ে গণতান্ত্রিক দেশ হয়েও পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছে যা গ্রহণযোগ্য নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *