সোমবার ১৭, জানুয়ারী ২০২২
EN

সংসদ সদস্য পদ হারাতে পারেন নিজাম হাজারী

নির্বাচনীহলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেয়ায় সংসদ সদস্য পদ (এমপি)হারাতে পারেন দশমসংসদ নির্বাচনে ফেনী-২ আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী

নির্বাচনীহলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেয়ায় সংসদ সদস্য পদ (এমপি)হারাতে পারেন দশমসংসদ নির্বাচনে ফেনী-২ আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী। এছাড়াও অস্ত্র মামলায় সাজা ভোগেজালিয়াতিসহ বিভিন্ন  অভিযোগের কারণে সংসদ সদস্য পদ হারাতে পারেন তিনি। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফেনীর বহুল আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা জয়নাল হাজারীরতৎকালীন স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য নিজাম হাজারী। জয়নাল হাজারীর স্বেচ্ছায়রাজনৈতিক নির্বাসনের পর উত্থান হয় তার। দখলে নেন ফেনীর সব ক্ষমতা। এককআধিপত্য বিস্তার করেন তিনি।

ফেনীর বালুমহাল, প্রশাসন, বাসস্ট্যান্ড, সরকারি-আধাসরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সবখানেই তার দাপট। কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই নিজামহাজারী শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। বিগত তিন বছরে তার সম্পদ   বেড়েছে  কয়েকগুণ। তবে হিসাবের বাইরে তার আরও অনেক সম্পদ রয়েছে।  এছাড়া একই সঙ্গেবেড়েছে তার স্ত্রীর সম্পত্তিও।

নির্বাচন কমিশনে দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০১১ সালের ১৮ জানুয়ারিরনির্বাচনে ফেনী পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন নিজাম হাজারী। এর ৩ বছর পর  তিনিগত ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন। 

পৌর নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনেজমা দেয়া হলফনামায় নিজাম হাজারীও তার  স্ত্রীর নামে থাকা সম্পদেরবিবরণ দেন। এ হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন, তার (নিজাম হাজারীর) নামে ব্যাংকেজমা টাকার পরিমাণ ১০ লাখ আর স্ত্রীর নামে সঞ্চয়পত্র/স্থায়ী আমানত ছিল এককোটি টাকা। তখন তার কাছে নগদ টাকা ছিল ৫০ হাজার, স্ত্রীর কাছে ছিল ৫০ হাজারটাকা।

হলফনামা অনুযায়ী, ২০১১ সাল পর্যন্ত নিজাম হাজারী ৫০ শতাংশ কৃষি জমি ও৫০ শতাংশ অকৃষি জমির মালিক। তখন স্ত্রীর নামে কোনো জমি বা ফ্ল্যাট ছিল না।নিজামের একটি মোটর গাড়ি থাকার কথা বলা হলেও দাম উল্লেখ করা হয়নি। স্ত্রীরনামে তখন কোনো গাড়ি ছিল না। তবে স্ত্রীর ১০০ তোলা স্বর্ণালঙ্কার ছিল।

গত ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের আগে গত ডিসেম্বরে নির্বাচন কমিশনে আবারহলফনামা দেন নিজাম হাজারী। তাতে তিনি উল্লেখ করেন, তার আয় বৃদ্ধির তুলনায়সম্পদ অনেক বেশি বেড়েছে। ২০১১ সালে তিনি বাৎসরিক আয় দেখান এক লাখ ৮০ হাজারটাকা। ২০১৩ সালে দেখান ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৬৮ টাকা। অর্থাৎ তিন বছরের ব্যবধানেনিজাম হাজারীর বাৎসরিক আয় বেড়েছে ৬১ হাজার ৪৬৮ টাকা।

দুই নির্বাচনের সময় হলফনামায় দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩ বছরের ব্যবধানে নিজামহাজারীর ব্যাংকে জমা টাকা ১০ লাখ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন কোটি ২৮ লাখ ৪৭হাজার টাকা। কৃষি জমি বেড়েছে তিনগুণ (১৫০ শতাংশ)। গত ডিসেম্বরে তার কাছেনগদ টাকা ছিল পাঁচ লাখ ৩০ হাজার টাকা, আর স্ত্রীর কাছে ৫০ হাজার টাকা। আগেস্ত্রীর নামে ব্যাংকে জমা ছিল না, এ ধাপে এসে স্ত্রীর নামে ব্যাংকে জমাদেখানো হয় দুই লাখ টাকা।

৩ বছরে নিজামের স্ত্রী পাঁচটি ফ্ল্যাট, ৮ শতাংশ অকৃষি জমি, রামগড়ে ১৫ একরজমি ও ২৭ লাখ টাকার একটি মোটর গাড়ির মালিক হয়েছেন। অবশ্য এ ধাপে স্ত্রীরনামে স্থায়ী আমানত ৫০ লাখ টাকা দেখানো হয়, যা আগে ছিল এক কোটি টাকা।

এছাড়াসর্বশেষ হলফনামায় নিজাম হাজারী নিজের ৩০ তোলা এবং স্ত্রীর ১০০ তোলাস্বর্ণ থাকার কথা উল্লেখ করেন।  কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই নিজাম হাজারী শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন। বিগত তিন বছরে তার সম্পদ বাড়ে ৩২ গুণ। তবেহিসাবের বাইরে তার আরও অনেক সম্পদ রয়েছে।  এছাড়া একই সঙ্গে বেড়েছে তারস্ত্রীর সম্পত্তিও।   তার স্ত্রীর নামে পাঁচটি ফ্ল্যাট ও রামগড়ে ১৫ একরজমির মালিক হয়েছেন।

এদিকে    সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারির বিষয়টি তদন্ত করার সিদ্ধান্তনিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ছাড়া   পরবর্তী কমিশন বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়েআলোচনা করা হবে।  এ মামলায় দোষি সাব্যস্ত হলে সংসদ সদস্য পদ হারাবেন তিনি।  

অন্যদিকে, বিগত ২০০০ সালের ১৬ আগস্ট অস্ত্র আইনের ১৯(ক) ধারায় ১০ বছর এবং ১৯(চ)ধারায়  পলাতক থাকা অবস্থায় ৭ বছরের কারাদণ্ড হয় নিজাম হাজারীর। চট্টগ্রামমহানগরীর ডবলমুরিং থানায় হওয়া মামলায় চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগরদায়রা জজ আদালত ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তাকে এই সাজা দিয়েছিল। উভয় দণ্ডে একসঙ্গে চলবে বলে রায়ে বলা হয়। অর্থাৎ  ১০ বছর সাজা ভোগ করবেন নিজামহাজারী। 

২০০০ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাকে ওই দিনইকারাগারে পাঠানো হয়। তার কয়েদি নম্বর ছিল ৪১১৪/এ। পরে এ আদেশের বিরুদ্ধেনিজাম হাজারী হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। উচ্চ আদালত তার সাজাবহাল রাখে।

সর্বশেষ তিনি রিভিউ আবেদন করলে আদালত তা খারিজ করে দেয়।  ২০০৫সালের ১লা ডিসেম্বর কিন্তু মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার দুই বছর ১০ মাস আগেই কারাগারথেকে মুক্তি পান তিনি। এ ক্ষেত্রে তিনি কারাকর্তৃপক্ষকে জাল কাগজ-পত্র দেখিয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এ বিষয়ে  সম্প্রতিউচ্চ আদালতে এ বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে। এমামলায় তিনি দোষি সাব্যস্ত হলে সংসদ সদস্য পদ হারাবেন তিনি।  

এ বিষয়ে   সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলমমজুমদার বলেন,  বিগত ২০০০ সালে চট্টগ্রামের একটি আদালতে অস্ত্র আইনের ১০বছর সাজা হয়েছিল তার। কিন্তু মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার দুই বছর ১০ মাস আগেইকারাগার থেকে বেরিয়ে যান তিনি।

তিনি বলেন, হলফনামায়  মিথ্যা তথ্য দিয়ে কেউ সংসদ নির্বাচন হওয়ার পর যদি তা প্রমানিত হয় তা হলে তিনি তার সদস্য পদ হারাবেন। 

এবিষয়ে  নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. শাহনেওয়াজ বলেন, হলফনামায়  তথ্য গোপনেরঅভিযোগ যদি সত্য প্রমাণিত হয় তাহলে তার এমপি পদ বাতিল করা হবে।

উল্লেখ্য, গত  ৫ই জানুয়ারি ব্যাপক সহিংসতার মধ্যে দশম সংসদ নির্বাচনঅনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে নবম জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহঅধিকাংশ দলই বর্জন করে। আর আওয়ামী লীগ ও সতন্ত্রসহ ১৭টি দল নির্বাচনেপ্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।

এছাড়াও নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনেবিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা বিজয়ী হওয়ায় নির্বাচনটি নিয়ে অনেকবিতর্কের সৃষ্টি হয়।এর মধ্যে ফেনী-২ আসন থেক নিজাম হাজারিও বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

ঢাকা, এএম, ২৩ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *