শুক্রবার ৩, ডিসেম্বর ২০২১
EN

সৎ নেতৃত্ব ও ইহসানের সমাজের রূপরেখা

একজন মুসলীম স্বপ্ন দেখে সুন্দর এই পৃথিবীকে সুন্দর করেই সাঁজাতে। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ স্ব স্ব অবস্থানে ভালো থাকুক এমন প্রত্যাশাই তার মনে বিরাজমান। কিন্তু এই ভালো থাকার ও ভালো রাখার স্বপ্নপূরণে প্রয়োজন সৎ নেতৃত্ব। আর এই সৎ নেতৃত্ব সম্পন্ন সমাজ-ই প্রকৃত ইহসানের সমাজ।

একজন মুসলীম স্বপ্ন দেখে সুন্দর এই পৃথিবীকে সুন্দর করেই সাঁজাতে। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ স্ব স্ব অবস্থানে ভালো থাকুক এমন প্রত্যাশাই তার মনে বিরাজমান। কিন্তু এই ভালো থাকার ও ভালো রাখার স্বপ্নপূরণে প্রয়োজন সৎ নেতৃত্ব। আর এই সৎ নেতৃত্ব সম্পন্ন সমাজ-ই প্রকৃত ইহসানের সমাজ।

ইসলাম একটি আদর্শিক ধর্ম। সঙ্গত কারণেই ইসলাম মানুষকে এই সৎ নেতৃত্ব ও ইসানের সমাজ প্রতিষ্ঠার রূপরেখা দিয়েছে। ইসলামের প্রত্যাশিত ইহসানের সমাজে যারা নেতৃত্ব দেবেন তাদের কিছু যোগ্যতা থাকতে হবে। যেমন-

এক-আখিরাতের জবাবদিহীতা: আখেরাত বলতে আমরা সাধারণ ভাবে মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে বুঝি। একজন নেতা অনুভব করবেন যে, তার এই পৃথিবীর কর্মকাণ্ডের হিসেব তাকে আখেরাতে দিতে হবে। আর এই আখেরাতের জীবনের জবাবদিহীতা যার মধ্যে রয়েছে তার জন্য শক্ত ভিত্তির প্রথম কাজ ইমান অর্থাৎ বিশ্বাস।

ইসলামী বিধান অনুসারে এই ইমানের ইমানের ৩টি পর্যায় রয়েছে যথা-
১-তাসদিক বিল যানান (মনে ইমানের বীজ রোপন)। অর্থৎ ইহসানের সমাজের নেতার নিজের মধ্যে ইমানের বীজ রোপন করতে হবে।
২-একরার বিল লিসান (মুখে ইমানের ঘোষণা)। অর্থাৎ নেতা অবশ্যই ঘোষণা দিয়েই ইমানের পথে চলবেন। ইমানের ক্ষেত্রে কোনো গোপনীয়তার স্থান থাকবে না।
৩-আ’মল বিল আরকান (কাজের মাধ্যমে ইমানের প্রকাশ)। অর্থৎ ইমানকে জীবনের সকল কাজে, যেমন-আচার আচরণ, লেনদেন, দায়িত্বপালনে প্রতিফল প্রকাশ করানো।

ইবনে আবি হাতেম থেকে বর্ণিত, তিনি মুহাম্মদ ইবনে কাব থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ:) আমাকে ডেকে বললেন, আদল ও ইনসাফ কী? আমি বললাম আপনি অনেক কঠিক প্রশ্ন করেছেন। সে যাই হোক, ছোটদের জন্য পিতার মতো হোন। বড়েদের জন্য পুত্রের মত হোন। সমবয়ীকদের প্রতি ভাইয়ের মতো হোন। নারীদের প্রতি ভাইয়ের মত হোন। মানুষকে তার অপরাধে সমপরিমান সাজা দিন। শাস্তি দেয়ার ক্ষেত্রে দৈহিত গঠন বিবেচনা করুন। (আততাফসীরুল মুনির)।

ইসলাম অনুসারে ইমান আনার ঘোষণা দিতে হবে এভাবে-“আমি ইমান আনলাম ওই সত্বার ওপর, যিনি জাত ও সিফাত অর্থাৎ সত্বা ও গুণাবলীর দিক থেকে আল্লাহ হবার যেগ্য এবং মেনে নিলাম তাঁর সমস্ত আইন বিধান ও নিয়ম-নীতিকে”।

ঘোষিত ইমানের পরীক্ষা:
যখন ইসলামী সমাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা নিজের ইমানের ঘোষণা দেবেন। তখন তার ওপর পরীক্ষা দেয়ার বিষয়টি চলে আসবে। ইসলাম যে মহান সৃষ্টিকর্তার জীবন বিধান সেই মহান সৃষ্টিকর্তাই ঘোষিত ইমানের পরীক্ষা নেয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেছেন-‘লোকেরা কি এটা মনে করছে যে, আমরা ইমান এনেছি এ কথা বললেই তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে? তাদেরকে (দাবির বিষয়ে) পরীক্ষা করে দেখা হবে না? অথচ এদের পূর্ববর্তী সকল লোককেই আমি পরীক্ষা করেছি। আল্লাহ তো দেখে নিতে চান ইমানের দাবিতে কারা সত্যবাদি আর কারা মিথ্যাবাদী। (সুরা আনকাবুত-২৯: আয়াত ২-৩)

ইমান আনতে হবে পূর্ণাঙ্গ:
একজন সৎ দায়িত্ববাণ যখন ইমাণের ঘোষণা দেবেন তখন তা অবশ্যই পূর্ণাঙ্গ হতে হবে। ইমান আনার ক্ষেত্রে অপূর্ণাঙ্গতা রাখা যাবে না তা জানিয়ে দিয়েছেন স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা নিজেই। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা কি কিতাবের (কোরআনের) কিছু অংশ বিশ্বাস করো এবং অপর অংশ অবিশ্বাস করো? জেনে রেখো, তোমাদের মধ্যে যারাই এইরুপ আচরণ করেছে এবং করবে, তাদের জন্য এছাড়া আর কি শাস্তি হতে পারে? তারা পার্থিব জীবনে হবে অপমাণিত ও লাঞ্ছিত এবং পরকালে তাদেরকে কঠোরতম শাস্তির দিকে ঠেলে দেয়া হবে। (সুরা বাকারা: আয়াত:৮৫)

একজন ইমানদারকে ইমান আনার পর তিনটি দায়িত্ব অবশ্যই পালন করতে হবে। এমন ঘোষণা দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন-‘মহাকালের শপথ। মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। কিন্তু তারা নয় যারা ইমান আনে, সৎ কর্ম করে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় ও ধৈর্য ধারণে অনুপ্রানিত করে। (সুরা আসর)

আল্লাহ ভীতি:
কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সৎ নেতাকে অবশ্যই আল্লাহ ভীতি নিয়ে চলতে হবে। আর আল্লাহ ভীতি থাকতে হবে চিন্তা, চেতনা ও মননে। এমন ঘোষণা দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ইমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করার মতো ভয় করো। আর তোমরা তাঁর নিকট আত্ম-সমর্পিত না থাকা অবস্থায় (মুসলমান না হয়ে) মৃত্যুবরণ করো না। সুরা আল ইমরান: আয়াত: ১০২)।

উপরোক্ত গুনাবলী অর্জনকারী ব্যক্তি যখন সমাজের দায়িত্ব হাতে নেবে তখন তিনি ১৪ দফা দায়িত্ব পালনের কার্যাবলী গ্রহণ করবেন। যার বর্ণনা পবিত্র কোরআনের সুরা বণী ইসরাইলের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বর্ণনা করেছেন।

সুরা বণী ইসরাইলে ইহসানের সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহ তায়ালা ১৪দফা কর্মসূচী দিয়েছেন। যেমন-

১. একমাত্র আল্লাহর ইবাদ করা:
ইহসানের সমাজে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত চলবে না। যে সমাজে আল্লাহ ছাড়া আরো কারো ইবাদত হয় ওই সমাজ কখনোই ইহসান প্রতিষ্ঠিত সমাজ নয়। আল্লাহ বলেন-‘তোমাদের মালিক আদেশ করছেন, তোমরা তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য কারো এবাদত করো না। (আয়াত -২৩)

২. পিতা-মাতার সঙ্গে সদাচরণ:
ইহসানের সমাজে প্রতিটি সন্তান তার পিতা-মাতার সঙ্গে সদাচরণ করবে। আর সমাজের সৎ নেতৃত্ব দানকারী নেতার কাজ হবে তা প্রতিষ্ঠা করা। আল্লাহ বলেন, ‘তোমার পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো। তাদের একজন কিংবা উভয়ই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তাহলে তাদের (সঙ্গে) বিরক্তিসূচক কিছু বলো না এবং কখনো তাদের ধমক দিয়ো না, তাদের সঙ্গে সম্মানজনক ভদ্রজনোচিত কাথা বলো। এবং অনুকম্পায় তুমি ওদের প্রতি বিনয়াবনত থেকো এবং বলো, হে আমার মালিক, পিতা-মাতার প্রতি ঠিক সেভাবেই তুমি দয়া করো, মেনি করে শৈশবে পিতা-মাতা আমাকে লালন পালন করেছিলো। আয়াত-(২৩-২৪)

৩. আত্মীয়র হক আদায় করা:
সমাজের ইহসান প্রতিষ্ঠার অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে তারা সামাজের মানুষগুলো তাদের আত্মীয়দের পাওনা যথাযথভাবে আদায় করে দেবে। আল্লাহ বলেন, ‘আত্মীয় স্বজনকে তাদের (যথার্থ) পাওনা আদায় করে দেবে, অভাগ্রস্ত এবং মোসাফেরদেরও (তাদের হক আদায় করে দেবে)। আয়াত-২৬।

৪. অপব্যয় না করা:
অপচয়-অপব্যয় মানুষের কাজ হতে পারে না। এমন ঘোষণা দিয়ে আল্লাহ বলেছেন, ‘কখনো অপব্যয় করো না। অবশ্যই অপব্যয়কারীরা হচ্ছে শয়তানের ভাই; আর শয়তান হচ্ছে তার মালিকের বড়ই অকৃতজ্ঞ। আয়াত: ২৬-২৭।

৫. নম্রভাবে কথা বলা:
ইসলাম ভারসাম্যতায় বিশ্বাস করে। কাউকে তার প্রাপ্য প্রদান করতে যেমন কঠোর আদেশ দিয়েছেন। তেমনটি যখন কারো হক প্রদান করতে আপাদত সম্ভব না হলে তার সাথে নম্রভাবে কথা বলতে বালা হয়ে। যা মোমিনের জন্য তার ভাইয়ের কাছাকাছি নিয়ে যায়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যদি তোমাকে কখনো (এ) হকদারদের বিমুখ করতেই হয় (এ কারনে যে), তাকে দেয়ার মতো সম্পদ তোমার কাছে নেই এবং তুমি তোমার মালিকের কাছ থেকে অনুগ্রহ কামনা করছো, যা পাওয়ার তুমি আশাও রাখ, তাহলে একান্ত নম্রভাবে তাদের সঙ্গে কথা বলো। আয়াত: ২৮।

৬. নিঃস্ব না হওয়া:
ব্যয়ের ক্ষেত্রে কখনোই এমন হওয়া যাবে না যে, আপনি ব্যয় করতে করতে নিজেই আবার অন্যের নিকট হাত পাততে বাধ্য হন। আল্লাহ বলেন, ‘কখনো নিজের (ব্যয়ের হাত) নিজের গর্দানের সঙ্গে বেঁধে রেখো না (যাতে কার্পণ্য প্রকাশ পায়), আবার তা সম্পূর্ণ খুলেও রেখো না, অন্যথায় (বেশি খরচ করার কারণে) তুমি নিন্দিত ও নিঃস্ব হয়ে যাবে। তোমার মালিক যাকে চান তার রিজিক বাড়িয়ে দেন, আবার যাকে চান কম করে দেন, অবশ্যই তিনি তাঁর বান্দারেত (প্রয়োজন সম্পর্কে) ভালো জানে এবং (তাদের অবস্থাও) তিনি দেখেন। আয়াত: ২৯-৩০।

৭. অভাবের কারণে সন্তান হত্যা নয়:
ইহসানের সমাজের কোনো সন্তান হত্যা করা যাবে না। বিশেষ করে খাদ্য অভাবে সমাকে কেউ সন্তান হত্যা করতে পারবে না। রিজেক দান করেন একমাত্র মান সৃষ্টিকর্তা। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে কখনো দারিদ্রের ভয়ে হত্যা করো না; আমি (যেমন) তাদের রিজিক দান করি (তেমনি) তোমাদেরও কেবল আমিই রিজিক দান করি।(রিজিকের ভায়ে) তাদের হত্যা করা (হবে) অবশ্যই একটি মহা পাপ। আয়াত: ৩১।

৮. ব্যবিচার থেকে বিরত থাকা:
যেনা ব্যবিচার সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। সংসারে অশান্তি স্থাপন করে। তৈরি করে বিভেদ ও বিচ্ছেদ। এর ধারে কাছেও যেদে নিষেধ করেছেন আল্লাহ তায়ালা। তিনি বলেন, ‘তোমরা ব্যবিচারের ধারে কাছেও যেও না, নিসন্দেহে এ হচ্ছে একটি অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট পথ। আয়াত: ৩২)

৯. অন্যায় ভাবে হত্যা বন্ধ করতে হবে:
কোনো মানুষের ক্ষমতা নেই কারো জীবন দেয়ার। যেহেতু জীবন দানের ক্ষমাতা নেই তাই জীবন নেয়াকেও বড় পাপ বলে অভিহিত করেছেন মাহান আল্লাহ তায়ালা। তিনি বলেন, ‘কোনো জীবনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করো না, যা আল্লাহ তায়ালা হারাম করেছেন; যে ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয় আমি তার উত্তরাধিকারীকে (এ) অধিকার দিয়েছি (সে চাইলে রক্তের বিনিময় দাবি করতে পারে), তবে সে যেনো হত্যার (প্রতিশোধ নেয়ার) ব্যপারে বাড়াবাড়ি না করে; কেননা হত্যার বিষয়ে যে ব্যক্তি মাজলুম তাকেই সহায়তা করা হবে। আয়াত: ৩৩।

১০. ইয়াতিমের সম্পদ রক্ষা করা:
পৃথিবীর প্রাণ পুরুষ হযরত মোহাম্মদ (স:) ছিলেন এতিম। একজন এতিম তার সম্পদ রক্ষায় অপারাগ থাকে। আর তার সম্পদ নষ্ট করলে তার পরবর্তী জীবন হয় কষ্টের সাঁকো। ইহসানের সামাজে এতিমের সম্পদের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছেন মহান আল্লাহ তায়ালা। তিনি বলেন, ‘এতীমদের মাল সম্পদের কাছেও যেয়ো না, তবে এমন কোনা পন্থায় যা (এতীমের জন্য) উত্তম (বলেপ্রমাণিত) হয় তা বাদে-যতক্ষণ পর্যন্ত সে (এতীম) তার বয়োপ্রাপ্তির পর্যায়ে উপণীত হয়। আয়াত:৩৪।

১১. প্রতিশ্রুতি পালন:
একজন মানুষের প্রতিশ্রুতি অপর মানুষের সিদ্ধান্ত নেয়ার মৌলিক ভিত্তি। তাই প্রতিশ্রুতি পালন করা ইহসানের সামাজে প্রতিটি মানুষের অন্যতম একটি কাজ। এ কাজের বিষয় তুলে ধরে আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা যাবতীয় প্রতিশ্রুতি মেনে চলো, কেননা কেয়ামতের দিন প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে (তোমাদের) জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আয়াত:৩৪।

১২. মাপে কম দেয়া যাবে না:
সমাজে একে অপরের প্রয়োজন মেটানোর তাগিতে প্রতিষ্ঠা করেছে হাট, বাজার। যেখানে পণ্য বিক্রি হও ওজন করে। আর ওজনের ক্ষেত্রে কোনো কিছু কম দেয়া কিংবা বেশি নেয়া অপরাধ। এই অপরাধ থেকে মানুষকে দূরে থাকার আহবান জানিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘কোনো কিছু পরিমাপ করার সময় মাপ কিন্তু পুরোপুরি করবে, আর (ওজন করার জিনিস হলে) দাড়িপাল্লা সোজা করে ধরবে; (লেনদেনের ব্যপারে) এ হচ্ছে উত্তম পন্থা এবং পরিণামের দিক থেকে এটিই হচ্ছে উৎকৃষ্ট। আয়াত ৩৫।

১৩. জ্ঞানহীণ বিষয়ের পেছনে লেগো না:
ইহসানের সমাজ কখনো আন্দাজের উপর চলতে পারে না। অনুমান ভিত্তিক কোনো কথা বলা ইহাসানের সমাজে শোভা পায় না। আর তাই আল্লাহ তায়ালা জ্ঞানহীন বিষয়ে কথা বলতে বিরত থাকার কথা বলেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই (অযথা) তার পেছনে পড়ো না; এ সব কয়টির (ব্যবহার) সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করা হবে। আয়াত: ৩৬।

১৪. দাম্ভিকতা পারিহার করতে হবে:
মানুষের সক্ষমতা অনেক অসীম নয়। মানুষের দম্ভ করে সমাজে চলার কোনো অধিকার নেই। এই অধিকার আল্লাহ তায়ালা কোনো মানুষকে দেন নি। বরং এই দাম্ভিকতা থেকে ইহসানের সমাজের প্রতিটি মানুষকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর জমিনে (কখনোই) দম্ভভরে চলো না, কেননা (যতই অহংকার করো না কেন), তুমি কখনোই আল্লাহর জমিন বিধীর্ণ করতে পারবে না, উচ্চতায়ও তুমি কখনো পর্বত সমান হতে পারবে না। আয়াত ৩৭।

সুতরাং সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠায় অর্থাৎ ইহসানের সমাজ প্রতিষ্ঠায় মানুষকে সুরা বণী ইসরাইলের আয়াতগুলোর আলোকে জীবন তৈরি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: কবির হোসেন, সাংবাদিক ও কবি

(বি. দ্র. মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব। টাইমনিউজবিডি’র সম্পাদকীয় নীতিমালার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই)

এমবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *