বুধবার ৭, ডিসেম্বর ২০২২
EN

হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার নূর হোসেনের

ভারতে পুলিশ রিমান্ডে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেন নূর হোসেন । সোমবার ভারতীয় পুলিশের কাছে এই স্বীকারোক্তি দেন তিনি।

ভারতে পুলিশ রিমান্ডে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেন নূর হোসেন ।
সোমবার  ভারতীয় পুলিশের কাছে এই স্বীকারোক্তি দেন তিনি।

পুলিশ তাকে ভারতে আসার কারণ জিজ্ঞেস করলে নূর হোসেন বলেন, দেশে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাই ভারতে আশ্রয় নিয়েছি। জিজ্ঞাসাবাদের আগে কলকাতার পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে বলা হয়েছিল যে, বাংলাদেশের খুনের সঙ্গে ভারতের কোন সম্পর্ক নেই। তাই আপনি এখানে নির্ভয়ে বলতে পারেন। তখন নূর হোসেন নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

গতকাল রবিবার ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছিলেন নূর হোসেন। সাত খুনের ঘটনায় তাকে ফাঁসানো হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

গত শনিবার রাতে বিধাননগর কমিশনারেটের অ্যান্টি টেরোরিজম স্কোয়াডের (এটিএস) এসিপি অনিমেষ সরকারের নেতৃত্বে একটি টিম কলকাতার নেতাজী সুভাস চন্দ্র বোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী বাগুইহাটির কৈখালী এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে নূর হোসেন ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করে। পুলিশ এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করে বাংলাদেশ ও ভারতের ৪টি মোবাইল, কয়েকটি সিম কার্ড, একটি ল্যাপটপ, কিছু কাগজপত্র এবং ২ হাজার টাকা। পুলিশ ফ্ল্যাটের মালিক সীমা সিংকে খুঁজছে। তবে নূর হোসেন জানিয়েছেন, এক দালাল মারফত ওই ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিল।


পুলিশ জানায়, নূর হোসেনকে গ্রেফতারে কলকাতা পুলিশ ব্যাপক অনুসন্ধান চালায়। বিভিন্ন প্রাপ্ত তথ্যে পুলিশ নিশ্চিত হয় নূর হোসেন কৈখালী এলাকাতেই অবস্থান করছেন। তবে নূর হোসেন বারবার মোবাইল ফোনের সিম বদলিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যায়ে কলকাতা ছেড়ে যাওয়ার প্ল্যানও করেছিলেন। ইচ্ছে ছিল সিমলায় গিয়ে কিছুদিন লুকিয়ে থাকা। কলকাতায় কাদের সাহায্য নিয়ে নূর লুকিয়েছিলেন জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাও নূরের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছে।

জেরায় নূরের কাছ থেকে জানার চেষ্টা হবে বাংলাদেশে তিনি কী কী অপরাধ করেছেন। কলকাতায় কোনো অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত কি না, কিংবা আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে তার যোগ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঢাকা, ১৬ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *