বুধবার ৭, ডিসেম্বর ২০২২
EN

হায় রে সম্পদ...

'রমজান মাস। রোজা রাখতে সেহরি খেয়ে বসেছি মাত্র। ঠিক এই সময় বাসায় আসে ছেলে,বউ ও নাতি। বাসায় ঢুকেই তারা তিনজন আমাকে মারধর শুরু করে। অসহ্য যন্ত্রণায় হাউমাউ করে কাঁদছি। এরপর আমাকে একটি বস্তায় ভরে পাঁচতলায় থেকে ফেলে দেয়ার চেষ্টা করে। এসময় চিৎকার শুনে অন্য ছেলেরা এসে আমাকে বাঁচায়

'রমজান মাস। রোজা রাখতে সেহরি খেয়ে বসেছি মাত্র। ঠিক এই সময় বাসায় আসে ছেলে,বউ ও নাতি। বাসায় ঢুকেই তারা তিনজন আমাকে মারধর শুরু করে। অসহ্য যন্ত্রণায় হাউমাউ করে কাঁদছি। এরপর আমাকে একটি বস্তায় ভরে পাঁচতলায় থেকে ফেলে দেয়ার চেষ্টা করে। এসময় চিৎকার শুনে অন্য ছেলেরা এসে আমাকে বাঁচায়।'

আদালতের কাঠগড়ায় হুইল চেয়ারে বসে কাঁদতে কাঁদতে নিজের ছেলে,বউ ও নাতির নির্মম নির্যাতনের জবানবন্দি (সাক্ষ্য) দেন ৭০ ঊর্ধ্ব মা রওশন আরা বেগম।

বুধবার জবানবন্দি রেকর্ড করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন  চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম মশিউর রহমান চৌধুরী। কেঁদে ফেলেন  উপস্থিত অর্ধশত আইনজীবী,পুলিশ কর্মকর্তা ও উপস্থিত বিচার প্রার্থীরা।

এ মামলার আসামিরা হলো-ছেলে রহমত আলী, তার স্ত্রী শাহনাজ আক্তার ও তাদের সন্তান আবিদ। 

জানা গেছে, নগরীর ১০২ প্রবর্তক মোড়ের পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় রওশন আরা বেগমের একটি পাঁচতলা ভবন ও জায়গা রয়েছে। এ সম্পত্তি নিয়ে ছেলেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। ২০১৩ সালের ১৯ আগস্ট রাত ৩টায় রহমত আলী, শাহনাজ ও আবিদ ঘরে ঢুকে রওশন আরা বেগমকে নির্মম নির্যাতন করে বস্তায় ভরে পাঁচতলা থেকে ফেলে খুন করার চেষ্টা করে।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত নির্যাতনকারী ছেলে রহমত আলী ও তার স্ত্রী শাহনাজকে উদ্দেশ্য করে বলেন,'আদালত আবেগপ্রবণ হয়নি,আবেগতাড়িতও হয়নি। এ আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আপনারা খালাস পাবেন, না শাস্তি পাবেন জানি না। তবে কেয়ামতের দিন আল্লাহর আদালতে আমাকে সাক্ষ্য দিতে ডাকা হলে সেদিন এ মায়ের চোখের পানি পড়ার বিষয়ে সাক্ষ্য দেব।'

আসামিপক্ষের আইনজীবীকে আদালত বলেন, 'আমি, আপনি, আমরা সবাই কোনো না কোনো মায়ের সন্তান। এ বিচারে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ব্যত্যয় ঘটালে পরকালে আমাদের কোনো ক্ষমা হবে না। তাই অন্ততপক্ষে এ মামলায় আমরা যেন ইমান নষ্ট না করি।'

ঢাকা, ১২ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *