মঙ্গলবার ২৫, জানুয়ারী ২০২২
EN

হারনামানা 'লিটল মাস্টার' হানিফ মোহাম্মদ

কিংবদন্তী ক্রিকেটার হানিফ মোহাম্মদ 'লিটল মাস্টার' উপাধিপ্রাপ্ত হন। তাঁকে আউট করা ছিল বোলারদের জন্য কঠিনতম পরীক্ষা। ব্রিজটাউন টেস্টে সেই ৯৭০ মিনিট টানা ব্যাটিংয়ের রেকর্ড ৫৮ বছরেও ভাঙতে পারেনি কেউ।

কিংবদন্তী ক্রিকেটার হানিফ মোহাম্মদ 'লিটল মাস্টার' উপাধিপ্রাপ্ত হন। তাঁকে আউট করা ছিল বোলারদের জন্য কঠিনতম পরীক্ষা। ব্রিজটাউন টেস্টে সেই ৯৭০ মিনিট টানা ব্যাটিংয়ের রেকর্ড ৫৮ বছরেও ভাঙতে পারেনি কেউ। কিংবা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সেই ৪৯৯ রানের ইনিংস? সেই হানিফ মোহাম্মদ জীবনের আসল ইনিংসে আর নটআউট থাকতে পারলেন না। কেউ পারেও না শেষ পর্যন্ত।

২০১৩ সালে তাঁর ক্যান্সার ধরা পড়ে এবং লন্ডনে চিকিৎসা নেন।ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত এ কিংবদন্তী কয়েক দিন আগে চিকিৎসার জন্য করাচির আগা খান হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে ৮ আগস্ট বিকেলে তাকে আসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

১১ আগস্ট অনেককেই চমকে দিয়ে ৬ মিনিট হৃৎস্পন্দন বন্ধ থাকার পরও আবারও বেঁচে ফিরেছিলেন।কিন্তু এবার কার্ডিও মনিটরে রেখাটি স্থির সরল হয়ে গেল।ক্যারিয়ারে বহু বোলারকে জয় করা হানিফ মোহাম্মদ ক্যানসার নামক ভয়াবহ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে টানা তিন বছর লড়াই করে বৃহস্পতিবার ৮১ বছর বয়সে মারা গেছেন পাকিস্তানের এই সাবেক ব্যাটসম্যান।

33

'লিটল মাস্টার'হানিফ মোহাম্মদখেলোয়াড়ী জীবন: পাকিস্তানের হয়ে তিনি ৫৫টি টেস্ট খেলেন। ১৯৫২/৫৩ থেকে ১৯৬৯/৭০ মেয়াদকালে ১২টি শতক করেন ৪৩.৯৮ রান গড়ে। ১৬ অক্টোবর, ১৯৫২ সালে ভারতীয় দলের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত টেস্টে তাঁর অভিষেক ঘটে।

১৯৫৭/৫৮ মৌসুমে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত ছয়-দিনব্যাপী টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৩৩৭ রান করে সংশ্লিষ্ট সকলকে তাক লাগিয়ে দেন। এরফলে পাকিস্তান ৪৭৩ রানের বিশাল শূন্যতা পূরণে সক্ষম হয় ও তৃতীয় দিন বিকেলে খেলা ছাড়ে। এ রান করতে হানিফ ষোল ঘন্টা ঊনচল্লিশ মিনিট সময় ব্যয় করেন। টেস্টটি ড্র হয়েছিল। অদ্যাবধি টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ব্যাপী ইনিংস।

চল্লিশ বছরের অধিককাল এ ইনিংসটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দীর্ঘস্থায়ী ছিল। এছাড়াও, একমাত্র টেস্ট হিসেবে দ্বিতীয় ইনিংসে ত্রি-শতক হয়ে রয়েছে। এরফলে তিনি লিটল মাস্টার উপাধিপ্রাপ্ত হন।

66_1

১৯৫৮/৫৯ মৌসুমে তিনি তৎকালীন সময়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে গড়া ডন ব্রাডম্যানের সর্বোচ্চ রানের ব্যক্তিগত রানের ইনিংসটি অতিক্রমণ করেন। পাঁচশত রান স্পর্শের পূর্ব মুহুর্তে অর্থাৎ ৪৯৯ রান করে তিনি রান আউটের শিকার হন। এ রেকর্ডটি পঁয়ত্রিশ বছর টিকেছিল। ১৯৯৪ সালে ব্রায়ান লারা পাঁচশত রান করে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৫৫টি শতক হাঁকান যার গড় ৫২.৩২। বোলিংসহ উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায়ও অবতীর্ণ হয়েছেন হানিফ।

'লিটল মাস্টার'হানিফ মোহাম্মদসম্মাননা: ১৯৬৮ সালে উইজডেন কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে মনোনীত হন। ইমরান খান ও জাভেদ মিয়াঁদাদের সাথে তিনিও আইসিসি’র হল অব ফেমের উদ্বোধনী ৫৫জন খেলোয়াড়ের পাশে অন্তর্ভুক্ত হন।


প্রারম্ভিক জীবন:হানিফ মোহাম্মদ জন্ম:২১ডিসেম্বর,১৯৩৪ সালেতৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের জুনাগড় ও মনবদর (বর্তমান: গুজরাট, ভারত) এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক পাকিস্তানী ক্রিকেটার।

হানিফের মা আমির বি ভারতের স্বাধীনতার পূর্বেকার জাতীয় ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিসের শিরোপাধারী ছিলেন। ভারত বিভাগের পর তাদের পরিবার করাচিতে চলে যায়। মুশতাক, সাদিক এবং ওয়াজির - ভাইত্রয় সকলেই পাকিস্তানের দলের হয়ে খেলেছেন।

পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে হানিফ মোহাম্মদের অবস্থান মধ্যম। পুত্র শোয়েব মোহাম্মদ ও ভাই রইছ মোহাম্মদ একসময় পাকিস্তান দলের ১২তম খেলোয়াড় ছিলেন। তাঁর চার ভাইপো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলেছেন।

এমবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *