শুক্রবার ৩, ডিসেম্বর ২০২১
EN

১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলবের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি

নির্বাচিত শীর্ষ ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলবের ঘটনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছে সাংবাদিকদের সংগঠনগুলো। সেখানে সাংবাদিক নেতারা আরও অভিযোগ করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকার ও গণমাধ্যমকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই, এ ঘটনার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করছেন তাঁরা।

নির্বাচিত শীর্ষ ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলবের ঘটনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছে সাংবাদিকদের সংগঠনগুলো। সেখানে সাংবাদিক নেতারা আরও অভিযোগ করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকার ও গণমাধ্যমকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই, এ ঘটনার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করছেন তাঁরা।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তারা।

বিএফইউজে, ডিইউজে ও ডিআরইউ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মোল্লা জালাল ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি এম আবদুল্লাহ ও মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি মুরসালিন নোমানী।

১১ সাংবাদিকের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান বলেন, বিএফআইইউ সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব চেয়ে বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে আপনাদের মতো আমরাও জানতে পেরেছি।

তিনি আরও বলেন, দেশের পেশাদার সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠিত সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব এভাবে তলব করা দেশের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। কেননা এর আগে কোনো সময়ে এরকম ঘটনা ঘটেনি।

মসিউর রহমান খান বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের তদন্ত হতেই পারে। কিন্তু সাংবাদিকতা পেশায় প্রতিষ্ঠিত সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের নামে ঢালাওভাবে এ ধরনের পদক্ষেপ উদ্দেশ্যমূলক বলে আমরা মনে করি। নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সব সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকতা পেশাকে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। বিএফআইইউ কেনো, কী কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়।

তিনি বলেন, আমরা আপনাদের ভোটে নির্বাচিত। তাই আপনাদের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। সে কারণেই বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনাদের কাছে ও আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করি। আমরা দৃঢ়তার সাথে বলছি, আমাদের নেতাদের ব্যাংক হিসাবে যদি কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন, কোনো ধরনের মানি লন্ডারিং বা জঙ্গি অর্থায়নের তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায় তা যেন গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। আর যদি তা না হয় তবে সেটাও যেন যথাযথ গুরুত্বের সাথে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়।

মসিউর রহমান বলেন, অতীতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লড়াই-সংগ্রাম, নির্যাতন-নিপীড়ন ও গণমাধ্যমের বিভিন্ন সংকটে আপনারা আমাদের পাশে থেকেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতেও আমরা আপনাদের পাশে চাই। সাংবাদিকদের সুরক্ষা, স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রশ্নে কোনো ধরনের হুমকি-ধমকিতে আমরা অতীতে যেমন পিছপা হইনি, ভবিষ্যতেও হব না।

এমবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *