মঙ্গলবার ১৬, অগাস্ট ২০২২
EN

৩০ টাকার পেঁয়াজ একদিনে ৮০, সরকার বলছে ‘২৪ ঘন্টার মধ্যেই স্বাভাবিক হবে’

পেঁয়াজের দাম আগের একদিন আগে ছিল ৩০ টাকা। ২৪ ঘন্টার মধ্যে এটা বেড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এটা সরকারের ব্যর্থতার প্রমাণ কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দিন বলেছেন, “২৪ ঘন্টার মধ্যেই বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।” মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে পেঁয়াজের দাম নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ী, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, অংশীজনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠক শেষে বাণিজ্য সচিব এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পেঁয়াজের দাম আগের একদিন আগে ছিল ৩০ টাকা। ২৪ ঘন্টার মধ্যে এটা বেড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এটা সরকারের ব্যর্থতার প্রমাণ কি না?

সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দিন বলেছেন, “২৪ ঘন্টার মধ্যেই বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।”

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে পেঁয়াজের দাম নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ী, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, অংশীজনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠক শেষে বাণিজ্য সচিব এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জাফর উদ্দিন বলেন, “আমি খোঁজখবর নিয়ে জেনেছি ভারতের মহারাষ্ট্রে বন্যা হওয়ায় তাঁরা পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য টন প্রতি ২৫০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ ডলার করেছে। এতে বাংলাদেশে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়।”

এই বক্তব্যের পরপরই সাংবাদিকদের তোপের মুখে পড়েন সচিব। একজন সাংবাদিক জানান, ভারত গত ১৩ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের বাজারে ৩০ টাকার পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি শুরু হয়। যে পেঁয়াজের দাম আগের একদিন আগে ছিল ৩০ টাকা। ২৪ ঘন্টার মধ্যে এটা বেড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা হয় কী করে? এটা সরকারের ব্যর্থতার প্রমাণ কি না?

এ প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, “আমাদের পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। আমরা মিয়ানমারসহ অন্যান্য দেশ থেকে আমাদানির উদ্যোগ নিয়েছি। তাছাড়া আমাদের দেশেও পর্যাপ্ত মওজুদ রয়েছে। টিসিবি খোলা ট্রাকে বিক্রি শুরু করেছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যেই বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।”

মাত্র পাঁচদিন আগে যে পেঁয়াজের খুচরা দাম ছিল প্রতি কেজি ৩০ টাকা। আজও তা বিভিন্ন বাজারে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জরুরি বৈঠক করে।

পেঁয়াজের দাম কমার কারণ ব্যাখ্যায় ট্যারিফ কমিশনের সদস্য আবু রায়হান আল বিরুনি বলেন, “ট্যারিফ কমিশন অ্যানালাইসিস করে দেখেছে আমাদের বার্ষিক পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ লাখ মেট্রিক টন। দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ২৩ লাখ ৭৬ হাজার মেট্রিক টন। ৩০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। পচনের কারণে আমাদেরকে ১০ থেকে ১১ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়।”

বিরুনি বলেন, “১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ১২ লাখ ৭১ হাজার ৮৩০ মেট্রিক টন। উৎপাদন রয়েছে ১৬ লাখ মেট্রিক টন। সুতরাং আমরা বাজার বিশ্লেষণ করে দেখেছি ২৮ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে, যা যথেষ্ট।”

সচিবালয়ে মঙ্গলবার বিকেলে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির অনুপস্থিতিতে বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে টিসিবির চেয়ারম্যান, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধতন কমকর্তাসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও একজন অপরিচিত ব্যবসায়ী ছাড়া আর কেউ অংশ নেননি।

এমবি  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *