মঙ্গলবার ২৫, জানুয়ারী ২০২২
EN

৩ ডিসেম্বর সারা দেশে বিজয়ের ধ্বনি

৩ ডিসেম্বর ১৯৭১। একাত্তরের এই দিনে বাংলার দামাল ছেলেদের চোখে-মুখে বিজয়ের আনন্দ।

৩ ডিসেম্বর ১৯৭১। একাত্তরের এই দিনে বাংলার দামাল ছেলেদের চোখে-মুখে বিজয়ের আনন্দ। সারা বাংলায় ছিল বিজয়ের ধ্বনি। মুক্তিযোদ্ধাদের অপ্রতিরোধ্য সংগ্রাম ক্রমেই চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। ক্রমেই পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা পিছু হটতে থাকে।

একাত্তরের এই দিনে দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা বরগুনা হানাদারমুক্ত হয়। সেদিন  পাকিস্তানি সেনা ও তাদের দোসরদের পরাজিত করে বরগুনাকে মুক্ত করেন বাংলার মুক্তিকামী দামাল ছেলেরা।

মুক্তিযুদ্ধের  ৯ মাস বরগুনা জেলা ছিল ৯ নম্বর সেক্টরের অধীন। এ সেক্টর বুকাবনিয়া সাব-সেক্টরের অধীন মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিরোধযুদ্ধ গড়ে তোলেন। প্রতিরোধ যুদ্ধের একপর্যায়ে সাব-সেক্টর সদর দফতর থেকে মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সাত্তার খানের প্রতি বরগুনা হানাদারমুক্ত করার আদেশ জারি হয়।

আদেশের সঙ্গে সঙ্গেই সাত্তার খানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর বুকবুনিয়া থেকে বেতাগী থানার বদনিখালী বাজারে গিয়ে অবস্থান নেন। এর আগে মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন ছদ্মবেশে বরগুনা সদরে যান। তোফাজ্জল জেলা শহরের পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সংকেত দেয়ার পরপরই মুক্তিযোদ্ধারা বদনিখালী থেকে হেঁটে কালীবাড়ি লঞ্চঘাটে যান।

সেখান থেকে রাত ২টায় একটি নৌকায় চড়ে বরগুনা সদরের উদ্দ্যেশে যাত্রা করেন তারা। ভোররাতে মুক্তিযোদ্ধারা পোটখালী পৌঁছে নিজেদের অস্ত্র লুকিয়ে রেখে ছয়টি টার্গেট পয়েন্টে গিয়ে অবস্থান নেন।

ওই সময় বাংলার যোদ্ধারা যুদ্ধের সংকেত হিসেবে ফজরের আজানকে ব্যবহার করেন। নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা চূড়ান্ত করে সিদ্ধান্ত নেন, আজানের সঙ্গে সঙ্গেই সব পয়েন্ট থেকে একসঙ্গে আক্রমণ শুরু করবেন। সেই অনুযায়ী ফজরের আজান শুরু হতেই ছয়টি পয়েন্টে আবস্থান নেয়া মুক্তিযোদ্ধারা একসঙ্গে শত্রুর অবস্থান লক্ষ্য করে একযোগে গুলিবর্ষণ শুরু করেন। পরিস্থিতি আর নিজেদের অনুকূলে নেই বুঝতে পেরে পাকিস্তানি বাহিনীর অনুগত পুলিশ সদস্যরা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। আর এর মধ্যে দিয়েই স্বাধীন হয় বরগুনা।

এমআর/এএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *