মঙ্গলবার ১৬, অগাস্ট ২০২২
EN

৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পেঁয়াজের ঝাল ১০০ পেরিয়ে

পেঁয়াজ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিল ভারত। আর এ খবর বাংলাদেশে আসতেই পাইকারি বাজার অনেকটা বিক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ল। চার ঘণ্টায় দাম বাড়ল কেজিতে প্রায় ৮ টাকা।

পেঁয়াজ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিল ভারত। আর এ খবর বাংলাদেশে আসতেই পাইকারি বাজার অনেকটা বিক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ল। চার ঘণ্টায় দাম বাড়ল কেজিতে প্রায় ৮ টাকা।

গতকাল সন্ধ্যায় ৭০ টাকা কেজি দরে ২ কেজি পেঁয়াজ কিনে বাড়ি ফেরেন সুমন আলী। বাড়ি ফিরতেই স্ত্রী রুমা জানান, পেঁয়াজের দাম নাকি আরও বাড়বে। শুনে সুমন আলী ভাবেন, সকালে গিয়ে আরও কিছু পেঁয়াজ কিনে আনবেন। সকালে বাজারে গিয়ে হতভম্ব তিনি। দেখলেন প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়ে হয়ে গেছে ১১০ টাকা। বিক্রেতা বললেন, ‘নিয়ে নেন স্যার, দাম আরও বাড়ব।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গতকাল রোববার রপ্তানি নীতি সংশোধন করে পেঁয়াজকে রপ্তানি নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব দেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ থাকবে।

হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীর ঢাকার ৩৫টি পয়েন্টে আজ থেকে ৪৫ টাকা করে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে।

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর মুখপাত্র হুমায়ূন কবির এ তথ্য জানিয়েছেন। যদিও এর আগে ১৬টি ট্রাকে পেঁয়াজ বিক্রি করছিল টিসিবি।

পেঁয়াজের চাহিদা মেটাতে ইতোমধ্যে মিশর ও তুরস্ক থেকে আমদানি করা দুই জাহাজ পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। আগামী দুই-একদিনের মধ্যেই এ পেঁয়াজ বাজারে আসবে। তখন দাম কমবে।

এদিকে গতকাল শনিবার পেঁয়াজের উৎপাদন সংকট দেখিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত সরকার। আর এতে ভারতের অভ্যন্তরে পাইপলাইনে থাকা পেঁয়াজ বন্দরে প্রবেশ না করলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা বন্দরের আমদানিকারকদের।

অন্যদিকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় প্রভাব পড়েছে পাইকারি ও খোলা বাজারে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে কেজি প্রতি বেড়েছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। এতে বিপাকে পড়েছেন ভোক্তারা।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রফতানি মূল্য বৃদ্ধি করে দেয় ভারত সরকার। এরপর থেকেই বেশি মূল্যে পেঁয়াজ আমদানি করে আসছে হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা। এদিকে দুর্গাপূজার বন্ধের আগেই বেশি পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করতে ভারতে পর্যাপ্ত এলসি দেন ব্যবসায়ীরা।

তবে হঠাৎ করে ভারত সরকার রোববার দুপুর থেকে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। ভারতের অভ্যন্তরে পাইপলাইনে থাকা পেঁয়াজগুলো দেশে প্রবেশ না করলে কয়েক কোটি টাকা লোকসান গুনতে হবে আমদানিকারকদের।


এএস

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *