রবিবার ২৩, জানুয়ারী ২০২২
EN

‘৬ ডিসেম্বর জাতীয় জীবনের স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক দিন’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা বলেছেন, ৬ ডিসেম্বর জাতীয় জীবনের স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক দিন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা বলেছেন, ৬ ডিসেম্বর জাতীয় জীবনের স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক দিন।

তীব্র আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের মুখে ১৯৯০ সালের এই দিনে পদত্যাগ করে অস্থায়ী সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বাধ্য হয়েছিলেন তৎকালীন স্বৈরশাসক এরশাদ। ফলে অগণতান্ত্রিক ও গণবিরোধী শক্তির ৯ বছরের অপশাসন-দুঃশাসনের অবসান হয় এবং গণতন্ত্রও সাময়িকভাবে মুক্তি লাভ করে।

তিনি স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে তাদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং হৃত গণতন্ত্র পূণরুদ্ধারে আবারো সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালানোর আহ্বান জানান।

তিনি সোমবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত স্বৈরাচার পতন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহা. রেজাউল করিমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারি সেক্রেটারি লস্কর মো: তসলিম ও ঢাকা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য জামাল উদ্দীন প্রমুখ।

আব্দুর রহমান মুসা বলেন, স্বৈরাচারিরা সবসময় অবৈধ, অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতায় আসে। সাময়িক সুবিধা লাভ করলেও তাদের ক্ষমতা কখনোই স্থায়ী হয় না। ১৯৯০ সালে গণআন্দোলনের মাধ্যমে জেনারেল এরশাদের লজ্জাজনক পতন তারই জ্বলন্ত প্রমাণ।
সামরিক আইন জারির মাধ্যমে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ ক্ষমতা দখল করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তিন জোটের যুগপৎ ও তীব্র আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচার এরশাদ ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। আর এই আন্দোলনকে সফল করার জন্য ডা: শামসুল আলম খান মিলন, নূর হোসেনসহ অনেককে প্রাণ দিতে হয়। কিন্তু শহীদদের স্বপ্নের গণতন্ত্র আজও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেনি। তিনি শহীদদের স্বপ্নের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই আবারো সকলকে রাজপথে নামার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আমাদের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম দীর্ঘদিনের। জাতির ঘাড়ে স্বৈরাচার বারবার চেপে বসলেও এদেশের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ তা কখনোই মেনে নেয়নি। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৬৯-এর জেনারেল আইয়ুব বিরোধী অন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান, ’৭১-এর মুক্তিসংগ্রাম এবং ’৯০-এর স্বৈরাচার পতনের মাধ্যমে বারবার সে কথারই প্রমাণ মিলেছে। কিন্তু আমাদের দেশের গণতন্ত্র আজও রাহুমুক্ত হয়নি বরং ১৯৯০-এর চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ক্ষমতাসীনরা আবারো গণতন্ত্র হত্যার মহড়া প্রদর্শন করতে শুরু করেছে। তারা দেশে গণতন্ত্রের নামে জনগণের সাথে রীতিমত পরিহাসে লিপ্ত হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আমাদের দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ শুধু ’৯০ পূর্ব অবস্থায় ফিরে যায়নি বরং সার্বিক পরিস্থিতির আরো অবনতিই ঘটেছে। তাই হারানো গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে আবারো সকলকে ’৯০-এর চেতনায় দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

এমআর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *