বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ধানমন্ডির মীনা বাজার এলাকা থেকে খালিদকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত সোমবার দুপুরে ধানমন্ডি সাতমসজিদ রোডে বেসরকারি বাংলাদেশ আই হসপিটালের বিপরীত পাশে শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ ওরফে মাসুদ রানা (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগে খালিদকে আটক করা হয়েছে।
ওসি জানান, মারধরের শিকার ব্যক্তি মানসিক রোগে আক্রান্ত।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, গত সোমবার এক তরুণীকে (২৩) শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে শহীদ আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের জেরে খালিদ তাঁকে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারেন এবং কান ধরে ওঠবস করান বলে ভিডিওতে দেখা যায়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনাও আলোচনায় আসে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক খালিদ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গ্রাফিকস ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেন।
ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও মারধর চলতে থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে ওসি মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব বলেন, ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা এএসআই আবদুল হাইকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেখানে উপস্থিত অন্য দুই পুলিশ সদস্য পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের (পিওএম) সদস্য। তাঁদের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না বলে জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ১২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক ক্ষুব্ধ অবস্থায় গালিগালাজ করতে করতে ওই ব্যক্তিকে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারছেন। এ সময় আশপাশে পথচারীদের ভিড় জমে। তাঁদের কেউ ঘটনাটি দেখছিলেন, আবার কেউ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন।
ভিডিওতে কয়েকজন পথচারীকে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে তরুণীর গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। একপর্যায়ে এক পথচারী মারধরের শিকার ব্যক্তিকে সেখানে উপস্থিত দুই পুলিশ সদস্যের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলেন। পরে ওই ব্যক্তিকে বসা অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়াতে দেখা যায়। তাঁর মোবাইল ফোন নিয়ে তাঁকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন এক পথচারী ও মারধরকারী যুবক।
ভিডিওতে যুবককে বলতে শোনা যায়, ‘কীসের সরি, সরি বললেই সব শেষ হয়ে যায়?’ এরপর ‘মায়ের গায়ে হাত দিয়েছিস’ বলে তিনি ওই ব্যক্তিকে আবারও চড়-থাপ্পড় মারেন।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, মারধরের ঘটনা চলার সময় কয়েক হাত দূরে পুলিশের দুই সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সামনে ঘটনাটি ঘটলেও তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করছেন—এমন দৃশ্য ভিডিওতে দেখা যায়নি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের দায়িত্ব পালন নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে।
এস











