মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ইসরাইলকে ‘বর্ণবাদী রাষ্ট্র’ বলার কথা সোমবার জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন।
একটি একান্ত বৈঠকে কেরি এমন মন্তব্য করেছেন বলে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর কেরিকে পদত্যাগ অথবা নিদেনপক্ষে কথিত বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করার আহবান জানানো হয়। এ প্রেক্ষাপটে এক বিবৃতিতে কেরি বলেন, ‘ইসরাইল একটি প্রাণবন্তু গণতান্ত্রিক দেশ এবং আমি বিশ্বাস করে না, এমনকি কখনো প্রকাশ্যে অথবা একান্তে ইসরাইলকে একটি বর্ণবাদী রাষ্ট্র বা এটির তেমনটি হওয়ার অভিপ্রায় আছে এমন কথা বলিনি।’
কেরি বলেন, ‘যারা আমার সম্পর্কে কিছুটা হলেও জানেন, তারা বিন্দু-বিসর্গ সন্দেহ ছাড়াই এটি জানেন।’
তবে কেরি আভাসে-ইঙ্গিতে বলেছেন যে, শুক্রবার ত্রিপক্ষীয় কমিশনের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতাকালে তিনি একটি দুর্বল শব্দ বাছাই করেছেন।
তিনি বলেন, এমনটি অনিচ্ছাকৃত হলেও শব্দের ভুল ধারণা সৃষ্টির শক্তি সম্পর্কে জানার মতো যথেষ্ট দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে এবং আমি যদি টেপটা আবার চালাতে পারতাম তাহলে আমি আমার বিশ্বাস বর্ণনা করতে একটি পৃথক শব্দ ব্যবহার করতাম। আমি বিশ্বাস করি যে, দীর্ঘ মেয়াদে একটি ইহুদি রাষ্ট্্র প্রতিষ্ঠা এবং শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে পাশাপাশি দুটি জাতি এ দুটি জনগণের বসবাস নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় একটি দ্বিরাষ্ট্রিক সমাধানের মধ্যেই নিহিত।
ডেইলি বিস্ট অনলাইনের খবরে বলা হয়, কেরি সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন যে, ‘একটি এক পক্ষীয় রাষ্ট্র গঠন করা হলে হয় তা একটি বর্ণবাদী রাষ্ট্রে রূপ নেবে, যাতে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক থাকবে অথবা এটি ইসরাইলের ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকার ক্ষমতা ধ্বংস করে দেবে।’
ওয়েবসাইটটি জানায়, তারা কেরির বক্তৃতার একটি রেকর্ডিং দিয়েছে। এ খবরে ইসরাইলে শোরগোল পড়ে যায় এবং একজন রিপাবলিকান সিনেটর কেরির পদত্যাগ দাবি করেন।
কেরি তার বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি কারো মাধ্যমে বিশেষ করে পক্ষপাতদুষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইসরাইলের প্রতি আমার অঙ্গীকারকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে দেবো না।’
কেরি জোর দিয়ে বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে গত ত্রিশ বছরের বেশি সময় ধরে আমি কেবল ইসরাইলের পক্ষে কথাই বলিনি বরং ভোট দেয়ার সময় ভোট দিয়েছি এবং লড়াইয়ের সময় লড়াইও করেছি।’
কেরি আরো বলেন, ‘মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে আমি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও বিচারমন্ত্রী জিপি লিভনির সঙ্গে অগণিত ঘন্টা কাটিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘কেননা, আমি ইসরাইলের জন্য সেই ধরনের ভবিষ্যৎ চাই যা ইসরাইল কেবল কামনাই করে না বরং দাবি করে।’
জন কেরি বলেন, ‘আমি একটি দ্বিরাষ্ট্রিক সমাধান চাই যা একটি ইহুদি রাষ্ট্র একটি সমৃদ্ধ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে এবং আমি প্রকৃতপক্ষে এ লক্ষেই কাজ করেছি। সূত্র: এএফপি।
[b]ঢাকা, ২৯ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি) // টিআই
[/b]
চাপের মুখে কেরি: 'ইসরাইলকে বর্ণবাদী রাষ্ট্র বলিনি'
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ইসরাইলকে ‘বর্ণবাদী রাষ্ট্র’ বলার কথা সোমবার জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন। একটি একান্ত বৈঠকে কেরি
‘চালবাজ’ নেতানিয়াহুকে সরাতে ইসরাইলে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ
দখলদার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে প্রধান বিরোধী দলকে আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়ে রাজধানী তেল আবিবে রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ।
ইসরাইলে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা, উদ্বিগ্ন ভারত
ইসরাইলের সাম্প্রতিক নির্বাচনে কোনো জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে দেশটিতে নতুন সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রভাব শুধু ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; ইরান, গাজা ও পুরো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির পাশাপাশি ভারতের স্বার্থেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
ইসরাইলের নির্বাচনে অচলাবস্থা, সরকার গঠনের চার উপায়
ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় দেশটিতে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি লিকুদ পার্টির জোট কিংবা তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থি ইয়াশার পার্টির জোট কোনোটিই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পায়নি।
শপথ পেছানোর চক্রান্ত ইসরাইলে আরব ভোট বাড়াতে কাতার-তুরস্কের অর্থায়নের অভিযোগ
ইসরাইলের নির্বাচনে আরব জনগোষ্ঠীর ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে কাতার ও তুরস্কসহ বিদেশি পক্ষগুলো অর্থ জুগিয়েছে কি না, তা তদন্ত করছে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত। নির্বাচনে বিদেশি অর্থায়ন ও হস্তক্ষেপের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধান ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গ।
পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্ক-লিবিয়া চুক্তি, ক্ষুব্ধ ইসরাইল
পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্ক ও লিবিয়ার মধ্যে সামুদ্রিক সীমা নির্ধারণসংক্রান্ত চুক্তি অনুমোদনের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। লিবিয়ার প্রতিনিধি পরিষদের এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসরাইল। অন্যদিকে, চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছে তুরস্ক। গ্রিস, সাইপ্রাস ও মিসরও এর বিরোধিতা করেছে।















