কণ্টকাকীর্ণ পথ পেরিয়ে বাংলা বর্ণমালা আজ বিশ্ব দরবারে সমাদৃত ও স্বীকৃত। তারপরও নিজ দেশে এ ভাষা নিগৃহিত হচ্ছে। স্বাধীনতার ৪২ বছরেও দেশে সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন করতে আমরা পারিনি। এমনকি ক্রমাগত ভাবে অন্য ভাষার দিকে ঝুকে পড়ছে এ দেশের মানুষ।
এ ভাষা নিজ দেশে পরবাসি হতে চলেছে। অথচ এ ভাষার জন্য লড়াই করে প্রান দিয়েছে দেশের ছাত্র জনতা। যা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল।
এক সময়ে বাংলা ছিল অস্পৃশ্য। সংস্কৃত কিংবা উর্দু-ফার্সি সবার কাছে ছিল গ্রহণ যোগ্য। বাংলা ছিল তুচ্ছ ও তাচ্ছিল্যের ভাষা। ব্রিটিশ বিতাড়নের পর এল পাকিস্তান। কিন্তু শোষিত বাঙালির বঞ্চনার ইতিহাস আরও দীর্ঘ হল।
এভাবে দিনের পর দিন অপমানিত, লাঞ্ছিত হতে হতে ১৯৫২তে জেগে উঠল বাঙালি। মায়ের ভাষার অপমান নয়। জ্বলে-পুড়ে মরবে, তবু মাথা নোয়াবে না চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্তের কাছে। সেই ফাল্গুনে পিচঢালা পথে এগিয়ে চললো প্রতিবাদের মিছিল। স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত আকাশ-বাতাস। চললো গুলি। লুটিয়ে পড়লো মিছিলের অগ্রগামী তরুণের দল। জীবন দিলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ নাম না জানা আরও অনেকে। রক্তস্নাত হলো রাজপথ।
সেই রক্ত সে স্রোতধারায় সিক্ত মাটিতে নির্মিত হল শহীদ মিনার। সেই শহীদ মিনারে আজ যাচ্ছে কোটি কোটি বাঙালি জনতা। বিনম্র শ্রদ্ধায় তারা স্মরণ করে মহান বীর ভাষা সৈনিক ও শহীদদের। প্রতিবছর অঙ্গীকার করে বাংলা ভাষার ব্যবহার করতে হবে সব স্তরে। কিন্তু অদ্যবধী সে অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হয়নি। বরং উল্ট পথেই হাটছি আমরা।
বাঙালির স্বাধিকার, স্বাধীনতা, সব ধরনের বৈষম্য দূর করার সংগ্রাম ও অনুপ্রেরণার উৎস। বাঙালির ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি তথা যা কিছু মহান, সব কিছুতেই একুশের ছায়াপাত। বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশের যে সংগ্রামের সূচনা সেদিন ঘটেছিল, মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় পথ বেয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মধ্য দিয়ে তা চূড়ান্ত রূপ নেয়। তাই একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির কাছে চির প্রেরণার প্রতীক।
অথচ ভাষা সংগ্রামের রক্তস্নাত সেই বিস্ফোরণ শুধু বাঙালির মায়ের ভাষাকেই শৃংখলমুক্ত করতে পারে নি। উচ্চ আদালতে উচ্চ শিক্ষায় সে অব্যবহৃত, উচ্চ প্রশাসনে উপেক্ষিত, উচ্চ শ্রেণীতে অসম্মানিত। কিন্তু প্রচলনটা ঘটছে না কেন? ঘটাই তো ছিল স্বাভাবিক।
ধন-সম্পদ, ক্ষমতা, শিক্ষা, পোশাক-পরিচ্ছদ, আহার-বিহারসহ বহু ক্ষেত্রে শাসকরা জনগণ থেকে আলাদা, আলাদা তারা ভাষাতেও। তারা ইংরেজি পছন্দ করে, কেননা এই ভাষা ব্যবহার করলে তারা যে বাংলাদেশের মানুষ হয়েও সাধারণ মানুষ নয়, সেটা প্রকাশ পায়। তাছাড়া বড় সত্য হল এটা যে, বাংলাদেশের শাসক শ্রেণী হচ্ছে বিশ্ব পুঁজিবাদের আজ্ঞাবহ, ওই পুঁজিবাদের রাষ্ট্রভাষা হচ্ছে ইংরেজি। সেটা একটা বড় কারণ; যে জন্য শাসক শ্রেণী ইংরেজির ভক্ত। বাংলা ভাষার অবস্থা ও অবস্থানই বলে দিচ্ছে স্বাধীনতা সর্বজনীন হয়নি, তার তাৎপর্য সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ লাভ করেনি।
ড আনিসুজ্জামান টাইম নিউজ বিডিকে জানান, বাংলাভাষা সর্স্তরে ব্যবহৃত হচ্ছেনা। এর জন্য সামষ্টিকভাবে দেশের মানুষ সকলেই দায়ি। কারণ সকলের মধ্যে প্রচন্ড আবেগ থাকা সত্বেও এক ধরণের দ্বিধা ও হিনমন্যতা কাজ করে। এটা দুর করা না গেলে বাংলাভাষা নিজ দেশেই পরবাসি হবে।
তিনি মনে করেন, আইন করে এ ভাষাকে সর্স্তরে প্রচলনের যে প্রচেষ্টা করা হচ্ছে তা কখনও সফল হবে না। যদি না দেশের জনগণ মন থেকে এটাকে গ্রহন করে।
বিশিষ্ট ভাষা বিজ্ঞানী সিরাজুল ইসলাম চৌধুরি মনে করেন, মুক্তির জন্য সর্বস্তরে ও ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার প্রয়োগ চাই। কিন্তু সেটা সম্ভব হবে না, যতদিন না আমাদের এই রাষ্ট্র জনগণের রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। এবং সমাজে শ্রেণীবৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে একটি সামাজিক বিপ্লব ঘটছে। বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ এবং বাংলাদেশের মানুষের ভবিষ্যৎ এক ও অবিচ্ছেদ্য বটে।
[b]ঢাকা,২১ফেব্রুয়ারি,(টাইমনিউজবিডি)//এসএইচ[/b]
৬২ বছরেও বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা পায়নি
কণ্টকাকীর্ণ পথ পেরিয়ে বাংলা বর্ণমালা আজ বিশ্ব দরবারে সমাদৃত ও স্বীকৃত। তারপরও নিজ দেশে এ ভাষা নিগৃহিত হচ্ছে। স্বাধীনতার ৪২ বছরেও দেশে সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন করতে আমরা পারিনি। এমনকি ক্রমাগত ভাবে অন্য ভাষার দিকে ঝুকে পড়ছে এ দেশের মানুষ। এ ভাষা নিজ দেশে পরবাসি হতে চলেছে
চুয়েটে তৃতীয় দিনে শাটডাউন অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি আজ তৃতীয় দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী সাকিবের জবানবন্দি জুলাই বিপ্লবে রামপুরায় ২৩ জন হত্যায় হাসিনা ও মেনন-কামরুল দায়ী
জুলাই বিপ্লবে রামপুরা ও বাড্ডা এলাকায় ২৩ জনকে হত্যার ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন দায়ী বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন এই মামলার সাক্ষী সাকিব আহম্মেদ তুলন।
এমপিওভুক্তির দাবিতে মাঠে নামছেন শিক্ষকরা
নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত করার দাবিতে রাজধানীতে অবস্থান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
শহীদ মিনারে ঝুলছিল কিশোরের মরদেহ
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় খেলার মাঠের পাশে শহীদ মিনার থেকে সিহাব (১৫) নামে এক কিশোরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
হাসিনার পতনের আগের ৭২ ঘণ্টার পরিস্থিতি কেমন ছিল
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল সে আন্দোলন যে এক দফার সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেবে সেটি ২ আগস্ট পর্যন্ত অনেকেই হয়তো চিন্তা করেননি। ৩ আগস্ট ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন একটি সমাবেশের ডাক দেয় এবং সেই সমাবেশ থেকেই শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করা হয়।
















