আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) ডিরেক্টর জেনারেল চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীর এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, শিল্পে যৌথ বিনিয়োগ এবং অবকাঠামোগত সহায়তার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বৈঠকে উল্লেখ করেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বড় সুযোগ রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংযোগ জোরদার করা গেলে দুই দেশেই শিল্পায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।
দীর্ঘমেয়াদি ভিসার প্রস্তাব
ব্যবসায়ী, চিকিৎসার প্রয়োজনে যাতায়াতকারী ও সাধারণ ভ্রমণকারীদের ভিসা জটিলতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিয়মিত যাতায়াতকারীদের জন্য বারবার নতুন ভিসার আবেদন করা বেশ কঠিন ও অবাস্তব। তাই দীর্ঘমেয়াদি ভিসা ব্যবস্থা চালু করার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
উচ্চপ্রযুক্তি ও অবকাঠামোয় দুটি যৌথ টাস্কফোর্সের প্রস্তাব
সিআইআই প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দিতে দুটি আলাদা যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে:
১. অবকাঠামো ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) টাস্কফোর্স: ভারতে পরিকাঠামো খাতে বেসরকারি খাতের বিশাল বিনিয়োগের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশেও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ টানতে এটি কাজ করবে।
২. ভবিষ্যৎমুখী উচ্চপ্রযুক্তি শিল্প টাস্কফোর্স: সেমিকন্ডাক্টর, গ্রিন হাইড্রোজেন, ব্যাটারি স্টোরেজ ও ডাটা সেন্টারের মতো আধুনিক শিল্প খাতে প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরিতে সাহায্য করবে।
স্থানীয় শিল্প পুনরুজ্জীবন ও এফএমসিজি খাতে বিনিয়োগ
বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধিরা জানান, বাংলাদেশে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ালে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং স্থলবন্দরে পণ্য খালাসের দীর্ঘ বিলম্ব (৪০-৪৫ দিন) থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। তারা ঢাকার কাছাকাছি সাবান, হোম কেয়ার ও সুগন্ধি জাতীয় ভোগ্যপণ্য (FMCG) উৎপাদনে একটি সর্বাধুনিক সমন্বিত কারখানা স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
শক্তি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ও শুল্ক কাঠামো
সিআইআই-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভারতীয় স্টিম প্রযুক্তি ব্যবহার করলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে ১০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত গ্যাস সাশ্রয় সম্ভব। তবে এ সংক্রান্ত শুল্ক বৈষম্যের কারণে প্রযুক্তিটির বিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা উল্লেখ করেন এবং শুল্ক কাঠামো সমন্বয়ের আহ্বান জানান।
এছাড়া বাংলাদেশি তরুণদের জন্য ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ প্রদান এবং প্রকৌশলীদের তৃতীয় কোনো দেশে কাজের ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া ভিসা জটিলতা দূরীকরণে সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছে সিআইআই। উভয় পক্ষই কেবল আনুষ্ঠানিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে একমত পোষণ করেন।
এমএম