এর মধ্যে সামিট এলএনজি টার্মিনাল বা এসএলএনজি থেকে ৪৬০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল বা এমএলএনজি থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হচ্ছে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) এক কর্মকর্তা শনিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে কার্গো ভেড়াতে না পারায় বুধবার বেলা ৩টার পর সামিটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে এক্সিলারেট এনার্জি।

পেট্রোবাংলার এক পরিচালক জানান, এর আগে ‘আল হামরা’ নামের এলএনজিবাহী একটি জাহাজ সামিটের টার্মিনালে ভেড়ানোর ক্ষেত্রে জাহাজটির উপযোগিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে আপত্তি ওঠে। টার্মিনাল সংশ্লিষ্ট পক্ষের আপত্তির কারণে ওই কার্গো ভেড়ানো সম্ভব হয়নি।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজির দুটি টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি এক্সিলারেট এনার্জির এবং অন্যটি সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানির। টার্মিনাল দুটির দৈনিক রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা যথাক্রমে ৬০০ ও ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে বর্তমানে দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে।

চুক্তি অনুযায়ী, এক্সিলারেট এনার্জি তাদের মালিকানাধীন মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল ১৫ বছর পরিচালনার পর এর মালিকানা পেট্রোবাংলার কাছে হস্তান্তর করবে।

সামিট এলএনজি টার্মিনালের মালিকানায় সামিট করপোরেশনের অংশীদারত্ব ৭৫ শতাংশ। বাকি ২৫ শতাংশের মালিক জাপানের মিতসুবিশি। টার্মিনালটিতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট ব্যবহার করা হয়।

সামিটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে চালুর পর ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত টার্মিনালটিতে ২৫০টি জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তর সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে গত ২১ জুলাই এমএলএনজি বা এক্সিলারেটের টার্মিনালে আগুনে বয়লার পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বৈদ্যুতিক তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুই সপ্তাহের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর টার্মিনালটির একটি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট আংশিকভাবে চালু করা হয়। তবে এখনও এটি পুরো সক্ষমতায় ফিরতে পারেনি।

এর মধ্যে সামিটের টার্মিনালও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত দুই দিনে দেশে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হয়।

বাংলাদেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। দেশীয় গ্যাস ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে স্বাভাবিক সময়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ থাকে প্রায় ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশের গ্যাস সংকট আরও বেড়েছে। ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারকে স্পট মার্কেট ও সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এলএনজি আমদানির দিকে যেতে হচ্ছে।

এনএইচ