শুক্রবার (৩১ জুলাই) শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, তিন দফা দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপ সন্তোষজনক হওয়ায় আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে দাবিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে থাকবেন শিক্ষার্থীরা। ভবিষ্যতে কোনো ধরনের গড়িমসি বা অসহযোগিতামূলক আচরণ পরিলক্ষিত হলে পুনরায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে গত ২৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আলোচনায় তিন দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক হলেও সন্তোষজনক অগ্রগতি না হওয়ায় তারা ভবনগুলোতে তালা লাগিয়ে দেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে তালা খুলে দেওয়া হয়, তবে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন চালিয়ে যান শিক্ষার্থীরা।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করছি।’
উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই রাতে বিজয় ২৪ হলের ছাত্রীদের শৌচাগার ও গোসলখানার ভেন্টিলেটর দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে ক্যানটিনকর্মী ইমাম হাসানকে আটক করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। একই ঘটনায় তার স্ত্রীও গ্রেফতার হন। এ ঘটনার বিচার দাবির সঙ্গে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্পন্দন-২৪ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন।
টানা আন্দোলনের মধ্যে প্রশাসনের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক, তদন্ত কার্যক্রম এবং সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের পর তিন দফা দাবিতে সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। এ কারণে আগামী রোববার থেকে ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে দাবিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন না হলে পুনরায় আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
এনএইচ