জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলে বেলজিয়াম সীমান্তের কাছে আইফেল অঞ্চলে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরদিন শুক্রবার (১৪ আগস্ট) আগুন ডুরেন জেলার হুর্টগেনভাল্ড পৌরসভার গেই এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে।

দাবানল নিয়ন্ত্রণে জার্মান সেনাবাহিনীর বিমান ও ট্যাংকও কাজে নামানো হয়েছে। কোলন অঞ্চলে থাকা বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, আগুন মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি জানান, শত শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখনো আকাশে ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে এবং হেলিকপ্টার থেকে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। বাতাসে ছাইয়ের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় অনেক বাসিন্দাকে মূল শহর এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন এখনো শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে রয়েছে। তবে তীব্র গরম ও বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পুড়ছে প্রায় ৩০০ হেক্টর বন

ডুরেন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দাবানলে এরই মধ্যে প্রায় ৩০০ হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে সকাল থেকেই অগ্নিনির্বাপক বিমান ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রায় ২০০ দমকলকর্মী ঘটনাস্থলে কাজ করছেন।

দমকল বাহিনীর পাশাপাশি জার্মান সেনাবাহিনী, টেকনিক্যাল রিলিফ সংস্থা ও রেড ক্রসের সদস্যরাও উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে যুক্ত হয়েছেন। আগুনের বিস্তার ঠেকাতে পুলিশ পানির কামানও ব্যবহার করছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনের সূত্রপাতের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নর্থ রাইন-ওয়েস্টফেলিয়ায় শুক্রবার তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছিল। দীর্ঘদিনের খরায় বনভূমি শুষ্ক হয়ে পড়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে শনিবার তাপমাত্রা কিছুটা কমে ২৯ থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। পাশাপাশি বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে দাবানলের তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নর্থ রাইন-ওয়েস্টফেলিয়ার আরও কয়েকটি এলাকাতেও গত কয়েকদিনে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। সুনডার্ন, মার্সবার্গ, আর্নসবের্গ ও লিন্ডলারসহ বিভিন্ন এলাকায় দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।

এনএইচ