সোমবার (১৫ জুন) মার্কিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এরই মধ্যে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট নিজে এই নথিতে স্বাক্ষর করতে চেয়েছিলেন, কারণ তিনি দেখাতে চেয়েছেন যে তিনি এই প্রক্রিয়ার প্রতি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তবে কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, এই প্রাথমিক চুক্তিতে সবচেয়ে জটিল বিষয় হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, যা এখনো চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি। বরং আগামী ৬০ দিনের আলোচনার জন্য এসব বিষয় রেখে দেওয়া হয়েছে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, চুক্তিটি মাত্র দেড় পৃষ্ঠার একটি সাধারণ কাঠামোগত নথি। চূড়ান্ত বাস্তবায়ন নিয়ে ভবিষ্যতের আলোচনাতেই অধিকাংশ বিষয় নির্ধারিত হবে।

বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এর ফলে জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেয়।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তির সবচেয়ে জরুরি অংশগুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধার করা।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ইরানের সঙ্গে এমন একটি সমঝোতা হয়েছে যাতে দীর্ঘমেয়াদে কোনো টোল ছাড়াই প্রণালিটি ব্যবহার করা যাবে। তবে এর বিস্তারিত বিষয় পরবর্তী আলোচনায় নির্ধারিত হবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বলেছেন, শুক্রবার (১৯ জুন) থেকে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে। যদিও এখনো কিছু এলাকায় মাইন অপসারণের কাজ চলছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের আশা, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে ফিরে যাবে। এরই মধ্যে নৌযান চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও তারা দাবি করেছেন।

তবে এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, চুক্তির আওতায় তারা হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে সামুদ্রিক সেবা বাবদ ফি নিতে পারবে। তবে এটি টোল হিসেবে গণ্য হবে না।

সূত্র: এএফপি

এনএইচ