এদিকে, বেলজিয়ামে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেশি, অর্থাৎ অতিরিক্ত ১ হাজার ২২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের প্রায় অর্ধেকের বয়স ছিল ৮৫ বছর বা তার বেশি।
ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, জুন মাসের শেষ সপ্তাহে দেশটির মৃত্যুহার আগের সপ্তাহের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেড়েছে। তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ার পরের সপ্তাহে এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৯৭৩ জনের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। তবে এই হিসাব এখনো প্রাথমিক এবং চূড়ান্ত নয়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২১ জুনের সপ্তাহে নিবন্ধিত ৬ হাজার ৯৪৮ জন মৃত্যুর তুলনায় পরবর্তী সপ্তাহে মৃত্যুর সংখ্যা ২৯ শতাংশ বেশি। ওই সপ্তাহ থেকেই দেশটিতে তাপপ্রবাহ শুরু হয়।
সংশ্লিষ্ট সংস্থার হিসাবে, দুই সপ্তাহের মৃত্যুর পরিসংখ্যানের মধ্যে যে ২ হাজার ২৫ জনের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে, সেটিকে এক সপ্তাহ থেকে পরের সপ্তাহে সব ধরনের কারণ ও সব বয়সী মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গত ২৪ জুন ফ্রান্সে দেশব্যাপী গড় তাপমাত্রা ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ওই দিন রাজধানী প্যারিসে তাপমাত্রা প্রায় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। একই সঙ্গে দেশের প্রায় অর্ধেক এলাকায় তাপপ্রবাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ‘লাল সতর্কতা’ জারি করা হয়।
ডাচ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নেদারল্যান্ডসেও গত সপ্তাহে তীব্র গরমের কারণে অতিরিক্ত প্রায় ৪৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্য সংস্থা শুক্রবার জানায়, ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ২৫ জন বেড়েছে, যা প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি। শুধু রাজধানী প্যারিসেই মৃত্যুহার বেড়েছে ৬২ শতাংশ।
ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে প্রকাশিত এই মৃত্যুর পরিসংখ্যান প্রকৃত সংখ্যার তুলনায় আরও কম হতে পারে।
এদিকে, তীব্র দাবদাহের সময় পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১৮ জুন থেকে এ পর্যন্ত পানিতে ডুবে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এনএইচ