মঙ্গলবার (৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে দুপুর ১২টায় বৈঠকটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ‘সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ গঠন করে জাতীয় সংসদ। সরকারি দল বিরোধী দলকে কমিটিতে পাঁচজন সদস্যের নাম দেওয়ার আহ্বান জানালেও তারা কোনো প্রতিনিধি মনোনয়ন দেয়নি। বিরোধী দলের অবস্থান হলো, তারা সংবিধানের আংশিক সংশোধনের পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ সংস্কার চায়।

১৪ জুলাই প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটির দায়িত্ব হলো সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন বিষয়ে সুপারিশ তৈরি করে জাতীয় সংসদে প্রতিবেদন জমা দেওয়া। তবে কমিটির কাজের ধরন, কার্যপ্রক্রিয়া কিংবা কত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আজকের বৈঠকেই এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গত বছরের নভেম্বরে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়। ওই আদেশের ভিত্তিতে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনের পর জামায়াতসহ কয়েকটি বিরোধী দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য এই দুই পরিচয়ে পৃথক দুটি শপথ নেন। অন্যদিকে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সংবিধানে এ ধরনের বিধান না থাকায় কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরাও শুধু সংসদ সদস্য হিসেবেই শপথ নেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধান সংস্কার কমিশনসহ মোট ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। অংশীজনের মতামত, জনমত জরিপ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের পরামর্শের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার কমিশন ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি সরকারের কাছে তাদের বিস্তারিত সুপারিশ জমা দেয়।

পরবর্তীতে ছয়টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দুই দফা আলোচনা শেষে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ চূড়ান্ত করা হয়। এতে সংবিধান সংশ্লিষ্ট মোট ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই সংসদের বিশেষ কমিটি কাজ শুরু করছে।

এনএইচ