কুরআনের বিধান বাদ দিয়ে মানুষের তৈরি মতবাদে বিগত ৫৪ বছর রাষ্ট্র পরিচালনা হলেও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্য দূর হয়নি। বরং রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে স্তরে বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু হয়েছে। শান্তির নামে অশান্তির সম্রাজ্য গড়ে উঠেছে।

যখন যারা ক্ষমতায় বসেছে তারা তাদের স্বার্থে আইন তৈরি করে দুর্নীতি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, লুটপাট, অর্থ পাচার, দখলদারিত্বের পথ তৈরি করেছে। রাষ্ট্রের নাগরিকদের সকল মৌলিক অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে দাসে পরিণত করা হয়েছে। মানুষের তৈরি আইনে আবারো যারাই সরকার গঠন করবে তারা দেশ ও জনগণের জন্য কিছুই করবে না, করতে পারবে না। অতিতের মত নিজ দল ও নিজেদের জন্যই সবকিছু করবে। স¤্রাজ্যবাদ, জাতীয়তাবাদ, পুজিবাদ নামক যত মতবাদ মানুষের তৈরি।

এসব মতবাদ আদর্শ হিসেবে গ্রহন করলে ঈমানের দাবি পূরণ হবে না। ঈমানের দাবি পূরণের জন্য ইসলামের বিধান এবং রাসূল (সা.) কে একমাত্র নেতা হিসেবে অনুসরণ করতে হবে ও মানতে হবে। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সকল ক্ষেত্রে ইসলাম বিধান মানতে হবে। অন্য কোন বিধান মানা যাবে না।

মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর সবুজবাগ-মুগদা জোনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্র ঘোষিত দাওয়াতী গণসংযোগে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন, আল্লাহর কাছে গ্রহনযোগ্য একমাত্র জীবন বিধান ইসলাম। ইসলাম ব্যতিত অন্য কোন আদর্শ আল্লাহর কাছে গ্রহনযোগ্য নয়।

তাই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে একমাত্র ইসলামকে জীবন বিধান হিসেবে গ্রহন করতে হবে এবং রাসূল (সা.) কে একমাত্র নেতা হিসেবে অনুসরণ করতে হবে। তবেই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে শান্তি, ন্যায় বিচার, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে; সকল বৈষম্য দূর হবে।

জামায়াতে ইসলামী বৈষম্যমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ কল্যাণ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন করতে চায় উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ছাত্র-জনতা যেই বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন দেখেছে।

যেই বাংলাদেশ গঠন করতে নিজের জীবন ও রক্ত বিলিয়ে দিয়েছে, জামায়াতে ইসলামী সেই বাংলাদেশ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ক্ষুধা, দারিদ্র, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। তাই ইসলামের সুমহান ছায়াতলে ধর্মবর্ণ, দলমত নির্বিশিষে দেশবাসীকে এগিয়ে আসতে তিনি আহ্বান জানান।

দ্বীনি দাওয়াতী গণসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনাকালে সবুজবাগ-মুগদা জোন পরিচালক ড. মোবারক হোসাইন সহ স্থানীয় দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্র ঘোষিত ১১-২৫ এপ্রিল দ্বীনের দাওয়াতী গণসংযোগের অংশ হিসেবে সারাদেশে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে কাজ করে যাচ্ছে।

এমএম