সোমবার (১৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী বসুন্ধরা থানা জামায়াত আয়োজিত এক কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহবান জানান।

সেলিম উদ্দিন বলেন, জামায়াত দেশকে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য দীর্ঘ পরিসরে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা সে মহতি উদ্যোগ বাস্তবায়ন এবং গণমুখী বাংলাদেশ গড়ার জন্য নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করে সেসব সফলভাবেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন,আমরা দেশকে বেকারত্ব ও দারিদ্রমুক্ত করতে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। এ জন্য আমরা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ব্যবসার সুবিধার জন্য কর্জে হাসানা, ক্ষেত্রমত অফেরৎযোগ্য আর্থিক অনুদান এবং ব্যবসায়িক উপকরণ প্রদান অব্যাহত রেখেছি। আমরা জনগণের কল্যাণের জন্য স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল সহ বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছি। একই সাথে আমরা স্বামী পরিত্যাক্তা ও বিধবাদের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। মূলত, দেশকে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে এসব আমাদের প্রাক প্রস্তুতি। তিনি ক্ষুধা, দারিদ্রমুক্ত ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান।

সেলিম উদ্দিন বলেন , ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে স্বৈরাচারি ও ফ্যাসীবাদী আওয়ামী বাকশালী সরকারের পতন হলেও দেশ এখনো পুরোপুরি মাফিয়াতন্ত্রীদের প্রভাবমুক্ত হয়নি। তারা বিভিন্ন রূপ ও বেশ ধরে নতুন আঙ্গিকে ফিরে আসার ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। কখনো আনসারের ছদ্মাবরণে, কখনো পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর খোলস পরে; আবার কখনো গার্মেন্টস শ্রমিক হয়ে অর্জিত বিজয়কে নস্যাৎ ও বিপ্লবী সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য গভীর চক্রান্তে মেতে উঠেছে। কিন্তু স্বাধীনচেতা ও আত্মসচেতন জনগণ তাদের এসব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু তারা কোনভাবেই থেমে যায়নি। তাই অর্জিত বিজয়কে অর্থবহ ও টেকসই করতে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের কোন বিকল্প নেই।

তিনি দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

থানা আমির ইঞ্জিনিয়ার আবুল বাসারের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ ইউসুফের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দিন মোল্লা ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আতিকুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এইচআর