সোমবার (১০ আগস্ট) ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এসএম ফরহাদ স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ অবস্থান জানান।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, দেশের শিক্ষা খাত এমনিতেই নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন করে অনিয়মের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তাদের মতে, মেধাভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ। অতীতে স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগে আর্থিক লেনদেন, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং জাল সনদের মতো অভিযোগ উঠেছিল।
এসব অনিয়ম কমাতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসরণ করে শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা চালু করা হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
ছাত্রশিবিরের নেতারা অবশ্য বর্তমান এনটিআরসিএ পদ্ধতিকে সম্পূর্ণ সমস্যামুক্ত বলছেন না। তাদের মতে, দূরবর্তী কর্মস্থলে পদায়ন, বদলি নীতিমালার সীমাবদ্ধতা এবং প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতাসহ বেশ কিছু কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে।
তবে এসব সমস্যা সমাধানে নিয়োগ ব্যবস্থার মূল কাঠামো পরিবর্তনের পরিবর্তে এটিকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, মেধাক্রম অনুযায়ী দ্রুত নিয়োগ, সুনির্দিষ্ট বদলি নীতিমালা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার আধুনিকায়নের মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব।
শিবিরের নেতারা বলেন, শিক্ষক নিয়োগের মূল ক্ষমতা আবার স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হলে অতীতে দেখা অনিয়মের সংস্কৃতি পুনরায় ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
তারা শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, মেধা ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে বর্তমান নিয়োগ ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এস